shono
Advertisement
T20 World Cup

নিশঙ্কার দুরন্ত সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কায় ফিরল 'স্বর্ণযুগ', সুপার এইটের আশা আরও ক্ষীণ অস্ট্রেলিয়ার

দুর্দান্ত লড়াই করে সুপার এইটের টিকিট পাকা করে ফেললেন দাসুন সনাকারা।
Published By: Sulaya SinghaPosted: 10:22 PM Feb 16, 2026Updated: 11:05 PM Feb 16, 2026

অস্ট্রেলিয়া: ১৮১/১০ (হেড-৫৬, মার্শ-৫৪, হেমন্ত- ৩৭/৩)
শ্রীলঙ্কা: ১৮৪/২ (নিশঙ্কা-১০০*, মেন্ডিস-৫১, স্টয়নিস- ৪৬/২)
শ্রীলঙ্কা জয়ী ৮ উইকেটে

Advertisement

টুর্নামেন্টের শুরুর আগে থেকেই সময়টা ভালো যাচ্ছিল না টিম অস্ট্রেলিয়ার। চোটে জর্জরিত হয়ে একাধিক তারকাকে খুইয়ে চলতি বিশ্বকাপে সেভাবে ফেভারিটের তকমাও পায়নি তারা। আর টুর্নামেন্টে বল গড়ানোর পর থেকে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে ক্যাঙারু বাহিনীর। গত ম্যাচে জিম্বাবোয়ে আর এবার শ্রীলঙ্কার কাছে পরাস্ত মিচেল মার্শরা। আর তাতেই সুপার এইটে পৌঁছনোর অঙ্ক বিরাট জটিল করে ফেললেন তাঁরা। উলটোদিকে কোনও একসময়ের হেভিওয়েট শ্রীলঙ্কা ঘরের মাঠে সেই সোনালী যুগের মতোই জ্বলে উঠল। দুর্দান্ত লড়াই করে সুপার এইটের টিকিট পাকা করে ফেললেন দাসুন সনাকারা।

প্রতিপক্ষ যে-ই হোক না কেন, টিম গেম দেখাতে পারলে, যে কোনও যুদ্ধই জয় করা সম্ভব। সেটাই সোমবার পাল্লেকেলেতে বুঝিয়ে দিল লঙ্কা বাহিনী। ব্যাট-বল-ফিল্ডিং, তিন বিভাগেই দুর্দান্ত পারফর্ম করে অস্ট্রেলিয়াকে ধুয়ে দিল তারা। এদিন টসে জিতে মার্শদের প্রথমে ব্যাটিং করতে পাঠান সনাকা। মার্শ দলে ফেরায় শিবিরে ফিরেছিল আত্মবিশ্বাসও। ওপেনিং জুটি শুরুটাও করে সেভাবেই। অধিনায়ক মার্শ (৫৪) এবং ট্র্যাভিস হেডের (৫৬) হাফ সেঞ্চুরিতে কোনও উইকেট না খুইয়েই ১০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় দল। কিন্তু এরপরই অজিদের আত্মবিশ্বাসে জোর ধাক্কা দেন শ্রীলঙ্কার বোলাররা। একে একে ক্যামেরন গ্রীন, টিম ডেভিডের উইকেট তুলে বিশ্বজয়ীদের রীতিমতো চাপে ফেলে দেন দুশন হেমন্ত, চামিরারা। কঠিন সময়ে ম্যাক্সওয়েল (২২) ও জশ ইংলিশের (২৭) ইনিংসই তাও লড়াইয়ের মতো স্কোরে পৌঁছে দেয় অস্ট্রেলিয়াকে। তবে অজিদের ২০ ওভারের আগেই গুটিয়ে দিতে সফল হন বোলাররা। একাই তিনটে উইকেট তুলে নেন হেমন্ত।

গ্রুপ পর্বের পরের ম্যাচে জিম্বাবোয়ে যদি আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে দেয় তাহলেই তারা সুপার এইটে জায়গা পাকা করার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বিদায়ও নিশ্চিত করে ফেলবে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনও দলের বিরুদ্ধে ১৮১ রান তাড়া করে এর আগে জিততে পারেনি শ্রীলঙ্কা। কিন্তু ২২ গজে তো সবই সম্ভব। সেই ইতিহাস বদলে নতুন কাহিনিই রচনা করলেন নিশঙ্কারা। বড় রানের চাপ মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দুরন্ত সেঞ্চুরিতে দলের জয় নিশ্চিত করলেন তারকা ওপেনার। প্রথমবার কুড়ি-বিশের বিশ্বকাপে অজিদের বিরুদ্ধে এহেন শতরানের (অপরাজিত) তৃপ্তি যে কতখানি আলাদা, তা আজ নিঃসন্দেহে উপভোগ করবেন নিশঙ্কা। এই জয়ে কুশল মেন্ডিসের হাফ সেঞ্চুরিও ভুললে চলবে না। সব মিলিয়ে তিন বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জয়ের স্বাদ পেয়ে আনন্দের সপ্তম শিখরে শ্রীলঙ্কা।

এবার আশা যাক সুপার এইটের অঙ্কে। ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতোই সুপার এইটে ঢুকে পড়ল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু চাপ বাড়ল ম্যাক্সিদের। গ্রুপ পর্বের পরের ম্যাচে জিম্বাবোয়ে যদি আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে দেয় তাহলেই তারা সুপার এইটে জায়গা পাকা করার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বিদায়ও নিশ্চিত করে ফেলবে। অর্থাৎ সেক্ষেত্রে অজিদের শেষ ম্যাচ নেহাতই নিয়মরক্ষার ম্যাচে পরিণত হবে। তেমনটা হলে ২০০৯ টি-২০ বিশ্বকাপের পর আবারও গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাবেন মার্শরা। তাই শ্রীলঙ্কা যে টুর্নামেন্ট আরও জমিয়ে দিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement