একদিকে ইমরান খানের (Imran Khan) ছেলেদের সাক্ষাৎকার। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ বয়কটের হুমকির খবর। অথচ দলের হেডকোচ বা ক্রিকেটারদের নাকি কিছুই জানানো হয়নি! ইমরান খানের দুই ছেলে সুলেমান ও কাশেমের সাক্ষাৎকার সম্প্রচারে আপত্তি জানিয়েছিল পিসিবি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয়, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লর্ডস টেস্টের মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর ম্যাচ বয়কটের ডাক দেন বাবর আজমরা। এবার সাংবাদিক সম্মেলনেও এই প্রসঙ্গ এড়ানো গেল না। যা শুনে ভিরমি খেলেন পাকিস্তান কোচ।
ঠিক কী ঘটেছিল? লর্ডস টেস্টে স্পোর্টস সাক্ষাৎকারে ডাকে ইমরানের দুই পুত্র সুলেমান এবং কাশিম খানকে। সাক্ষাৎকার নেন ইংল্যান্ড কিংবদন্তি ক্রিকেটার মাইকেল আথারটন। দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় তিন বছর জেলে বন্দি প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু পাক বোর্ড হুমকি দেয় সাক্ষাৎকার যদি ম্যাচের মধ্যে সম্প্রচারিত হয়, তাহলে টেস্ট বয়কট করবেন বাবররা। শেষে অবশ্য পাকিস্তান মাঠে নামে। এদিকে ইংল্যান্ডের মাটিতে তিন টেস্টের সিরিজে ইতিমধ্যেই দু'বার কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন পাকিস্তানের হেডকোচ সারফরাজ আহমেদ। প্রথমে লিডসের হেডিংলেতে প্রথম টেস্টে বাবর আজমের না খেলার খবর জানাতে হয়েছিল তাঁকে। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে পাকিস্তান মাত্র ১১০ রানে গুটিয়ে যায়। ২৬১ রানে এগিয়ে ইংল্যান্ড। সেই সময় সাংবাদিকদের একের পর এক কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি।
পাকিস্তানের ব্যাটিং ব্যর্থতা, ইংল্যান্ডের দুর্দান্ত বোলিং কিংবা তরুণ আজান আওয়েসের একা কুম্ভ হয়ে লড়াই– সমস্ত কিছু নিয়েই প্রশ্নপর্ব চলছিল। ঠিক তখনই এক ইংরেজ সাংবাদিক সরাসরি ইমরান খানের ছেলেদের সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ তোলেন। সরফরাজের জবাব ছিল, "আমি কিছুই জানি না। আপনি সাক্ষাৎকারের কথা বলছেন? আমরা ওই সাক্ষাৎকার সম্পর্কে কিছুই জানি না। আমি শুধু ম্যাচের দিকে মন দিচ্ছি।" এমনকী লর্ডস টেস্টে মাঠে না নামার কোনও আলোচনা দলের মধ্যে হয়েছিল কি না, জানতে চাওয়া হলে সরফরাজের উত্তর, "সবাই ঠিক আছে। তখন আমরা লাঞ্চ করছিলাম।"
বিশ্বকাপজয়ী প্রাক্তন পাকিস্তান অধিনায়ক ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাবন্দি। লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনের লাঞ্চের সময় তাঁর দুই ছেলের সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করে স্কাই স্পোর্টস। একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারিত হলে লর্ডস টেস্ট এবং ইংল্যান্ড সফরের বাকি ম্যাচ বাতিল করার হুমকি দিয়েছিল পিসিবি। শেষ পর্যন্ত সাক্ষাৎকার সম্প্রচারিত হয় এবং লাঞ্চের বিরতির পর পাকিস্তান দল নিয়মমাফিক মাঠেও নামে। এই ঘটনায় সম্প্রচারের আগে স্কাইয়ের কাছে অভিযোগও পৌঁছেছিল বলে খবর। পরিস্থিতি নিয়ে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডও সরকারের পরামর্শ চেয়েছিল। শুক্রবার সাক্ষাৎকার নিয়ে আর কোনও অভিযোগ পায়নি স্কাই। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে ওভালে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান টেস্ট বল টেম্পারিং বিতর্কে পরিত্যক্ত হয়েছিল। চা বিরতির পর খেলতে রাজি হয়নি পাকিস্তান। এটাই টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে একমাত্র ফরফিটেড ম্যাচ।
