গরমে নাজেহাল বঙ্গ। বৃষ্টিরও দেখা নেই বেশ ক'দিন। গরমির এই মরশুমে সুইমিং পুল যেন স্বর্গের গলি। শরীর জুড়োতে এর বিকল্প নেই। তবে, শুধু শরীর ঠান্ডা করতেই নয়, সুস্থ রাখতেও সাঁতারের চেয়ে ভালো ব্যায়াম আর নেই। কিন্তু এখানেও রয়েছে এক প্রচ্ছন্ন বিপদ। পুলে মেশানো ক্লোরিন ত্বকের দফারফা করতে ওস্তাদ। তার ওপর দোসর হিসেবে ট্যানিং আর ইনফেকশনের ভয় তো আছেই। তবে কি গরমের এই পরম আরাম থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবেন? একেবারেই নয়। শুধু পুলে নামার আগে আর পরে মেনে চলুন সামান্য কিছু নিয়ম। কী করবেন? জেনে নিন।
ছবি: সংগৃহীত
ময়েশ্চারাইজারের ঢাল
পুলে নামার ঠিক আগে এবং জল থেকে ওঠার পর ময়েশ্চারাইজার মাখা বাধ্যতামূলক। আপনার ত্বকের ধরন বুঝে সঠিক ক্রিম বেছে নিন। ক্লোরিন ত্বকের সমস্ত স্বাভাবিক তৈলাক্ত ভাব শুষে নেয়। রুক্ষতা দূর করতে ব্যবহার করতে পারেন গ্লিসারিন কিংবা পেট্রোলিয়াম জেলি। এটি ত্বকের ওপর একটি সুরক্ষার আস্তরণ তৈরি করে। জল থেকে উঠে স্নানের পরেও শরীর ভালো করে ময়েশ্চারাইজ করতে ভুলবেন না।
ওয়াটারপ্রুফ সানস্ক্রিন মাস্ট
রোদের তাপ আর ক্লোরিনের যুগলবন্দি ত্বককে কালচে ও নিষ্প্রাণ করে দেয়। তাই পুলে নামার অন্তত কুড়ি মিনিট আগে ভালো মানের ওয়াটারপ্রুফ সানস্ক্রিন লাগান। সাধারণ সানস্ক্রিন জলে ধুয়ে যায়, তাই ওয়াটারপ্রুফ সানস্ক্রিনই ক্লোরিনের সরাসরি আক্রমণ থেকে ত্বককে বাঁচাবে। ট্যান পড়ার হাত থেকেও মিলবে রেহাই।
ছবি: সংগৃহীত
ক্যাপ, গ্লাসেস আর শাওয়ার
শুধু ত্বক নয়, নজর দিতে হবে চোখ আর চুলেও। চোখের নিচে ভালো করে সানস্ক্রিন লাগিয়ে সুইমিং গ্লাসেস পরে নিন। ক্লোরিনের জল চুলেরও ভীষণ ক্ষতি করে, চুল রুক্ষ করে দেয়। তাই চুলে সুইমিং ক্যাপ পরা আবশ্যিক। আর সাঁতার শেষ হওয়া মাত্রই দেরি না করে পরিষ্কার জলে শাওয়ার নিন, যাতে শরীর থেকে ক্লোরিনের অবশিষ্টাংশ ধুয়ে যায়।
ভিটামিন সি
ক্লোরিনের সংস্পর্শে এলে ত্বকের স্বাভাবিক পিএইচ (pH) মাত্রা বিগড়ে যায়। এই ভারসাম্য বজায় রাখতে ডায়েটে বদল আনা জরুরি। রোজকার খাদ্যতালিকায় রাখুন ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল ও খাবার। এটি ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ রাখবে এবং পুলে যাওয়ার পরেও আপনার ত্বকের চিরন্তন জেল্লা থাকবে অক্ষুণ্ণ।
