আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে অনিশ্চয়তা। এর নেপথ্যে বিরাট কোহলির দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। আগামী আইপিএল কোন স্টেডিয়ামে খেলতে চায় আরসিবি, তা এখনও ঠিক হয়নি। এবং এই বিতর্কের জেরেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিল। তবে ম্যানেজমেন্ট 'প্ল্যান বি'-ও তৈরি রাখছে।
গত বছর বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকেই বিপাকে চিন্নাস্বামী। দলের সেলিব্রেশনের সময় স্টেডিয়ামের বাইরে পদপিষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়। মর্মান্তিক ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে কর্নাটক হাই কোর্ট। তারপর থেকেই ঘটনার দায় ঠেলাঠেলি শুরু হয় কর্নাটক সরকার এবং কর্নাটক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে। যার জেরে এই মরশুমে আরসিবি আদৌ চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে খেলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। প্রশ্ন হল, কেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারছে না গভর্নিং কাউন্সিল? আইপিএলের নিয়ম হল, নয়া মরশুমের প্রথম এবং শেষ ম্যাচ ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নের ঘরের মাঠেই অনুষ্ঠিত হয়। তবে আইন সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে।
আরও একটা প্রশ্ন, আরসিবি যদি কোনও কারণে চেন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে খেলতে না পারে, সেক্ষেত্রে কোথায় হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান? এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এক্ষেত্রে দু'টি প্রস্তাব উঠে এসেছে। প্রথমত, বিরাটদের দল যদি ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে খেলে, তাহলে সেখানেই উদ্বোধনী আয়োজন করা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, গত বার রানার্স হয়েছিল পাঞ্জাব কিংস। তাই শ্রেয়সদের ঘরের মাঠ মুলানপুরেও এই অনুষ্ঠান হতে পারে।
চিন্নাস্বামী নাকি অন্য কোনও স্টেডিয়ামে আরসিবি খেলবে কি না, তা আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে বিসিসিআইকে সরকারিভাবে জানাতে হবে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। বোর্ডের তরফে একপ্রকার ডেডলাইন দিয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দিন কয়েক আগে চিন্নাস্বামীতে ফের ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে কর্নাটক সরকার। কর্নাটক ক্রিকেট সংস্থাও আইপিএলের ম্যাচ চিন্নাস্বামীতে করাতে চায়। শোনা যাচ্ছে, আরসিবিও চিন্নাস্বামীতেই খেলতে চায়। কিন্তু সরকার একাধিক বিধিনিষেধ চাপানোয় তাঁরা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। শোনা যাচ্ছে, সরকার বলেছে চিন্নাস্বামীতে খেলতে হলে শুধু যে দর্শকদের দায়িত্ব নিতে হবে তাই নয়, একই সঙ্গে দায়িত্ব নিতে হবে আশপাশের রাস্তার ট্রাফিক সামলানোরও। আরসিবি মনে করছে, সরকার নিজেদের দায়িত্বও তাদের উপর চাপানোর চেষ্টা করছে। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেয়নি তারা। এখন দেখার, পরিস্থিতি কোন দিকে যায়।
