ভারতের (India team) টি-টোয়েন্টি টিমে এমনিই তিনি জায়গা পান না। সে ভাবে জায়গা পান না ওয়ানডে টিমেও। খেলেন শুধু টেস্ট। লাল বলের ক্রিকেটে সহ-অধিনায়কত্বও করতেন। কিন্তু ঋষভ পন্থের এবার টেস্ট সহ অধিনায়কত্বও যেতে বসেছে! আগামী মঙ্গলবার গুয়াহাটিতে আফগানিস্তান সিরিজের দল নির্বাচনী সভা বসছে। আর প্রাক্ নির্বাচনী বৈঠক থেকে যা ইঙ্গিত প্রভৃতি পাওয়া যাচ্ছে, তাতে টেস্ট টিম থেকে জায়গা না হারালেও সহ-অধিনায়কত্ব হারাচ্ছেন পন্থ।
জাতীয় নির্বাচকরা মনে করছেন, নেতৃত্ব বিষয়টার সঙ্গে সহজাত নন পন্থ। যার গনগনে উদাহরণ আইপিএলে তাঁর নেতৃত্বে লখনউ সুপার জায়ান্টসের ধারাবাহিক ব্যর্থতা। একইসঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে গুয়াহাটিতে গত নভেম্বর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্টের কথাও। সেই টেস্টে ভারতের টেস্ট অধিনায়ক শুভমান গিল খেলতে পারেননি। পন্থ নেতৃত্ব দেন। এবং টিম কদর্য ভাবে হারে। ভারতীয় বোর্ডের ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত হল, পন্থের যা ব্যাটিং প্রতিভা, যে ভাবে দেশ-বিদেশের মাটিতে তিনি ভারতকে একার হাতে টেস্ট জিতিয়েছেন, তা কোনও অবস্থায়, কোনও শর্তেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। কিন্তু সহ-অধিনায়কত্ব বা সময় বিশেষে অধিনায়কত্বের চাপ নিতে গিয়ে, তার বিরূপ প্রভাব পড়ছে পন্থের ব্যাটিংয়ে। যাতে টিমের ক্ষতি হচ্ছে। তার চেয়ে যদি ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটারকে শর্তবিহীন ভাবে খেলতে দেওয়া যায়, খোলা মনে তিনি যদি শুধু নিজের ক্রিকেট নিয়ে ভাবতে পারেন, তা হলে টিমের অনেক বেশি লাভ। ঠিক সেই কারণেই আফগানিস্তান সিরিজে তাঁকে সহ-অধিনায়কত্বের দায়ভার থেকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে বলে খবর।
পন্থ ছাড়াও আফগানিস্তান সিরিজের দল নির্বাচনে আরও দু'টো বিষয় রয়েছে। প্রথমত, এই সিরিজে বোলার জশপ্রীত বুমরাহকে নিয়ে কী করা হবে? দ্বিতীয়ত, টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বজয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের ভূমিকাও বা কী?
মনে করা হচ্ছে, জাতীয় কোচ গৌতম গম্ভীরের মতামত বড় ভূমিকা নেবে সূর্যর ভাগ্যনির্ধারণে। অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে সূর্যর পক্ষে দলে জায়গা ধরে রাখা কঠিন।
বুমরাহয় আসা যাক। চলতি আইপিএল একেবারেই ভালো যায়নি বুমরাহর। তাঁর খেলায় ক্লান্তির ছাপও খুঁজে পেয়েছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একটা টেস্ট এবং তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ রয়েছে। বোর্ডের মেডিক্যাল টিম অনুমতি দিলে বুমরাহ টেস্ট ম্যাচটা খেলতেও পারেন। কিন্তু ওয়ানডে সিরিজ কোনও অবস্থাতেই খেলছেন না তিনি। আর ফিটনেস নিয়ে সামান্যতম সন্দেহ থাকলে, তাঁকে গোটা সিরিজেই রাখা হবে না।
সূর্যকুমার-তাঁর বিষয়টা বড়ই জটিল। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি না থাকায় সূর্যকে নিয়ে নির্বাচনী বৈঠকে সরকারি আলোচনার জায়গা নেই। তবে বোর্ড সচিব দেবজিৎ সইকিয়া বেসরকারি আলোচনা করতে পারেন নির্বাচকদের সঙ্গে। মনে করা হচ্ছে, জাতীয় কোচ গৌতম গম্ভীরের মতামত বড় ভূমিকা নেবে সূর্যর ভাগ্যনির্ধারণে। অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে সূর্যর পক্ষে দলে জায়গা ধরে রাখা কঠিন। মধ্যম পন্থা হল, সূর্যকে আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আগামী সিরিজে একটা শেষ সুযোগ দেওয়া। দেখা, তিনি কী করতে পারেন না পারেন। কিন্তু সেই সুযোগ পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
