অস্বীকারের উপায় নেই। দেখতে গেলে তাই। রবিবাসরীয় আহমেদাবাদে যে খেলাটা অনুষ্ঠিত হবে, তা যে আদতে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের রিপিট টেলিকাস্ট। ইন্ডিয়া ভার্সাস সাউথ আফ্রিকা। কে ভুলতে পেরেছে, ২০২৪ কাপ ফাইনালের মহানাটকীয় শেষ পাঁচ ওভার, সূর্যকুমারের (Suryakumar Yadav) দুর্ধর্ষ কাচ, হার্দিক পাণ্ডিয়ার অন্তিম ওভারের অতিমানবীয় বোলিং, মহানায়ক থেকে মাত্র গোটা গোটা কতক বলে হেনরিক ক্লাসেনের ট্র্যাজিক নায়ক বনে যাওয়া...। আহমেদাবাদে সুপার এইটের লড়াইয়ের আগে এসব ঘটনাই ফিরে ফিরে আসছে। তবে এত সবের পরেও চিন্তা কমছে না ভারতীয় শিবিরে। দুর্বল ফিল্ডিং। ক্যাচ মিসের বহর। অভিষেক শর্মার (Abhishek Sharma) ফর্ম। কত কী না রয়েছে চিন্তা-তালিকায়। যদিও ভারত অধিনায়কের কথায় সেসব চিন্তার বালাই নেই। তিনি পুরোদস্তুর পাশে আছেন বাঁহাতি ওপেনারের।
সুপার এইটের ম্যাচের আগে সূর্যকুমার যাদব সটান বলে দিলেন, "আমাদের কোনও চিন্তা নেই, উদ্বেগও নেই। অভিষেক শর্মা কি ফর্ম কি জো চিন্তা কর রহে হ্যায়, উনকি চিন্তা ম্যায় কর রাহা হু।" (যাঁরা অভিষেক শর্মার ফর্ম নিয়ে ভাবছেন, আমি তাঁদের কথা ভাবছি।) তিনি আরও বলেন, "এটা তো দলগত খেলা। ও গত বছর আমাদের টেনেছে। এবার নাহয় আমরা ওকে টানব।" পেস হোক কিংবা স্পিন, এই বিশ্বকাপে বারবার সমস্যায় পড়েছেন অভিষেক। পাকিস্তান এবং নেদারল্যান্ডস ম্যাচে স্পিনে পরাস্ত হয়েছেন। আমেরিকার বিরুদ্ধে আবার পেসারের বলে বোল্ড হন। তবে দল যে অভিষেকের ফর্ম নিয়ে চিন্তায় নেই, সে কথা স্পষ্ট টিম ইন্ডিয়ার ক্যাপ্টেনের কথায়।
ভারত অধিনায়কের কথায়, "এটা তো দলগত খেলা। ও গত বছর আমাদের টেনেছে। এবার নাহয় আমরা ওকে টানব।"
কিন্তু পরিসংখ্যান তো লুকিয়ে থাকবে না। শেষ আট ইনিংসে পাঁচবার শূন্যে ফিরেছেন অভিষেক। ৮৪, ০, ৬৮*, ০, ৩০, ০, ০, ০। এই হল শেষ আটটি টি-টোয়েন্টিতে তাঁর স্কোর। সুপার এইটে নামার আগে তাঁর আত্মবিশ্বাস যে অনেকটাই তলানিতে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। তবে এ হেন পরিস্থিতির নাগপাশে পড়ে কারও খেয়ালই নেই যে, অভিশপ্ত বিশ্বকাপ ফাইনালের মাঠে (২০২৩) আরও এক বিশ্বকাপ ফাইনালের 'চ্যাপ্টার টু' আয়েজিত হচ্ছে। দোষ যদিও দেওয়া যায় না পুরোপুরি। ভারতীয় দলকে নিয়ে 'বিশ্বকাপেই তিনশো পার' জাতীয় যে আগাম হাঁকডাক চালাছিল সম্প্রচারকারী সংস্থা, তার কিস্যু এখনও ঘটেনি। এ পর্যন্ত বিশ্বকাপে ভারতের সর্বোচ্চ রান নামিবিয়ার বিরুদ্ধে। ২০৯। যা আহামরি রানই নয়। এখন কুড়ি ওভারে দু'শো সত্তরের যুগ। নেপথ্যে দু'টো কারণ। আর দু'খানাই বেশ ভজঘট অবস্থায় দাঁড়িয়ে।
এক, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পিচ বড়ই বেয়ারা আচরণ করছে। স্পিনাররা দেদার ফায়দা তুলছেন। আরিয়ান দত্তর মতো অজ্ঞাতকুলশীল স্পিনারও আহমেদাবাদের কাদো মাটির দিচে ভারতীয় ব্যাটারদের ঝঞ্ঝাটে ফেলছেন। বল ঘুরেছে। রোববারও কালো মাটির পিচে খেলা। পার্শ্ববর্তী লাল মাটির নয়। "পিচ বেশ জটিল। তবে সুপার এইটে ভিন্ন কিছু আশা করছি। যে কোনও মাঠের সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রস্তুত। মনে রাখতে হবে এই পিচে ১৯০ থেকে ২০০ রান উঠছে। তবে আমরা শুরু থেকেই আগ্রাসী খেলার চেষ্টা করছি। তবে কেবল মেরে খেললেই হবে না। আমাদের স্মার্ট ক্রিকেট খেলতে হবে।" বলছেন সূর্য। আরও একটা বিষয়, ব্যাটিং লাইন আপে বাঁহাতি ব্যাটারদের আধিক্য। বিপক্ষ দল এর সুযোগে ফিঙ্গার স্পিনারদের ব্যবহার করছে। যা সামাল দেওয়াও ভারতের কাছে চ্যালেঞ্জ। স্কাই জানালেন, "অফস্পিনারের সামনে একটু সমস্যা রয়েছে। তবে আশা করছি তা ঠিক হয়ে যাবে। আমাদের নিজস্ব কিছু চিন্তাভাবনাও রয়েছে।"
