এক ঢাল ঘন কালো চুল কার না পছন্দ? এক সময় চুলের পরিচর্যায় ভরসা ছিল শুধুই নারকেল তেল। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে শৌখিনতা। এখনকার দূষণ আর রোদের তাপে চুল প্রাণহীন হয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক। এই জেল্লা ফেরাতে অনেকেই ছোটেন সালোঁয়। সেখানে চড়া দামে চলে কেরাটিন বা হেয়ার বোটক্সের মতো ট্রিটমেন্ট। কিন্তু রাসায়নিকের ব্যবহারে সাময়িক সুফল মিললেও, দীর্ঘমেয়াদে চুলের বারোটা বাজতে দেরি হয় না। বিশেষ করে ফর্ম্যালডিহাইড জাতীয় রাসায়নিক থেকে ক্যানসারের ঝুঁকিও থেকে যায়। তাই চুলের স্বাস্থ্য অটুট রাখতে ঘরোয়া কেরাটিনই এখন সেরা বিকল্প।
ফাইল ছবি
কেন করবেন ঘরোয়া কেরাটিন?
কেরাটিন আসলে চুলে থাকা একটি স্বাভাবিক প্রোটিন। সালোঁয় তাপ ও রাসায়নিক দিয়ে এই প্রোটিন কৃত্রিমভাবে চুলে বসানো হয়। এতে চুলের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয় এবং চুল পড়ার সমস্যা বাড়ে। বিপরীতে, ঘরোয়া পদ্ধতিতে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। রান্নাঘরের কিছু সাধারণ উপকরণ দিয়েই চুলে ফিরিয়ে আনা সম্ভব প্রাকৃতিক জেল্লা। ঘরে কীভাবে করাবেন কেরাটিন ট্রিটমেন্ট? জেনে নিন।
ফাইল ছবি
ডিমের খোসার ম্যাজিক
শুনতে অবাক লাগলেও চুলের গোড়া মজবুত করতে ক্যালশিয়ামের ভূমিকা অপরিসীম। ডিমের খোলায় প্রচুর পরিমাণে এটি পাওয়া যায়। তাই, ডিমের খোসা ভালো করে গুঁড়ো করে তার সঙ্গে দু’চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে চুলে ও মাথার তালুতে মালিশ করুন। ৪০ মিনিট পর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন। এটি চুলের মেলানিন বাড়াতে সাহায্য করে এবং প্রোটিনের ঘাটতি মেটায়। সপ্তাহে একদিন ব্যবহারে চুল লম্বা ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়।
ভাতের কেরাটিন মাস্ক
বেঁচে যাওয়া ভাত ফেলে না দিয়ে তা দিয়েই সেরে ফেলুন হেয়ার স্পা। খানিকটা ভাতের সঙ্গে দু’চামচ নারকেলের দুধ, একটি ডিমের সাদা অংশ এবং সামান্য অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। মিক্সারে ঘুরিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ভালো করে লাগিয়ে রাখুন ৪৫ মিনিট। তারপর পছন্দের শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্ক চুলকে সিল্কি ও মসৃণ করতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
ফাইল ছবি
ঢেঁড়স ও কর্নফ্লাওয়ারের কেরাটিন
পার্লারের মতো স্ট্রেট লুক পেতে এই প্যাকটি অতুলনীয়। কয়েকটি ঢেঁড়স কুচিয়ে জলে সেদ্ধ করে থকথকে ক্বাথ বের করে নিন। এবার তাতে অল্প জলে গোলা কর্নফ্লাওয়ার মিশিয়ে হালকা আঁচে নাড়ুন। মিশ্রণটি ক্রিমের মতো হয়ে এলে নামিয়ে কয়েক ফোঁটা আমন্ড অয়েল মিশিয়ে নিন। ঠান্ডা হলে চুলে লাগিয়ে রাখুন ৪০ মিনিট। ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিলেই দেখবেন চুলের ভোল বদলে গিয়েছে।
ঘরোয়া এই উপায়ে একদিকে যেমন পকেটের সাশ্রয় হয়, তেমনই রাসায়নিকের ভয় ছাড়াই পাওয়া যায় মনের মতো সুন্দর চুল। আজই ট্রাই করে দেখুন।
