বাংলাদেশের নাটক যেন কিছুতেই শেষ হচ্ছে না। বৃহস্পতিবারই বাংলাদেশের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তারা ভারতে কোনওভাবেই বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না। তারপর একটা ব্যপার পরিষ্কার হয়ে যায়, ভারতের মাটিতে এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলা হচ্ছে না! কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তরফ থেকে আবার চিঠি দেওয়া হয় আইসিসিকে। বিসিবির তরফ বলা হয়েছে, তাদের আর্জি যেন নিরপেক্ষ কমিটিতে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানেও বিসিবি'র আর্জি মানার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
ডিসপ্যুট রিসলিউশন কমিটি বা ডিআরসি'র কাছে বিসিবি'র আবেদন, বাংলাদেশের আর্জি যুক্তিযুক্ত কি না বিচার করা! আইসিসি পরিচালিত কোনও বিষয় নিয়ে বিতর্ক হলে তা অনেক সময় নিরপেক্ষ বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটিতে পাঠানো হয়। স্বাধীন আইনজীবীদের নিয়ে গঠিত হয়েছে এই কমিটি। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের দাবি, ই-মেল মারফত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বাংলাদেশ আইসিসির কাছে এই বার্তা পাঠিয়ে দিয়েছে। একইসঙ্গে বিসিবি নাকি এটাও বলেছে, ওই কমিটি যা সিদ্ধান্ত নেব, সেটা তারা মেনে নেবে।
কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই অনুরোধ আইসিসি কতটা মানবে, সেটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কারণ বাংলাদেশ নিয়ে আইসিসি আগেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। ষোলো পূর্ণ সদস্যদের মধ্যে ভোটাভুটি হয়। যার ফল ছিল ১৪-২। অর্থাৎ বাংলাদেশের পক্ষে কোনও ভোটই পড়েনি। দুটো ভোটের একটা ছিল বাংলাদেশের। আর একটা পাকিস্তান বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। যার পরই পরিষ্কার হয়ে যায়, বাংলাদেশের দাবি কোনওভাবেই মানা সম্ভব নয়।
ডিআরসি'র নিয়মাবলির ১.৩ ধারায় বলা হয়েছে, "আইসিসি'র সিদ্ধান্ত বা গ্লোবাল বডির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এই কমিটি কাজ করে না। আইসিসি'র কোনও সিদ্ধান্ত বা নিয়মাবলির বিরুদ্ধে আপিল কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় না।" অন্যদিকে আইসিসি বোর্ডের এক সূত্র জানিয়েছেন, "বাংলাদেশ ডিআরসি'র কাছে আবেদন করতেই পারে। কিন্তু নিয়ম দেখলেই বোঝা যাবে, আইসিসি'র ডিরেক্টর বোর্ডের কোনও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিটি কাজ করে না।" তাহলে কি নিয়মাবলি না জেনেই পদক্ষেপ নিচ্ছে বিসিবি? নাকি পুরোটাই জনপ্রিয়তার লোভে চমক!
