বেজিং বারংবার তার প্রত্যুত্তরে নিজেদের ধারণা অনুযায়ী মানচিত্র প্রকাশে তৎপর। সে-দেশের প্রধান দৈনিক 'গ্লোবাল টাইমস' স্বীকার করেছে সে কথা। তবে পুরোটাই যে নিরর্থক, ২০২৪ সালে তা মনে করিয়ে দিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শংকর বলেছিলেন, 'তোমার বাড়ির নাম আমি পাল্টে দিলেই কি সেটা আমার বাড়ি হয়ে যায়?' লিখছেন নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায়
'ঝাংনান'। আমাদের অরুণাচল প্রদেশের এই নাম রেখেছে চিন। 'ঝাং' মানে তিব্বত, আর 'নান' মানে দক্ষিণ। ওই রাজ্য তাদের মতে, 'দক্ষিণ তিব্বত'। কবে থেকেই তো চিনের কাছে 'তিব্বত' হচ্ছে হাতের তালু, আর পাঁচটি আঙুল যথাক্রমে অরুণাচল, ভুটান, সিকিম, নেপাল, লাদাখ। তা হঠাৎ করে এই কথাগুলি আবার কেন উঠছে?
অতি সম্প্রতি, 'সার্ভে অফ ইন্ডিয়া' একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। ১৯৬২
২০১৭ সাল থেকে চিনের এই বাড়াবাড়ি লক্ষ করা যাচ্ছে। ৬টি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এভাবে ১১২টি জায়গার নাম পাল্টানো হয়েছে অরুণাচলে, সে-দেশের কাগজের খবর। আমাদের দেশের কোনও সরকারি প্রতিনিধি যখনই সে-রাজ্যের কোথাও পরিদর্শনে কি কোনও কাজে যান, চিন তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
সালের পর থেকে যেসব এলাকার গিরিপথ, ভূমি, জলাশয় চিন অন্যায়ভাবে দখল করে রেখেছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করা প্রধান উদ্দেশ্য, সমস্ত পৃথিবী যাতে সচেতন হয় আমাদের অধিকার সম্পর্কে। বেজিং বারংবার তার প্রত্যুত্তরে নিজেদের ধারণা অনুযায়ী মানচিত্র প্রকাশে তৎপর। সে-দেশের প্রধান দৈনিক 'গ্লোবাল টাইমস' স্বীকার করেছে সে কথা। তবে পুরোটাই যে নিরর্থক, ২০২৪ সালে তা মনে করিয়ে দিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শংকর বলেছিলেন, 'তোমার বাড়ির নাম আমি পাল্টে দিলেই কি সেটা আমার বাড়ি হয়ে যায়?'
আসন্ন 'ব্রিকস' সম্মেলনে, নয়াদিল্লিতে জি জিংপিংয়ের আগমন সম্ভাবনা। ভারতের 'উদ্ধত' আচরণের প্রেক্ষিতে সফর বাতিল করলে, বিশ্বের সামনে সুবর্ণ সুযোগ হারাবেন একটি সম্ভাবনা প্রদর্শনের যে, চিন-রাশিয়া ও ভারত সমৃদ্ধ বন্ধুতায় পাশাপাশি রয়েছে।
যদিও ২০১৭ সাল থেকে চিনের এই বাড়াবাড়ি লক্ষ করা যাচ্ছে। ৬টি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এভাবে ১১২টি জায়গার নাম পাল্টানো হয়েছে অরুণাচলে, সে-দেশের কাগজের খবর। আমাদের দেশের কোনও সরকারি প্রতিনিধি যখনই সে-রাজ্যের কোথাও পরিদর্শনে কি কোনও কাজে যান, চিন তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ভারত, যথারীতি, পাত্তা দেয় না। তিব্বতি নামের উৎসে কোনও ইতিহাস নেই। আবার, তিব্বত রাজ্যটাও তো চিন অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। সে বিষয়ে নানা কথা বলা চলে, তবে চিনের দৈনিকের বক্তব্য, ভারতের দ্বারা এমন নামকরণ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্তরায়। রাজনৈতিক মহলেও অভিমত, ভারতের এমন 'কঠিন' মনোভাব শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে ক্ষতিকর।
গত জুন মাসে হাওয়া বেশ গরম হয়ে উঠেছিল। নিজেদের মনগড়া মানচিত্র মেনে চিন আক্রমণ শানাচ্ছে, গুজব রটেছিল। অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ় অবস্থানে থেকে জানিয়েছেন, ওসব নিতান্তই গুজব। এদিকে, আমাদের দেশের বিরোধী পক্ষ কি সংসদে সরকারকে কোণঠাসা করার এমন সুযোগ ছাড়ে? টাকসিং এলাকায় চিন আক্রমণ করেছে জুলাই মাসে, এমন কথাও গুজব, জানা গিয়েছে। সংসদের অধিবেশন যখন চলে, তখনই বিপরীত অবস্থান নেওয়া বিরোধীপক্ষের চিরন্তন অভ্যাস।
নয়াদিল্লিতে ৬ আগস্ট 'WMCC'-এর (Working Mechanism for Consultation and Coordination) ৩৬তম অধিবেশন সমাপ্ত হল, আর 'সার্ভে অফ ইন্ডিয়া'-র মানচিত্র প্রকাশ পেল ৭আগস্ট। চিনা প্রতিনিধি দল দৃশ্যতই অখুশি, সরকারিভাবে তারা প্রতিবাদ জানাতে পারছে না বলে। আগে জানতে পারলে হয়তো অধিবেশনটাই বাতিল হত!
এদিকে, আসন্ন 'ব্রিকস' সম্মেলনে, নয়াদিল্লিতে জি জিংপিংয়ের আগমন সম্ভাবনা। ভারতের 'উদ্ধত' আচরণের প্রেক্ষিতে সফর বাতিল করলে, বিশ্বের সামনে সুবর্ণ সুযোগ হারাবেন একটি সম্ভাবনা প্রদর্শনের যে, চিন-রাশিয়া ও ভারত সমৃদ্ধ বন্ধুতায় পাশাপাশি রয়েছে। রাশিয়ার তেল, চিন ও ভারত, উভয়েই আমদানি করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বর্ধিত মাশুলের ভয় দেখিয়ে রেখেছেন, সেও সত্যি।
এহেন উভয়সংকটে, চিনাপ্রধান এসব মানচিত্রের লড়াই সম্পর্কে উদাসীন থেকে বুঝিয়ে দিতে পারেন- সবই ছায়ার সঙ্গে লড়াই। এলাকা দখলে রাখার বড়াই আসলে মিছিমিছি। সত্যি সত্যি যদি যুদ্ধ বাধে, তবে মনে রাখতে হবে, চিন অস্ত্রবলে আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে। তারই জন্য যখন তখন এমন আস্ফালন। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। এবং স্বদেশি নাম ফিরিয়ে দেওয়ার পর্ব শুধু অরুণাচল প্রদেশে নয়, উত্তরাখণ্ড এবং হিমাচল প্রদেশেও দরকার। কিছু কিছু জায়গায় চিন নাক গলিয়েছে বলে শোনা যায়। বিশেষত, উত্তরাখণ্ড খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মানস সরোবর তীর্থে যাওয়ার ঐতিহাসিক পথ সেদিক দিয়েই!
