তৃণমূল জমানায় সরকারি চাকরিতে নিয়োগে দুর্নীতি, স্বজনপোষণের অভিযোগে কলঙ্কিত হয়েছে নানা ক্ষেত্র। বিশেষত শিক্ষা ও পুরনিয়োগে বেনিয়মের পাঁক এখনও যায়নি বিগত সরকারের ইমেজ থেকে। সেই কলঙ্ক ঘুচিয়ে সরকারি পরীক্ষাগুলিতে কারচুপি রুখে স্বচ্ছতা আনতে বড় পদক্ষেপ করল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। সোমবার নন্দীগ্রামে 'জনকল্যাণ শিবির' (Jana Kalyan Shivir) উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘‘সরকারি চাকরির পরীক্ষায় যত নম্বরের উত্তর লিখবেন, সেই ওএমআর শিট পরীক্ষার্থীরা বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন।'' অর্থাৎ ওএমআর শিটে কারচুপি রুখতেই যে তাঁর এহেন সিদ্ধান্ত, তা স্পষ্ট।এছাড়া প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় লিখিত মূল্যায়নে জোর দিয়ে মৌখিকের নম্বর কমানোর কথাও বললেন মুখ্যমন্ত্রী।
আসলে শিক্ষক কিংবা পুরসভা - নিয়োগ দুর্নীতির উৎস কিন্তু এই ওএমআর শিট। এখানে কারচুপি করে নম্বর বাড়িয়ে অবৈধভাবে 'অযোগ্য'দের সুযোগ পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। আদালতে মামলার নথিপত্রে ওএমআর কারচুপির বিষয়টি প্রমাণিত। সেই বেআইনি রুখে স্বচ্ছ নিয়োগের লক্ষ্যে গোড়া থেকেই উদ্যোগী বাংলার নতুন সরকার। সেই পদক্ষেপই নিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
নন্দীগ্রামে 'জনকল্যাণ শিবির'-এর সূচনা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। নিজস্ব ছবি
বস্তুত, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরই বিগত সরকারের যাবতীয় দুর্নীতি থেকে রাজ্য প্রশাসনকে পঙ্কিলতামুক্ত করতে কড়া বার্তা নিয়েছে বিজেপি। শুধু বার্তা দেওয়াই নয়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) পদে বসার কয়েকদিনের মধ্যেই ধাপে ধাপে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে সেই কাজ শুরুও করেছেন। গত মাসে শিয়ালদহের রোজগার মেলা থেকে শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, “এবার থেকে পরীক্ষার কার্বন কপি প্রত্যেক যুবক-যুবতীকে দেওয়া উচিত। এতদিন ওএমআর পদ্ধতিতে পরীক্ষা হলেও কার্বন কপি দেওয়া হয় না। স্বজনপোষণ, দুর্নীতি - এই শব্দগুলোর উৎপত্তি এখান থেকেই আসে। তাই এবার থেকে কার্বন কপি দেওয়া হবে।”
সেই কথা রেখেই সোমবার 'জনকল্যাণ শিবির' থেকে তিনি ঘোষণা করে দিলেন, ‘‘সরকারি চাকরির পরীক্ষায় যত নম্বরের উত্তর লিখবেন, সেই ওএমআর শিট পরীক্ষার্থীরা বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন।'' আসলে শিক্ষক কিংবা পুরসভা - নিয়োগ দুর্নীতির উৎস কিন্তু এই ওএমআর শিট। এখানে কারচুপি করে নম্বর বাড়িয়ে অবৈধভাবে 'অযোগ্য'দের সুযোগ পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। আদালতে মামলার নথিপত্রে ওএমআর কারচুপির বিষয়টি প্রমাণিত। সেই বেআইনি রুখে স্বচ্ছ নিয়োগের লক্ষ্যে গোড়া থেকেই উদ্যোগী বাংলার নতুন সরকার। সেই পদক্ষেপই নিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
