আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড মিলিয়ে তিন ম্যাচে ১৫ বছরের বিস্ময় কিশোরকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। অবশেষে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতের জার্সিতে অভিষেক হয়েছে বৈভবের। এরপর সোশাল মিডিয়ায় তার প্রথম পোস্ট ভাইরাল। ম্যাঞ্চেস্টারে সবচেয়ে কম বয়সে ভারতীয় হিসাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর কী বলেছে বাঁহাতি তারকা?
শনিবার ওল্ড ট্রাফোর্ডে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। ওপেনিং জুটিতে অভিষেক শর্মার সঙ্গে নামে বৈভব। পাওয়ার প্লেতে ভারত দ্রুত রান তুললেও উইল জ্যাকসের বলে ১০ বলে ১৪ রান করে স্টাম্প আউট হয়ে সাজঘরে ফেরে ১৫ বছরের তারকা। যদিও জফ্রা আর্চার ও জশ টাংকে বিরাট ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছে সে। বৈভব আউট হলেও অন্য প্রান্তে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ২৪ বলে ৪৩ রান করেন অভিষেক শর্মা। তাঁর ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ১টি ছক্কা। তবে অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষানের লড়াকু ইনিংসে ভারত তুলল ১৯০ রান। জবাবে প্রথম ওভারে জোড়া উইকেট খোয়ালেও জ্যাকব বেথেলের দুরন্ত ইনিংসের সৌজন্যে শেষ হাসি হাসে ইংল্যান্ড।
ম্যাচের পর নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ভারতের জার্সি পরা একটি ছবি পোস্ট করে আবেগঘন বার্তা দিয়েছে বৈভব। ১৫ বছরের তারকা লিখেছে, 'এত মানুষের শুভেচ্ছা বার্তায় আমি অভিভূত। আমার সমস্ত শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সিনিয়রদের ভালোবাসায় আমি আপ্লুত। এমন সমর্থনের জন্য সকলকে ধন্যবাদ। দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। যখনই দলের হয়ে মাঠে নামার সুযোগ পাব, প্রতিবারই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। সব কিছুর জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।' উল্লেখ্য, ম্যাচের আগে বৈভবকে ভারতীয় দলের টুপি তুলে দেন তিলক বর্মা। ভারতের ১২২তম টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার হিসাবে অভিষেক হয়েছে বৈভবের। এর ফলে শচীন তেণ্ডুলকর এবং শেফালি বর্মাকে পিছনে ফেলে দেশের সবচেয়ে কনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসাবে নজির গড়েছে।
তাছাড়াও ম্যাঞ্চেস্টারে ম্যাচের পর বিসিসিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বৈভব বলেছে, "খুবই ভালো লাগছে। সবার কাছেই বড় ব্যাপার। প্রত্যেক ক্রিকেটারই চায় দেশের হয়ে খেলতে। দেশকে গর্বিত করতে। অভিষেকের খবরটা সবার আগে বাবাকে দিয়েছিলাম। আমরা একই ঘরে আছি। তবে এই খবরটা আর কাউকে বলিনি। মাকেও নয়। আমার কোচ রোমি স্যরকেও না। দেশের হয়ে খেলতে পারি শুনে বাবা খুব খুশি হয়েছিলেন। বলেছিলেন, 'এভাবে খেলে যা। চাপ নিস না।' নিজের ব্যাটিংয়ে বিশ্বাস রাখারও পরামর্শ দিয়েছিল বাবা।"
