টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অভিযান শেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের। কিন্তু এখনই দেশে ফিরতে পারছেন না শিমরন হেটমায়াররা। কলকাতাতেই আটকে গোটা দল। অন্যদিকে বিশ্বকাপ 'বয়কট' করায় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করার টাকা পায়নি বাংলাদেশ। সেই ঘাটতি মেটানোর একমাত্র উপায় দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। পাকিস্তানেরও বিশ্বকাপ অভিযান শেষ। ১১ মার্চ থেকে বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানের তিন ওয়ানডে ম্যাচের সিরিজ হওয়ার কথা। কিন্তু পাকিস্তানের সেই সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা শুরু হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আঁচ পড়েছে খেলার মাঠেও। আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হানায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের। যুদ্ধের আগুনে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়ছেন ক্রিকেট বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ। ক্যারিবিয়ানদের শেষ ম্যাচ ছিল ইডেনে, ভারতের বিরুদ্ধে। কিন্তু বিমান পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ায় কলকাতাতেই আটকে আছেন ড্যারেন সামিরা।
অন্যদিকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তেও যুদ্ধের আবহ। সব মিলিয়ে পাকিস্তান দলের বাংলাদেশ যাওয়া নিয়ে সংশয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ৯ মার্চ পদ্মাপারে পৌঁছনোর কথা পাক-দলের। সিরিজ শেষ ১৫ মার্চ। তার কয়েকদিন পরই ইদ-উল-ফিতর। সেই সময়ের মধ্যে ঘরে ফিরতে চাইছে পাকিস্তান। এবার যদি সূচি ওলট-পালট হয়, তাহলে সেই ফেরা নিয়েও সমস্যা তৈরি হবে। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে মনে করা হচ্ছে, সিরিজ ঠিক সময়েই হবে। কোন বিমানে কীভাবে যাতায়াত করা যায়, তাই নিয়ে দুই বোর্ড কথা বলছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহে ওপার বাংলার রাজনীতিতে ব্যাপক রদবদল এসেছে। মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় শেষে নির্বাচন হয়েছে। ক্ষমতায় এসেছে তারেক রহমানের বিএনপি। পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এবার কোন দিকে যায়, সেদিকে নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল। কিন্তু বিশ্বকাপের সময় যেভাবে বাংলাদেশের 'পাশে' দাঁড়িয়েছে কিংবা জবাবে বিসিবি'ও পাকিস্তানের 'বয়কট' তুলতে এগিয়ে এসেছে, সেই 'মাখোমাখো' ব্যাপারটা কমেছে। ফলে এই ওয়ানডে সিরিজ রাজনৈতিক কারণেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
