বড়সড় স্বস্তি বিসিসিআইয়ের। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ডকে 'রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্ট' বা 'আরটিআই'য়ের বাইরেই রাখল কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন। কারণ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কোনও সরকারি সংস্থা নয়। তথ্য কমিশনার পিআর রমেশ জানিয়েছেন, বিসিসিআই আরটিআইয়ের বাধ্যতামূলক তথ্য প্রকাশের আওতায় আসে না। যার ফলে ২০১৮ সাল থেকে শুরু হওয়া আইনি বিবাদের সমাধান মিলল। যদিও এর আগে ক্রীড়া আইনে বিসিসিআই'কে আরটিআইয়ের বাইরে রাখা হয়েছিল।
২০১৮ সালে তৎকালীন তথ্য কমিশনার এম. শ্রীধর আচার্যুলু ঘোষণা করেছিলেন, বিসিসিআই ২০০৫ সালের আরটিআই আইনের সেকশন ২ (এইচ) আওতায় পড়ে। এবং বোর্ডকে একজন তথ্যসম্প্রচার আধিকারিক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার পালটা মাদ্রাস হাই কোর্টে আবেদন করে বিসিসিআই। যা সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনের কাছে পাঠানো হয়, নতুন করে বিচারের জন্য। নতুন রায় অনুযায়ী বিসিসিআইয়ের কার্যপ্রণালি সেকশন ২ (এইচ) আওতায় পড়ে না। আরও বলা হয়েছে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সংবিধানের দ্বারা বা সংসদ কর্তৃক তৈরি কোনও আইনের দ্বারা তৈরি হয়নি।
আসলে বিসিসিআই স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা। নিজস্ব আর্থিক ব্যবস্থাপনা রয়েছে। সরকারের সাহায্য নেয় না। কেন্দ্রীয় সরকার সরাসরি বিসিসিআইয়ের আভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে না। ভবিষ্যতে কি বোর্ডকে সরকারের আওতায় হবে? কমিশনার রমেশের পর্যবেক্ষণ, "সরকারি নিয়ন্ত্রণ বা একটা মডেল চাপিয়ে দিলে এর কার্যাবলিতে অযথা হস্তক্ষেপ করা হবে। তাতে এদের আর্থিক কাঠামোর যে ভারসাম্য আছে, তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।"
উল্লেখ্য, গত বছর ভারতে ক্রীড়া আইন লাঘু হয়েছে। ভারত সরকার থেকে যে সমস্ত সংস্থা অনুদান বা আর্থিক সাহায্য নেবে, তারাই শুধুমাত্র ‘রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্ট’ বা আরটিআই-এর আওতায় আসবে। কিন্তু যে সমস্ত সংস্থা ভারত সরকারের অনুদান নেবে না, তাদের আরটিআই-এর আওতায় পড়ার ব্যাপারও নেই। বিসিসিআই সরকারের থেকে টাকা নেয় না। তাই আরটিআইয়ের আওতায় পড়বে না।
