ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলার আম। জুনের প্রথম সপ্তাহেই আমেরিকায় পাড়ি দেবে ফলের রাজা 'শের-ই-হিন্দুস্তান'। ১১ জুন আমেরিকায় ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হবে। তার আগেই আকাশপথে সাত সাগর পেরিয়ে সুদূর আমেরিকায় পাড়ি দেবে হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি, লক্ষ্মণভোগ আর জগৎবিখ্যাত ফজলি। এই জন্য জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে আমের জেলা মালদহে।
জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে খুব শীঘ্রই মালদহের আম পৌঁছে যাবে আমেরিকায়। মালদহের উদ্যানপালন দপ্তরের উপ-অধিকর্তা সামন্ত লায়েক বলেন, "দিল্লি ও মুম্বইয়ের দুই রপ্তানিকারক সংস্থার সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা তিন থেকে পাঁচশো মেট্রিকটন আম মালদহ থেকে বিদেশে রপ্তানির প্রস্তুতি নিয়েছেন। জুনেই আমেরিকায় ফুটবল বিশ্বকাপের আসর বসছে। সেদিকে গোটা বিশ্বের নজর থাকবে। তাই মালদহের আম ওই দেশে সময়ের মধ্যে আকাশপথে রপ্তানি করার চেষ্টা হচ্ছে। এতে মালদহের যেমন সুনাম বাড়বে বিশ্বদরবারে, তেমনই লাভবান হবেন জেলার আমচাষি এবং ব্যবসায়ীরা।"
জেলার উদ্যানপালন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লি ও মুম্বই-সহ দেশের কয়েকটি রপ্তানিকারক সংস্থা বেসরকারি উদ্যোগে মালদহের আম কিনে বিদেশে পাঠাবে। ওই সংস্থাগুলির প্রতিনিধিরা সপ্তাহ যাবৎ মালদহে ছিলেন। তাঁরা ইতিমধ্যেই মালদহ থেকে বেশ কিছু আম নিয়ে গিয়েছেন। ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে তাঁরা নিয়ে যাচ্ছেন মালদহের আম। আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডায় বিশ্বকাপের আসরে বাংলার আমের স্বাদ পাবেন বিভিন্ন দেশের মানুষ। বিশ্বজুড়ে বাংলার আমকে তুলে ধরতেই দেশের রপ্তানি ব্যবসায়ীরা বিশ্বকাপের বাজারকেই ময়দান হিসাবে বেছে নিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উপ-অধিকর্তা সামন্ত লায়েক বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে মালদহের আম আগেও রপ্তানি হয়েছে। গত বছর স্কটল্যান্ড, ইংল্যান্ড, ভূটান, সংযুক্ত আরব আমীরশাহী-সহ মোট পাঁচটি দেশে ১৫ মেট্রিক টন রপ্তানি করা হয়েছিল। এবার ওই দেশগুলি থেকেও আম সরবরাহের বরাত মিলেছে। আন্তর্জাতিক রপ্তানিকারকরা বিষয়টি নিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। জুন মাসের প্রথম দিকেই শুরু হয়ে যাবে বিদেশযাত্রা।" এজন্য এবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে রাসায়নিক পদার্থ মুক্ত আম উৎপাদন করেন চাষিরা।
সামন্ত লায়েক বলেন, "জেলার প্রায় ৬০ হেক্টর আমবাগানকে রপ্তানির লক্ষ্যে আম উৎপাদনের জন্য বিশেষ ভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্ত সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ সাব-ট্রপিকল হটিকালচার (সিআইএসএইচ) কর্তৃপক্ষ আমাদের সহায়তা করেছে। যে বাগানগুলির আম রপ্তানির জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে সেই সব বাগানে ইতিমধ্যেই উৎপন্ন হওয়া আমগুলিকে বিশেষ ধরণের কাগজের মোড়কে ঢেকে ফেলা হয়েছে, যাকে 'ফ্রুট ব্যাগ' ব্যবস্থা বলা হয়। কোনও রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি। একেবারে গাছেই বিশুদ্ধ ও পরিশোধিত আম উৎপাদন হয়েছে।"
অতিরিক্ত জেলাশাসক অনিন্দ্য সরকার জানান, কৃষি বিজ্ঞানী ও ফল বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে বাছাই করা ৬০ হেক্টর জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে আম চাষ করেছেন চাষিরা। আন্তর্জাতিক মানের আম উৎপাদন হচ্ছে। চাষিদের হর্টিনেট শংসাপত্র প্রদান করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। জেলায় প্রায় ৩১ হাজার হেক্টর এলাকা জুড়ে আম চাষ হয়। এই বছর সাড়ে তিন লক্ষ মেট্রিকটন উৎপাদন হয়েছে। মালদহের জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর বলেন, "ইউরোপ থেকে আমেরিকা, এশিয়া থেকে আফ্রিকা, প্রায় সব মহাদেশেই মালদহের আম আরও বেশি রপ্তানির জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যোগাযোগ করা হচ্ছে বিভিন্ন দেশের আমদানিকারকদের সঙ্গেও। জুনে আমেরিকায় বসছে ফুটবল বিশ্বকাপের আসর। সেই সময়ে বিশ্বের সমস্ত দেশ থেকে মানুষ সেখানে থাকবেন। সেটাকে কাজে লাগিয়ে বাংলার আমের আরও জনপ্রিয় করতে চাইছে প্রশাসন। পরিকল্পনার কথা কেন্দ্রীয় সরকারকেও জানানো হয়েছে।
