এক কেজি চায়ের দাম ২৭ হাজার টাকা! দেশীয় বাজারে এই সময়ে চাহিদা তুঙ্গে! অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি। অনেকেই ভাবতে পারেন হয়তো রপ্তানি যোগ্য দার্জিলিং চায়ের কথা হচ্ছে, মোটেও না। সিকিমের টেমি বাগানে পুরোপুরি জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত পাতা থেকে তৈরি অর্থোডক্স ব্ল্যাক টি। সম্প্রতি সিকিম রাজ্য সরকারের তরফে এক বিবৃতিতে ওই রেকর্ড দামের কথা জানানো হয়েছে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, বিশ্বের বাজারে দার্জিলিং চায়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে সিকিম! দক্ষিণ সিকিমের রাবাংলা থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার এবং নামচি থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে প্রায় ৪৪০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত টেমি চা বাগান। ১৯৬৯ সালে সিকিম রাজ্য সরকারের উদ্যোগে তিব্বতি উদ্বাস্তুদের কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে চা বাগানটি গড়ে ওঠে। এখানে সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে ব্ল্যাক, গ্রিন এবং ওলং চা উৎপাদন হয়ে থাকে। বিশ্বের সেরা চা উৎপাদনকারী বাগানগুলোর একটি টেমি।
সিকিম প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, টেমি চা বাগানের ফার্স্ট ফ্লাশ অর্গানিক চা চলতি মরসুমে রেকর্ড ২৭ হাজার টাকা কেজি দামে বিক্রি হয়েছে। রাজ্য সরকারের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, অপূর্ব স্বাদ ও উৎকৃষ্ট মানের জন্য পরিচিত এই ফার্স্ট ফ্লাশ চা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা ধরে রাখবে। সিকিম রাজ্য প্রশাসনের কর্তারা জানান, খোলা নিলামে ক্রেতাদের থেকে অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। পরবর্তী উৎপাদিত চায়ের চাহিদাও উৎসাহব্যঞ্জক। চা বাগানটি বর্তমানে তাজা পাতা সংগ্রহ এবং অর্থোডক্স ব্ল্যাক টি ও উলং চায়ের মতো উৎকৃষ্ট জাতের চা উৎপাদন করছে। কিন্তু কেন মহার্ঘ্য হয়েছে ওই চা?
সিকিম প্রশাসনের কর্তারা জানান, ওই চা বাগানে অত্যন্ত যত্নসহকারে পাতা তোলা হয়। সেখানে বাছাই করে একটি কুঁড়ি ও দুটি পাতা নেওয়া হয়। এরপর প্রক্রিয়াকরণ কৌশলও উন্নত এবং স্বাস্থ্যসম্মত। কার্বনের বিষক্রিয়া এড়াতে এখানে কয়লার পরিবর্তে এলপিজি গ্যাস জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর ফলে চায়ের সার্বিক মান উন্নত হয়েছে। কার্বনমুক্ত এবং এতে অ্যানথ্রাকুইনোন ও কার্বন কণার পরিমাণ খুবই সামান্য থাকে। এটা শুধু পণ্যের গুণমান উন্নত করেনি। টেমি টি-কে আন্তর্জাতিক জৈব উৎপাদনের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে। ফলে প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা বেড়েছে। গুণগত মানোন্নয়নের ফলে টেমি টি বিশ্ব জুড়ে সমাদৃত হয়েছে এবং বেশি দামে বিক্রি চলছে। একই সঙ্গে একটি উচ্চমানের জৈব চায়ের ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বেড়ে চলা চাহিদার জন্য চলতি মরশুমে ১ লক্ষ কেজি টেমি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
