সময়টা বই উৎসবের। বইমেলার সুবাসে মন আনচান বইপ্রেমী বাঙালির। আর এই আবহে এমন একটি কাব্যগ্রন্থের কথা জানা গেল যার উৎসর্গের পাতাটিতে রয়েছে অভিনবত্ব। তা কোনও মানুষকে নয়, উৎসর্গ করা হয়েছে পথকুকুরদের। কেবল তাই নয়। এই কাব্যগ্রন্থ থেকে যা উপার্জন হবে সেই খরচের সিংহভাগই যাবে কুকুরদের খাবার দাবার, ওষুধের খরচের জন্য।
কবি ইন্দ্রাণী দত্ত পান্না গত শতকের নয়ের দশকের কবি। এযাবৎ আটটি গ্রন্থের প্রণেতা তিনি। এর আগে একটি বই পৃথিবীকে উৎসর্গ করেছিলেন। বাকি সব বই কোনও না কোনও প্রিয় মানুষের প্রতি নিবেদিত। সেদিক থেকে নবম বইটির উৎসর্গপত্র সত্যিই অভিনব। সেখানে লেখা-'অসীম কষ্টসহিষ্ণু পরোপকারী পথকুকুরদের প্রতি ভালোবাসা শ্রদ্ধায়।'
বইটির উৎসর্গের পাতাটিতে রয়েছে অভিনবত্ব। তা কোনও মানুষকে নয়, উৎসর্গ করা হয়েছে পথকুকুরদের। কেবল তাই নয়। এই কাব্যগ্রন্থ থেকে যা উপার্জন হবে সেই খরচের সিংহভাগই যাবে কুকুরদের খাবার দাবার, ওষুধের খরচের জন্য।
আর এই সম্পর্কে বলতে গিয়ে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে ইন্দ্রাণী বলছেন, ''আমার ক্ষমতা খুব সীমিত। তবু আমাদের এই প্রতিবেশী, বন্ধু, রক্ষক পথকুকুরদের আমি ভালোবাসি। তাই আমি আমার এই কাব্যগ্রন্থটি আমি তাদের উৎসর্গ করেছি। এবং এই কবিতার বইটি বিক্রির যে টাকা তার সিংহভাগই আমি কুকুরদের খাবার দাবার, ওষুধের জন্য খরচ করব।'' তবে ইন্দ্রাণী মনে করিয়ে দিচ্ছেন, তবে এই কাব্যগ্রন্থটি কুকুর বিষয়ক নয়। সেগুলি তাঁর গত বছর দুয়েক ধরে লেখা কবিতার একটি সংকলন।
সারমেয়দের প্রতি ইন্দ্রাণীর এই প্রীতি আশৈশবের। পীড়া দেয় মানুষের অসহিষ্ণু আচরণ। যা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি জানাচ্ছেন, ''আমি খুব ছোট থেকেই পশুপাখিদের সুখ-দুঃখের সাথী। বিশেষত কুকুর-বেড়ালদের নিয়ে আমার অনেক গল্প আছে জীবনে। এদের মধ্যে আবার কুকুরদের আমি বেশিই স্নেহ দিই। ওদের থেকে ভালোবাসা পাই। কিন্তু যতদিন যাচ্ছে আমি দেখতে পাচ্ছি, এই জীবটির প্রতি মানুষের অসহিষ্ণুতা বেড়েই চলেছে। বহু মানুষ চেষ্টা করছেন পথকুকুরদের বাঁচাতে। কিন্তু পাল্লাটা আমাদের দিকে ভারী হচ্ছে না কিছুতেই, আমরা যারা ওদের ভালোবাসি। আগামীর পৃথিবীর কাছে তাই আমার আবেদন, আপনারা সচেতন হোন। নিজের ভিতরের সহানুভূতিকে জাগিয়ে তুলুন। এভাবে সেটাকে খুন করবেন না। মনে রাখবেন, সকলকে নিয়েই এই পৃথিবী। কেবল মানুষকে নিয়ে নয়।''
