নামীদামি ক্রিম কখনওই ফেরাতে পারে না ত্বকের উজ্জ্বলতা, যদি না শরীর ভিতর থেকে স্বাস্থ্যবান হয়। প্রত্যেকদিনের রুটিনের মধ্যে স্কিনকেয়ার রাখতে পারলে অতি উত্তম (Skin Care Tips)। তবে তার চাইতেও বেশি জরুরি, শরীরের আভ্যন্তরীণ সুস্থতায় নজর দেওয়া। দেহের আর্দ্রতা বজায় থাকছে কিনা, রোজকার খাবার থেকে সঠিক পুষ্টিগুণ মিলছে কিনা, খাবার হজম হচ্ছে কিনা — তার সবটাই প্রতিফলিত হয় ত্বকে।
চামড়ার উপরের দাগ-ছোপের বেশিরভাগটাই আসলে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ফল। কিন্তু ব্যস্ত জীবনে তিনবেলাই পুষ্টিকর কিছু খাওয়া সম্ভব কি? আজ রইল এমন পাঁচটি শরবতের হদিশ, যা পান করলে শরীরের আভ্যন্তরীণ সুস্থতা অক্ষুণ্ণ থাকে। ত্বক হয়ে ওঠে উজ্জ্বল।
লেবু-মধুর শরবত। বিট গাজরের শরবত
১। লেবু-মধুর শরবত
বানানো একেবারে সহজ। ঈষদুষ্ণ জলে এক টেবিলচামচ মধু ও অর্ধেক পাতিলেবুর রস চিপে, ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। প্রত্যেকদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে, খালি পেটে পান করুন। লেবুতে উপস্থিত ভিটামিন সি, কোলাজেন উৎপন্ন করে। এতে ত্বক কোমল ও মসৃণ হয়। মধুতে থাকে প্রাকৃতিক ব্যাক্টেরিয়া নাশক উপাদান। ফলে পেটের সংক্রমণের সম্ভাবনা কমায়, যার প্রভাব পড়ে ত্বকেও।
২। বিট গাজরের শরবত
মিক্সার-গ্রাইন্ডারে আধ গ্লাস জলের মধ্যে বিট ও গাজরের টুকরো দিয়ে বেটে নিতে হবে। এক টুকরো আদাও দেওয়া যায়, তাতে স্বাদ বাড়ে। হজমেও কাজে লাগে। রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে বিট, চামড়ার কোষে অক্সিজেন প্রবেশে সাহায্য করে। গাজরে থাকে বিটা-ক্যারোটিন, যা শরীরে প্রবেশের পর ভিটামিন এ উৎপন্ন করে। ফলে ত্বকে দাগছোপ কমে। বিট-গাজরের নির্যাস না ছেঁকে পান করা গেলে, তা সবচাইতে বেশি কার্যকরী।
ডাবের জল। আমলকির শরবত
৩। ডাবের জল
বানানোর ঝুটঝামেলাই নেই! বাজার থেকে কিনে আনুন হৃষ্টপুষ্ট ডাব। শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে এই পানীয়ের জুড়ি মেলা ভার। পেটগরম হলে চিকিৎসকেরা প্রায়শই ডাবের জল খেতে বলেন। জানলে অবাক হতে হয়, মাত্র এক গ্লাস ডাবের জলেই রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। দিনের বেলা বাড়ি থেকে বেরনোর আগে বা ব্যায়াম করার আগে ডাবের জল পান করা যায়।
৪। আমলকির শরবত
আমলকির রস কিনতে পাওয়া যায় দোকানে। দুই চামচ আমলকির রস এক গ্লাস জলে মিশিয়ে নিন। কষাভাব এড়াতে, জলে মেশান এক চামচ মধু। সকালে খালি পেটে পান করুন। কেবল ত্বক নয়, চুলের রূপ ফেরাতেও কাজে লাগে এই শরবত। আমলকিতে রয়েছে ভিটামিন সি। দূষণ হোক বা রোজকার উদ্বেগ, ত্বকে প্রভাব ফেলেই। তা দূর করে, ত্বককে সতেজ করে তোলে এই শরবত।
হলুদ মেশানো দুধ
৫। হলুদ মেশানো দুধ
ঐতিহ্যবাহী এই পানীয়কে ঠিক শরবত বলা চলে না। এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ দুধে এক চিমটে হলুদগুঁড়ো মেশান। তবে বাজারচলতি গুঁড়ো হলুদের বদলে, গোটা হলুদ কিনে এনে তা বেটে নিলে বেশি কার্যকরী হয়। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে পান করুন। খেয়াল রাখতে হবে, হলুদের পরিমাণ যেন একেবারে সামান্য হয়। এই পানীয় আভ্যন্তরীণ জ্বালাভাব দূর করে। ত্বকে লালচে ভাব থাকলে, দূর হয় তাও।
প্রসাধন দ্রব্য হোক বা শরবত - কাজে দিচ্ছে কিনা তা বুঝতে হলে ধৈর্য ধরা চাই। মাত্র এক-দু'বার পানের পরেও ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে, এমন ভাবলে চলবে না। নিয়মমাফিক পান করা গেলে, একটা সময়ের পর ত্বকের সতেজতা চোখে পড়বে নিজেরই।
