shono
Advertisement
Extortion

পাপের নাম তোলাবাজি, এবার কি ক্ষমাহীন অনিবার্য শাস্তি?

নতুন সরকারের ঘোষণা, তোলা আদায়ের প্রতি দেখানো হবে 'জিরো টলারেন্স'। ব্যবস্থা করা হবে ক্ষমাহীন অনিবার্য শাস্তির।
Published By: Kishore GhoshPosted: 02:11 PM Aug 05, 2026Updated: 04:48 PM Aug 05, 2026

বাংলা সংবাদপত্রের পাতায় ইদানীং যে-শব্দটির ছড়াছড়ি এবং আধিপত্য– সেই শব্দটি ‘তোলাবাজি’। একদিকে তোলাবাজির বিস্তৃত ও বিচিত্র অভিযোগ। অন্যদিকে সরকারের অঙ্গীকার এবং তর্জন তোলাবাজি বন্ধ করার। শব্দটি বাংলা ভাষায় প্রাচীনে-নতুনে মেশানো। আগে যা ছিল তোলা আদায় করা, এখন তাই আরও স্মার্ট, টানটান এবং শক্তিশালী হয়ে তোলাবাজি (Extortion)। তবে তোলাবাজির ব্যাপকতা, স্টাইল, মাফিয়াগিরি এবং ভয়ংকরতা পালটেছে। কিন্তু আদি উৎসে এখনও তেমন রূপান্তর হয়েছে বলে মনে হয় না।

Advertisement

নানাবিধ পরাক্রম এখনও তোলাবাজি বা ব্ল্যাকমেলের টেক-অফ রানওয়ে। যত ক্ষমতার জোর, তত তোলাবাজির হুংকার। এই ক্ষমতার পিছনে থাকে কখনও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা। কখনও অসৎ অর্থের অবিশ্বাস্য প্রাচুর্য। কিন্তু আধিপত্য এবং মাফিয়া-শক্তি ছাড়া সম্ভব নয় অন্যের অর্থ, সম্পত্তি, অধিকার গ্রাস করা। ভূতপূর্ব শাসকের শাসনে আমরা ক্রমশ দেখেছি তোলাবাজি কত সর্পিল ও জটিল পথে কোন ব্যাপক প্রসার এবং কী অন্যায়বিদ্ধ লজ্জায় পৌঁছতে পারে।

নতুন সরকার এসে তাই এই ঘোষণা করেছে, তোলা আদায়ের মতো নিকৃষ্ট অপরাধের প্রতি তাদের নীতি– ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ বা ‘জিরো টলারেন্স’-এর। অর্থাৎ, মুহূর্তের জন্যও সহ্য করা হবে না এই পাপ। ব্যবস্থা করা হবে ক্ষমাহীন অনিবার্য শাস্তির।

‘তোলাবাজি’-র সঙ্গে ভারতীয় জনসমাজের সংযোগের কথা বারবার আলোচিত হয়েছে মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমায়।

তোলাবাজির সহজ প্রাপ্তি ও সুখ এই রাজ্যে মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই সংক্রাম থেকে অনেকেই বেরতে পারেনি। নতুন সরকারের শাসনকালে তোলাবাজির লালসা আবার চাগিয়ে উঠেছে। কিন্তু তাকে আঁতুড়েই বিনাশের জন্য এই সরকারের সংকল্প, প্রতিশ্রুতি ও উদ্যোগ আশা, সাহস ও স্বস্তির সঞ্চার করেছে। নতুন সরকার তোলাবাজির সমস্যা কোনওভাবে লুকনোর চেষ্টা করছে না। এই স্বচ্ছতা দাবি করে অভিনন্দন এবং প্রত্যয়। রাজ্যবাসীর একান্ত প্রত্যাশা তোলাবাজদের প্রতি সরকারের এই কঠোর মনোভাব যেন সমস্ত শাসনকাল জুড়ে বজায় থাকে। যেন বিন্দুমাত্র শিথিল না হয়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ‘তোলাবাজি’-র সঙ্গে ভারতীয় জনসমাজের সংযোগের কথা বারবার আলোচিত হয়েছে মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমায়। পেশিশক্তি সম্বল করে কেউ বিস্তার করে প্রভুত্বের উপনিবেশ। তার সঙ্গে যুক্ত হয় দুষ্ট রাজনীতিকের প্রশ্রয়, আখের গোছানোর অছিলা। কখনও বা সেই বৃত্তে আগমন ঘটে কর্পোরেট তন্ত্রের। এই ত্রিশক্তির সমাহারে ‘তোলাবাজি’-র গল্প ফুলে-ফেঁপে ওঠে। তখন পরিত্রাতা রূপে জনসমাজের মধ্যে থেকেই উঠে আসে এমন কেউ, যে ‘নায়ক’। দুষ্টের বধ ও শিষ্টের পালন যার অভিপ্রায়িক লক্ষ্য। সমাজে এমন ঘটনার বীজ রয়েছে বলেই না সিনেমায় তা পল্লবিত হয়! তবে সুশাসনের জন্য প্রতিবার নায়ককল্প চরিত্রের আবির্ভাব ঘটাই কি আমাদের নিয়তি? সামাজিক স্বচ্ছতা ও ব্যক্তিগত সততা কেন এত দিনেও স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিষ্ঠিত হল না?

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement