বিদেশের বাজারে ভারতীয় চায়ের রপ্তানিতে রেকর্ড। রাশিয়া, ইংল্যান্ড, জার্মানি, আমেরিকাতে তো ছিলই। এবার চিনেও জনপ্রিয়তা বাড়ছে ভারতীয় অর্থডক্স ও সিটিসি চায়ের। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ২৪ মিলিয়ন কেজি অতিরিক্ত চা বিশ্বের বাজারে রপ্তানি করেছে ভারত। দেশের চা বণিকসভাগুলোর মতে ২০২৬ সালে চা রপ্তানির পরিমাণ ৩০০ মিলিয়ন কেজি ছুঁয়ে যেতে পারে।
২০২৪ সালে ভারত থেকে বিদেশের বাজারে রপ্তানি হয়েছে ২৫৬.১৭ মিলিয়ন কেজি চা। যার আর্থিক মূল্য ছিল ৭ হাজার ১৬৭ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা। ২০২৫ সালে রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ২৮০.৪০ মিলিয়ন কেজি। সেইসঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বেড়ে হয়েছে ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিশ্বের বাজারে ভারতীয় চায়ের রপ্তানি প্রায় ২৪ মিলিয়ন কেজি বেড়েছে।
ভারতীয় চা পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে ভারত থেকে বিদেশের বাজারে রপ্তানি হয়েছে ২৫৬.১৭ মিলিয়ন কেজি চা। যার আর্থিক মূল্য ছিল ৭ হাজার ১৬৭ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা। ২০২৫ সালে রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ২৮০.৪০ মিলিয়ন কেজি। সেইসঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বেড়ে হয়েছে ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিশ্বের বাজারে ভারতীয় চায়ের রপ্তানি প্রায় ২৪ মিলিয়ন কেজি বেড়েছে। ভারতীয় চা বণিকসভাগুলো সূত্রে জানা গিয়েছে, এটা রেকর্ড বৃদ্ধির হার। সম্প্রতি ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে চা শিল্পের জন্য নতুন আন্তর্জাতিক বাজার খুলবে। ভারতীয় চায়ের গুণমান এবং ইউরোপীয় মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। ওই কারণে ইউরোপীয় ভোক্তাদের মধ্যে ভারতীয় চায়ের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে।
কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস চেয়ারম্যান তথা দার্জিলিং পাহাড়ের
চা শিল্পপতি সতীশ মিক্রকা বলেন, "ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির ফলে ভারতের চা শিল্প খুবই উপকৃত হবে। বিশেষ করে দার্জিলিং চা। ২০২৬ সালে বিশ্বের বাজারে ভারতীয় চায়ের রপ্তানি বেড়ে ৩০০ মিলিয়ন কেজি ছাড়িয়ে যেতে পারে।" তিনি জানান, এখন বছরে ৫.২৫ মিলিয়ন কেজি দার্জিলিং চা উৎপাদন হয়ে থাকে। যার মধ্যে ৪ মিলিয়ন কেজি রপ্তানি হচ্ছে। এতদিন ভারত থেকে জার্মানিতে ২ মিলিয়ন কেজি চা যেত। সেখান থেকে পৌঁছতো ইতালি, ফ্রান্স সহ বিভিন্ন দেশে। চুক্তির ফলে এখন সরাসরি ফ্রান্স, ইতালি সহ বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশগুলোতে দার্জিলিং চা পাঠানো সম্ভব হবে। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, "গত বছর রেকর্ড চা রপ্তানি হয়েছে। চিনেও ভালো বাজার মিলেছে। ওই বাজার ক্রমশ সম্প্রসারিত হবে।"
কানাডা, চা পর্ষদের রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, ভারতীয় চা এখন রপ্তানি হচ্ছে রাশিয়া, ইউক্রেন, কাজাকিস্তান, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, পোল্যান্ড, আমেরিকা, সৌদিআরব, ইরান, চিন সহ বিভিন্ন দেশে। সবচেয়ে বেশি চা রপ্তানি হচ্ছে রাশিয়ায়। এরপরই রয়েছে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ইরান, কাজাকিস্তান। গত বছর শুধু এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর মাসে ২১১.১৬ মিলিয়ন কেজি চা ভারত থেকে বিদেশে রপ্তানি হয়েছে। ২০২৪ সালে ওই সময়ের মধ্যে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৮৮.৬৪ মিলিয়ন কেজি। ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর মাসে কাজাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, সৌদি আরব, ইরানে উল্লেখযোগ্য হারে চা রপ্তানি বেড়েছে।
