প্রয়াত কিংবদন্তি লোকশিল্পী তীজন বাঈ। রবিবার রাইপুর এইমস হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। এদিন শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। হাসপাতালেই মৃত্যু হয় শিল্পী। তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এমন বিশিষ্ট শিল্পীর প্রয়াণ যেন এক যুগের অবসান। তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বলেন, "তীজন বাঈয়ের জন্য ছত্তিশগড়ের লোকশিল্প বিশেষ পরিচিতি পায়। তাঁর প্রয়াণ শিল্প এবং সংস্কৃতি জগতের অপূরণীয় ক্ষতি।"
ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণ দেও সাইও শোকপ্রকাশ করেন। বলেন, "গোটা দেশ এবং বিশ্বের দরবারে ছত্তিশগড়ের নাম উজ্জ্বল করা তীজন বাঈকে আন্তরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি।"
মঞ্চে তীজন বাঈ। ফাইল ছবি
১৯৫৬ সালের ৮ আগস্ট ছত্তিশগড়ের গনিয়ারি গ্রামের আদিবাসী পরিবারে জন্ম তীজন বাঈয়ের। দাদুই ছিল তাঁর সবচেয়ে কাছের মানুষ। তাঁর মুখে মহাভারত শুনতে শুনতে পাণ্ডবাণীর প্রতি ভালোবাসা জন্মায়। ১৩ বছর বয়সে প্রথমবার মঞ্চে ওঠেন। সকলকে তাক লাগিয়ে দেন। প্রখ্যাত শিল্পী উমেদ সিং দেশমুখের কাছে প্রশিক্ষণ নেন। হাতে তানপুরা নিয়ে 'কাপালিকা' রীতিতে মহাভারতের কাহিনি বর্ণনা করে সকলের মন জয় করে নেন তিনি। তবে সাধারণত পাণ্ডবাণী শিল্পে মহিলারা 'বেদমতী' শৈলীতেই সকলের মন জয় করেন। সেক্ষেত্রে অভিনয় বা শরীরী শৈলী প্রায় লাগে না বললেই চলে।
তবে তীজন বাঈ সমাজের বিরুদ্ধে গিয়ে কিছুটা সমালোচনার মুখেও পড়েন। তবে সমস্ত বাধাকে তুচ্ছ প্রমাণ করে শিল্পচর্চা চালিয়ে গিয়েছেন। তারপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। একসময় ইন্দিরা গান্ধীর সামনে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। দেশের পাশাপাশি বিদেশের মাটিতেও অনুষ্ঠান করেন। এরপর শ্যাম বেনেগালের 'ভারত এক খোঁজ'- এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অংশ নেন। তীজন বাঈ একাধিক সম্মানে ভূষিত হন। তাঁর সাফল্যের ঝুলিতে পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ রয়েছে। আবার সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কার, ফুকুওকা পুরস্কারও পান। শিল্পীর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ অনুরাগীরা।
