চাষ করতে করতে আপন খেয়ালে কবিতা আবৃত্তি করে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল করিমপুরের আজিবর মণ্ডল। মাথায় গামছার ফেট্টি ও মৃদু হাসতে হাসতে অবলীলায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কিংবা জীবনানন্দ দাশদের কবিতা আবৃত্তি করেন আজিবর। চাষ করতে করতে আজ তিনি ভাইরাল 'কবিতাওয়ালা'। লক্ষ লক্ষ বাঙালি তাঁর কবিতা শুনছেন। সামান্য কয়েকদিনের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি।
নাজিরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাশ করে নন্দনপুর উচ্চবিদ্যালয় পড়াশোনা করেন। ২০০০ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। বেতাই ডঃ বি আর আম্বেদকর কলেজে ভর্তি হন তিনি। কলেজ শেষে পেশা হিসেবে চাষকেই বেছে নেন। আজিবর কবিতা লিখতে ও পাঠ করতে ভালোবাসতেন। জমিতে চাষ করতে করতে কবিতা আবৃত্তি করেন। কিছুদিন আগে জমিতে বসেই একটি কবিতার ভিডিও রেকর্ডিং করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। তাঁর আবৃত্তি রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। আর তখন থেকেই তিনি 'কবিতাওয়ালা' নামে পরিচিতি পেয়েছেন। ইতিমধ্যেই 'কবিতাওয়ালা' নামে একটি ফেসবুক পেজও খুলেছেন। গত ১০ জানুয়ারি ফেসবুক পেজ খোলার পর এখনও পর্যন্ত তাঁর ফলোয়ার্স প্রায় দেড় লাখ।
ঝাঁ চকচকে আলো, কোনও বড় মঞ্চ বা নামিদামি কবি সাহিত্যিকদের সান্নিধ্যে আসেননি কোনদিনই। চাষের কাজ করতে করতেই তিনি কবিতা পাঠ করেন। রক্তদান শিবির থেকে নানা সামাজিক কাজের সঙ্গেও তিনি সমানভাবে যুক্ত। এলাকার মানুষ তাঁকে ভালোবাসেন। নেটদুনিয়ায় তাঁর সারল্য ও সাবলীল কবিতা আবৃত্তি মন ছুঁয়েছে সাহিত্যপ্রেমী মানুষের। ইচ্ছা ছিল কবিতা পাঠ শেখার, বিভিন্ন কাজের চাপে সেই ইচ্ছাপূরণ হয়নি। তবুও তাঁর কন্ঠে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'পরিচয়' সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'শুধু কবিতার জন্য' জীবনানন্দ দাশের 'আবার আসিব ফিরে' কিংবা রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী 'অমলকান্তি'র মতো কালজয়ী কবিতা শুনে মুগ্ধ অনেকে। আজিবুর বলেন, "আমার কবিতা পাঠ যে সকলের ভালো লাগছে তাতেই আমি খুশি। আমার ভয় লাগে, এই ভেবে যে আমি মাঠের লোক। বেশি উপরে উঠলে আমি তো সামলাতে পারব না।" তাই তিনি হাসিমুখে বলেন, "এই বেশ ভালো আছি।" এই কথাগুলি গড়গড় করে বলেই মন দেন চাষের কাজে।
