উপেন প্রতিবাদ করেছিল। লাভ হয়নি। উল্টে ডিক্রি জারি করে গরিবকে ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য করেন ‘বাবু’। এখানে কাজের কাজ করেছিল ভুয়া নোটিস। কত ধরনের নোটিস যে আছে পৃথিবীতে। ভোটের মরশুমে ইলেকশন ডিউটি করার নোটিস আসব-আসব করছে যখন, তার আগে দু’-এক ছটাক নোটিস সমাচার। লিখছেন তন্ময় চক্রবর্তী।
সন্ধে নেমেছে শান্তিনিকেতনে। রবীন্দ্রনাথ একটি কাগজের উপর ঝুঁকে পড়ে কী যেন লিখছেন। লেখা শেষ হলে, কবি সেটি পাঠিয়ে দিলেন বিশ্বভারতীর অধ্যাপক নেপালচন্দ্র রায়কে। দীর্ঘ কাল অধ্যক্ষ ছিলেন। পড়াতেন ইংরেজি এবং ইতিহাস। যাই হোক, কবির পাঠানো সেই কাগজে লেখা ছিল: ‘...আজকাল আপনি কাজে অত্যন্ত ভুল করছেন। এটা খুবই গর্হিত অপরাধ।’
গুরুদেবের কাছ থেকে হঠাৎ এমন বার্তা পেয়ে চিন্তিত হয়ে গেলেন নেপালবাবু। কার্যত ঘুম এল না সেই রাত্রে। জেগেই রইলেন। পরদিন সকাল হতেই তড়িঘড়ি ছুটলেন কবির কাছে। একা বসে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন। কবির দেখা নেই। অবশেষে উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে পাশের ঘর থেকে একটি মোটা লাঠি হাতে নেপালবাবুর সামনে আবির্ভূত কবি!
কবির হাতে লাঠি দেখে বিস্ময়ে হতভম্ব হয়ে গেলেন তিনি। ভাবলেন, সত্যিই কি কবি এই লাঠি দিয়ে তঁাকে মারবেন? এমন সময় মৃদু হাসি হেসে, কবি লাঠিটি বাড়িয়ে ধরলেন নেপালবাবুর দিকে। স্নেহভরা কণ্ঠে বললেন, ‘এই নিন আপনার দণ্ড! সেদিন যে এখানে ফেলে গেছেন, তা একদম ভুলে গেছেন তো?’ হঁাফ ছেড়ে বঁাচলেন অধ্যাপক। আসলে হঠাৎ এমন সান্ধ্যকালীন নোটিস। তারপর লাঠি হাতে বিচারকের মতো কবি। এর থেকেই বোঝা যায়, নোটিস মানেই দুশ্চিন্তা, অজানা আশঙ্কা ও ভয়।
কবির হাতে লাঠি দেখে বিস্ময়ে হতভম্ব হয়ে গেলেন তিনি। ভাবলেন, সত্যিই কি কবি এই লাঠি দিয়ে তাঁকে মারবেন?
এল কোথা থেকে
বহু বছর আগের পৃথিবী। রৌদ্রে-পোড়া আফ্রিকার সাভানা বনভূমি। সেখানে ‘এপ’ প্রজাতির বাস। তাদের নাকি স্বভাব ছিল অ্যালকোহল জাতীয় বস্তুর গন্ধ খুঁজে খুঁজে পাকা ফল খাওয়া। যদিও তারা জানত না যে, কেন ওই ধরনের ফল খেতে তাদের ভাল লাগে। কিন্তু স্বভাবগতভাবে তারা ওই অতিরিক্ত পাকা ফল খেতে পছন্দ করত।
ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলের অধ্যাপক রবার্ট ডাডলে। তিনি সবিস্তার গবেষণা করে দেখান, এই পাকা ফলের অ্যালকোহলের দিকে বিবর্তনের আদিকাল থেকেই এপ থেকে মানুষ– প্রত্যেকের সহজাত আকর্ষণ ছিল। ২০১৪ সালে তিনি এ বিষয়ে একটি আস্ত বই লেখেন: ‘Drunken Monkey: Why We Drink and Abuse Alcohol’। বিশ্বের সামনে এল ‘ড্রাঙ্কেন মাঙ্কি হাইপোথিসিস’। গবেষকদের অনুমান– এপ প্রজাতির দলপতি, দলের অন্যদের সাবধান করত অতিরিক্ত পাকা ফল না খেতে, ঝিমিয়ে পড়ার প্রবণতা থেকে নিবৃত্ত থাকতে। হয়তো ব্যবহার করত বিশেষ ধরনের শব্দ, যা নিষেধ-বোধক। গবেষকের অনুমান, এই ‘সাবধান’ বা ‘সর্তকতামূলক’ বার্তাই সম্ভবত প্রাণীজগতের প্রথম অলিখিত নোটিস।
৩৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের সুমেরীয় সভ্যতা। টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীকে ঘিরে কৃষকরা শস্য ফলাচ্ছে। একটু একটু করে এগচ্ছে সভ্যতা। সুমেরীয় শহর উরুক। সেখানে তখন সম্রাট ও শাসকের আমলাতন্ত্র। শুরু হয়েছে তথ্য বা নির্দেশ আদান-প্রদানের জন্য মাটির ফলক বা ট্যাবলেটে কিউনিফর্ম (Cuneiform) লিপির ব্যবহার। সম্রাটের প্রশাসনিক নোটিস, প্রজাদের করের হিসাব, শস্যের বণ্টন ও কৃষিসভ্যতার আদেশ নির্দেশের জন্য ব্যবহার হত পোড়ামাটির ট্যাবলেট। বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সরকারি নোটিসের নথিপত্র।
এই নোটিস প্রথমে লেখা হত নরম মাটিতে। পরে তা শুকিয়ে বা পুড়িয়ে শক্ত করা হত।
সে-সময় দেবদেবীর মন্দির ছিল শাসনযন্ত্রের অঙ্গ। মন্দিরের পুরোহিতরা কৃষকদের মধ্যে নোটিস জারি করতেন। দাবি করতেন কর। জানিয়ে দিতেন, ঋণ-বিষয়ক সতর্কতা। সঠিক মাত্রায় উৎপাদন করতে না-পারলে চাষিটিকে হয় অতিরিক্ত অর্থ দিতে হত। নয়তো তার চাষের সহযোগী গবাদি পশুটিকে দিয়ে দিতে হত।
১৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের ঘটনা। সে-সময় ব্যাবিলনের রাজা হামুরাবি। প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতায় তিনিই নাকি বিশাল কালো পাথরের স্তম্ভে ২৮২টি আইন নথিবদ্ধ করে নোটিস জারি করেছিলেন। সেটি ‘হামুরাবি আইন সংহিতা বা ‘কোড অফ হামুরাবি’ নামেই খ্যাত। সে
নোটিস ছিল ভয়ংকর। ‘চোখের বদলে চোখ’ (Lex Talionis)। এই নোটিসের মানে–
আইন এবং নীতি ভঙ্গ করলে কঠোর শাস্তি।
২৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রাচীন মিশরে ফারাওরা নোটিস জারি করতেন পাথরের উঁচু পিলারে। যার পোশাকি নাম ছিল ‘স্টেলা’। তাতে লেখা থাকত রাজার আদেশ থেকে যুদ্ধজয়ের সংবাদ। এমনকী, নীল নদের জল কমে গেলে চাষাবাদ ও শস্যের ক্ষতির কথা ভেবে রাজকীয় দুর্ভিক্ষের নোটিসও জারি হত।
রোম সাম্রাজ্যের সময় থেকেই দেখা যায় কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণে নোটিস। গমের দাম ‘একশো দেনারি’-র (তৎকালীন রোম সাম্রাজ্যে ব্যবহৃত রুপোর মুদ্রা) বেশি হলে শাস্তি– মৃত্যু।
তবে সবচেয়ে ভয়ংকর নোটিসের কথা জানা যায় ২১২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। তা জারি করেছিলেন চিন সম্রাট কিন শি হুয়াং। শোনা যায়, সম্রাটের নির্দেশে বই পুড়িয়ে ফেলার হুকুম ছিল। সেই সঙ্গে ঘটেছিল কনফুশিয়াস মতাবলম্বী ৪৬০ জন পণ্ডিতকে জীবন্ত কবর দেওয়ার আদেশ।
নোটিস যদি না থাকত তাহলে কি বিরাট কিছু ক্ষতি হত? আসলে মানুষ অনেক কিছু ভুলে যায়, অস্বীকার করে। সেই কারণে আইন করে সামাজিক বিধি-নিষেধের মাধ্যমে এক ধরনের আনুষ্ঠানিক সতর্কতা দেওয়া হয় নোটিসের মাধ্যমে। বলা যেতে পারে, মানুষের জীবনে আকস্মিক এক অস্বস্তির নামই নোটিস। নানা কিসিমের নোটিস হতে পারে। যেমন: আইনি, প্রশাসনিক, কিংবা ব্যবসা বা চুক্তি-সংক্রান্ত অফিশিয়াল চিঠিপত্র। এছাড়াও পাবলিক নোটিস, শো-কজ নোটিস, ডিমান্ড নোটিস, অ্যাকচুয়াল নোটিস, কনস্ট্রাকটিভ নোটিস, ইমপ্লায়েড নোটিস, এভিকসন নোটিস, চেক-বাউন্স নোটিস ও আরও কত কী! নোটিস আসলে নিয়মকানুনের নিষেধাজ্ঞা। যা নতুন করে ভাবতেও শেখায়।
যখন বিপজ্জনক
ফ্লোরিডার কোর্টরুম। জোরদার শুনানির জেরে সেদিন আদালত সরগরম। হঠাৎ জজ সাহেবের দৃষ্টি গেল কাউন্সেলের টেবিলের নিচে সুতোর মতো ঝুলছে, চুইংগামের টুকরো। তঁার মনে হল, সেটি যেন আদালতের শিষ্টাচারকে বিদ্রোহ করে উপহাস করছে। মুহূর্তে বিচার থামিয়ে বাদী পক্ষকে শোকজ নোটিস ধরালেন মহামান্য বিচারক। বিচারকের বক্তব্য ছিল, হয় এই কাজের অপরাধীকে চিহ্নিত করুন, বা অবমাননার শাস্তি গ্রহণ করুন।
ফেডারেল কোর্টরুমের ভিডিও পরীক্ষা
করে দেখা গেল যে, কাজটি বাদী পক্ষেরই। আর ওই চেবানো চুইংগামটি লেগে গিয়েছিল অ্যাটর্নির এক সহকারীর স্কার্টে। বিপদ বুঝে বাদী পক্ষ দোষ স্বীকার করে নেয়। সেই সঙ্গে এই অন্যায় কাজের ক্ষতিপূরণ রূপে পরিষ্কারের যাবতীয় খরচা বহন করতে রাজি হয়। ফলে ঝামেলাটি সেখানেই মিটে যায়।
একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল কর্নাটক হাই কোর্টে। একটি হাই ভোল্টেজ মামলা চলছে।
হঠাৎ মহামান্য বিচারক লক্ষ করলেন, এক মহিলা সাংবাদিক চুইংগাম চিবচ্ছেন। স্বাভাবিক কারণেই বিচারপতির এই ঘটনাটিকে ‘আদালত অবমাননা’ বলে মনে হয়। তিনি পুলিশ ডেকে ভদ্রমহিলাকে কোর্ট থেকে বের করে দেওয়ার আদেশ দেন এবং পুলিশকে নির্দেশ দেন তঁার বিরুদ্ধে এফআইআর নোটিস জারি করতে। পরে অবশ্য সেই সাংবাদিক বিচারকের কাছে ক্ষমা চেয়ে মুক্তি পান।
ফ্লোরিডার কোর্টরুম। জোরদার শুনানির জেরে সেদিন আদালত সরগরম। হঠাৎ জজ সাহেবের দৃষ্টি গেল কাউন্সেলের টেবিলের নিচে সুতোর মতো ঝুলছে, চুইংগামের টুকরো।
নোটিস ও নিয়ন্ত্রণ
পরাধীন ভারতের কথা ভাবতে গেলে সে-সময় ব্রিটিশ সরকারের নোটিস অধিকাংশই ছিল শোষণমূলক, অমানবিক ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অযৌক্তিক। যেমন: ১৭৭০ সালে দুর্ভিক্ষের সময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজস্ব নোটিস ছিল অমানবিক ও ভয়াবহ। সে-সময় কোম্পানি, দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় কোনও ব্যবস্থা না-নিয়ে, উল্টে রাজস্ব আদায় জারি রাখে। এর ফলে বাংলার বিরাট সংখ্যক সাধারণ মানুষ না খেতে পেয়ে মারা যায়। অন্যদিকে রাজস্ব কমে যাওয়ার ভয়ে কোম্পানি কৃষকদের উপর খাজনা আদায়ের নামে লুণ্ঠন ও অত্যাচার শোষণ শুরু করে।
তেমনই আর-একটি নোটিস ১৮৭৮ সালের ‘ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট’। লর্ড লিটনের প্রশাসন স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোকে শোকজ নোটিস জারি করে। তাতে সংবাদ প্রকাশের আগে কনটেন্ট জমা দিতে হবে, অথবা বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। এটি আসলে ছিল দেশীয় ভাষার সংবাদপত্রদের স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য এক ধরনের দমনমূলক আইন। কুখ্যাত এই নোটিস, ব্রিটিশ নীতির সমালোচনা আটকাতে দেশীয় সংবাদপত্রগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
গল্প যখন নোটিস
গল্পটি বিমল করের। মনস্তাত্ত্বিক ও রহস্যময় ছোটগল্প। গল্পের প্লট গঙ্গার ধার, এক ভদ্রলোক এবং তার বাড়ির পুরনো চাকর। বাকি গল্পটি লেখকের কলমেই পড়া ভাল–এক ভদ্রলোক একদিন গঙ্গার ধারে বসে আছেন, এমন সময় দেখেন তার বাড়ির অনেক দিন কাজ করা চাকর সাদা জামা, সাদা ধুতি, আর মাথায় একটা সাদা টুপি পরে যাচ্ছে পাশ দিয়ে। ওঁর দিকে তাকিয়ে হেসে চলে যাওয়ার সময়েই হঠাৎ সেই ভদ্রলোকের মনে পড়ল, ওই চাকর তো বেশ কিছু দিন আগেই মারা গিয়েছেন। ডাকলেন ওঁকে। বললেন, কী রে, তুই তো বেশ কিছু দিন হল মারা গিয়েছিস! আমি কি ঠিক দেখছি? চাকরটি বলল, ঠিকই দেখছেন বাবু, আমি এখন যমদূত। ওই যে লোকটি গঙ্গাস্নান করছে– এক্ষুনি ডুবে যাবে। ওকেই নিতে এসেছি।
ভদ্রলোক বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, যমদূতের এমন পোশাক কেন? ইয়ার্কি মারছিস! লোকটি উত্তর দিল, না, আসল যমদূতেরা এমন পোশাকই পরে। ভদ্রলোক বললেন, তুই তো আমার নুন খেয়েছিস অনেক দিন। আমার একটা উপকার করবি? চাকরটি বলল, বলুন।
উনি বললেন, আনমাকে নিতে আসার কিছু দিন আগে আমাকে বলে যাবি। বেশ কিছু কাজ বাকি আছে, তাহলে সেগুলো করে নিতে পারি। চাকরটি হেসে বলল, ঠিক আছে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই গঙ্গাস্নান করতে নামা সেই লোকটি জলে ডুবে মারা গেল, এবং সেই চাকর তাকে নিয়ে চলে গেল। তারপর দিন কাটে, বছর কাটে। গিন্নি বলেন–এই করো, ওই করো। ভদ্রলোক বলেন, এত তাড়া কিসের। দেখো, সব কাজ সেরেই তবে যাব। একদিন রাত্রে ভদ্রলোকের মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়। দেখেন, মাথার কাছে সাদা জামা, সাদা ধুতি, মাথায় সাদা টুপি পরে সেই চাকর দঁাড়িয়ে আছে। হাসি মুখে।
ভদ্রলোক বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, যমদূতের এমন পোশাক কেন? ইয়ার্কি মারছিস! লোকটি উত্তর দিল, না, আসল যমদূতেরা এমন পোশাকই পরে।
ভদ্রলোক তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কী রে! কবে আসবি নিতে? বাকি কাজ তাহলে শেষ করি এবার। চাকরটি তাকে হেসে উত্তর দেয়, আপনাকে নিতেই এসেছি বাবু। চলুন। ভদ্রলোক বেজায় রেগে গিয়ে বলেন, ব্যাটা নিমকহারাম। তোকে না বলেছিলাম আগে আমাকে বলবি।
চাকরটি বলে, আমরা তো নিজে আসতে পারি না বাবু, নিয়ম নেই। কিন্তু আমরা নোটিশ পাঠাই। আপনি আগে যত খেতে পারতেন, এখন তা পারেন? আগে যত স্পষ্ট দেখতে পেতেন, এখন পান? কতরকমের ওষুধ খান আপনি! কাজ করতে গেলে একটুতেই হঁাফিয়ে পড়েন। এগুলি সবই নোটিশ, বাবু। আমরা পাঠাই। আপনারা সেই নোটিস পড়েন না, আর দোষ দেন আমাদের।
ছুটির নোটিস
সৈয়দ মুজতবা আলী। বিখ্যাত ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, অনুবাদক ও রম্যরচয়িতা হলেও ভ্রমণকাহিনির জন্যও বিশেষভাবে জনপ্রিয়। তাঁর জীবনেও নোটিস নিয়ে ঘটনা আছে।
বিষয়টা হল, প্রথম প্রকাশকের সঙ্গে আলী সাহেবের ঝামেলা। ঝামেলা থেকে মামলা। মামলায় দরকার পড়ল আইনজীবীর। আলী সাহেব গেলেন ব্যারিস্টারের কাছে। বললেন–
‘ভাই, আমি এমন একজন কৌশুলি চাই, যিনি আমার এই মামলায় আমায় হারিয়ে দেবেন।’ ব্যারিস্টার সাহেব ছিলেন সাহিত্যানুরাগী। ফলে তিনিও দিলেন চটজলদি জবাব, ‘আপনি ঠিক জায়গাতেই এসেছেন। আমি এখনও পর্যন্ত একটা মামলাতেও জিতিনি!’
জানি না সেই মামলার নোটিস কেমন ছিল– যেখানে হেরে যাওয়ার জন্য উৎসাহী ছিলেন
সৈয়দ মুজতবা আলী।
আর-একটি ঘটনা বলি। সৈয়দ মুস্তাফা আলী তখন বিশ্বভারতীতে পড়াশোনা করছেন। ছাত্রাবস্থায় নানা দুষ্টুমি খেলা করত তঁার মাথায় । শোনা যায়, রবীন্দ্রনাথের হাতের লেখা নকল করে তিনি ভুয়া নোটিস দিয়েছিলেন– ‘আজ ক্লাশ ছুটি’। এই নোটিসের পরিণাম কী হয়েছিল, সে ভাবনা পাঠকের হাতেই থাক!
(মতামত নিজস্ব)
লেখক কবি ও প্রাবন্ধিক
tanmoy.chakrabarty@gmail.com
