shono
Advertisement

Breaking News

ISRO

ইস্তফার হিড়িক ইসরোয়, বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়রদের অসন্তোষের কারণ কী?

১০০-র বেশি বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়র 'ইসরো' ছাড়লেন। গবেষণা ক্ষেত্রে কি যথেষ্ট সুযোগ দিচ্ছে না 'ইসরো'? না কি স্টার্ট আপের মায়াজাল।
Published By: Kishore GhoshPosted: 02:10 PM Jul 17, 2026Updated: 02:12 PM Jul 17, 2026

যে কোনও সরকারি প্রতিষ্ঠানেই কাজের ক্ষেত্রে নানা সুবিধা আছে। রয়েছে অসুবিধা। মূলত দীর্ঘসূত্রিতা, 'সাল ফিতে'-র ফাঁস সরকারি কাজের গতি শ্লথ করে তোলে। কিন্তু আর্থিক নিরাপত্তা ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের ক্ষেত্রে সরকারি চাকরির তুলনা নেই। যেহেতু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও মুনাফার বিষয়টি জড়িত-না হলে প্রতিষ্ঠান চালানো অসম্ভব। সরকারের ক্ষেত্রে লাভ-লোকসানের সেই অঙ্কটি খাটে না।

Advertisement

বিগত বেশ কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে উজ্জ্বল ও ব্যতিক্রমী ভূমিকা নিয়েছে 'ইসরো'। চন্দ্রযান, মঙ্গলযান অভিযানে সাফল্য আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার মর্যাদা বাড়িয়েছে। কিন্তু সাফল্যের মাঝেও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। সম্প্রতি ১০০-রও বেশি বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়র 'ইসরো' ছেড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ইস্তফা দিয়েছেন বেঙ্গালুরুর 'ইউআরএসসি' এবং তিরুবনন্তপুরমের 'ভিএসএসসি'-র কর্মীরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন 'এলডিএম ৩' প্রকল্পের প্রাক্তন প্রকল্প অধিকর্তা ভিক্টর জোসেফ টি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ইসরো ছাড়েন। গগনযান অভিযানে ব্যবহৃত রকেটের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

বিজ্ঞান গবেষণা ক্ষেত্রে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপে কি আদৌ কাজ হবে? কেন এত বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়র 'ইসরে' ছাড়ছেন, তার কারণ বের করা কি বেশি জরুরি নয়।

২০২০ সালে মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার প্রবেশাধিকার এবং ২০২৩ সালের ভারতীয় মহাকাশ নীতির পর দেশজুড়ে ৪০০-রও বেশি স্পেস স্টার্টআপ তৈরি হয়েছে। পিক্সেল, ধ্রুব স্পেস, ভাইরুট অ্যারোস্পেস, অগ্নিকুল কসমস বেলাট্রিক্স অ্যারোস্পেসের মতো সংস্থায় 'ইসরো'-র প্রাক্তন বিজ্ঞানীদের যোগ দেওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে। আগামী দিনে 'গগনযান', 'চন্দ্রযান ৪', ভারতীয় মহাকাশ স্টেশন এবং 'মঙ্গলযান ২'-এর মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প রয়েছে 'ইসরো'-র হাতে। তাই কড়া পদক্ষেপ করে কেন্দ্র জানিয়েছে, গুরুত্বপুর্ণ প্রকল্পে হয়ে
যুক্ত বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত কর্মীদের স্বেচ্ছাবসর এবং ইস্তফার আবেদন আর রুটিনমাফিক গ্রহণ করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের অধিকর্তাকে সুস্পষ্ট সুপারিশ-সহ সেই আবেদন মহাকাশ দফতরে পাঠাতে হবে। তারা-ই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

বিজ্ঞান গবেষণা ক্ষেত্রে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপে কি আদৌ কাজ হবে? কেন এত বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়র 'ইসরে' ছাড়ছেন, তার কারণ বের করা কি বেশি জরুরি নয়। গবেষণার ক্ষেত্রে কি 'ইসরো' কর্মীদের সেই সুবিধা দিতে পারছে না, যা তাঁরা কোনও স্টার্ট আগে গিয়ে পাচ্ছেন। না কি শুধুই আর্থিক কারণে ইস্তফার হিড়িক। এই বিষয়গুলির সমাধান হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 'ইসরো'-র ঐতিহ্য শুধু ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা নয়, যে কোনও সরকারি বৈজ্ঞানিক সংস্থার ক্ষেত্রেও পথিকৃৎ।

দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও 'ইসরো'-র ভূমিকা রয়েছে। যার 'বিকল্প' বেসরকারি স্টার্ট আপ কখনও হতে পারে না। তাই দেশের ভবিষ্যতের স্বাথেই ইসরো'-কে নিয়ে সরকারি স্তরে আরও বেশি ভাবনা-চিন্তা আবশ্যক হয়ে উঠেছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement