মোদি সরকারের বিদেশনীতি ব্যর্থ। ফলে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক বহু দেশের কাছে ভারতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নরেন্দ্র মোদি সরকারের ১১ বছরের ঢালাও সাফল্য প্রচারে কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত চিত্র উলটো। মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বদলে দেশ ও দেশবাসীকে বিপদের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। ‘বিশ্বগুরু’-র ফঁাকা আওয়াজ দিলেও মোদি সরকারের আমলে কূটনৈতিকভাবে ভারত যথেষ্টই কোণঠাসা। আমেরিকা রক্তচক্ষু দেখাচ্ছে। দিল্লির আপত্তি অগ্রাহ্য করে চরম শত্রু পাকিস্তানকে বিপুল ঋণ মঞ্জুর করছে ‘আইএমএফ’। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে যে সুসম্পর্ক ভারতের বরাবর ছিল, তা এখন আর নেই। ‘সার্ক’-এর কার্যকর নেতৃত্বদানে ভারতের ব্যর্থতা প্রকট হয়েছে। নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপের পর বাংলাদেশের সঙ্গেও সম্পর্ক জটিল হয়েছে। গোদের উপর বিষফেঁাড়া চিন। তাদের সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষের পর দিল্লি মুখে অনেক বড়-বড় কথা বললেও বাস্তবে বেজিংয়ের কাছে কার্যত আত্মসমর্পণ করেছে।
তারই নয়া নিদর্শন সরকারি সিদ্ধান্তে। ডোকলামে সংঘর্ষের পর কেন্দ্র ঠিক করেছিল, সরকারি টেন্ডারে অংশ নেওয়া চিনা সংস্থাকে একটি সরকারি কমিটিতে নাম নথিভুক্ত করতে হবে, এবং রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নিতে হবে। পঁাচ বছরের পুরনো সেই বিধিনিষেধের অবসান ঘটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। ফলে চিনা সংস্থাগুলির সরকারি টেন্ডার ও প্রকল্পে অংশ নিতে কোনও বাধা থাকবে না। ওই ‘নিষেধাজ্ঞা’-র জেরে চিনা সংস্থাগুলি ষথেষ্ট চাপে পড়েছিল। কেন্দ্রীয় নানা সূত্রের দাবি, বিভিন্ন প্রকল্পে কঁাচামালের অভাব ও দেরির জন্য সরকারি বহু দফতরই নাকি এই মর্মে অনুরোধ করেছিল। তাহলে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য, নিজের কোমরে জোর না-থাকা সত্ত্বেও শুধু জাতীয়তাবাদী আবেগ উসকে দিতে কেন্দ্রীয় সরকার ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল?
দ্বিতীয়ত, সরাসরি না-হলেও চিন মোটেও ভারতের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন নয়। প্রতিবেশী পাকিস্তানকে সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সাহায্য করে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও তার প্রমাণ মিলেছে। পাশাপাশি, পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপে নানা সময় রাষ্ট্র সংঘে ‘ভিটো’ দিয়েছে বেজিং। অন্য প্রতিবেশী দেশেও ভারতের স্বার্থবিরোধী নানা শক্তিকে তারা মদত জোগায়। তাহলে সেই দেশের সংস্থার বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে যোগ দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে আপস নয়?
আদতে বিদেশনীতি নিয়ে সম্পূর্ণ ব্যর্থ মোদি সরকার। গত কয়েক বছরে আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির নামে কার্যত আত্মসমর্পণ করেছে কেন্দ্র। তাতে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক বহু দেশের কাছেই ভারতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কমেছে বিশ্বাসযোগ্যতা। হালে ‘বন্ধু’ ট্রাম্প বুকে পা তুলে দেওয়ায় মোদি সরকার বিপন্ন। বেজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা চলছে। যা আদতে চিনের কাছে দিল্লির দুর্বলতাই প্রকট করে দেবে। ফলে শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, বিশ্বের কাছেই হাস্যস্পদ হবে ভারত।
