দূষণ, ধুলোবালি আর রোজকার ব্যস্ততায় চুলের জেল্লা ফেরাতে অনেকেই পার্লারের ওপর ভরসা রাখেন। কিন্তু আকাশছোঁয়া খরচ আর রাসায়নিক ট্রিটমেন্টের ধাক্কায় চুল সাময়িকভাবে চকচকে হলেও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি এড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ আমাদের হাতের কাছেই লুকিয়ে রয়েছে এমন এক উপাদান, যা নামী দামি কন্ডিশনারকেও হার মানাতে বাধ্য। চুলের নতুন রক্ষাকবচ গড়ে তুলতে বেছে নিন তিসির বীজ বা ফ্ল্যাক্সসিড। আপনার ঘরে তৈরি ফ্ল্যাক্সসিড জেল এমনই এক সহজ ও সস্তা সমাধান যা চুলের গোড়া মজবুত করা থেকে শুরু করে নতুন চুল গজাতে যেমন সাহায্য করে, ঠিক তেমনি চুল স্ট্রেট করতেও এই জেল অনন্য। অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারে অনেকসময় চুল দুর্বল হয়ে কুঁকড়ে যায়। চুলের এই কোঁকড়ানো ভাব দূর করতে তিসির কোনও বিকল্প হয় না।
ছবি: সংগৃহীত
কেন তিসির বীজ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, তিসির বীজ বা তিসি আদতে পুষ্টির খনি। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদানগুলো চুলের গোড়া মজবুত করার পাশাপাশি মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে অকালে চুল ঝরে পড়ার সমস্যা কমে এবং নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে। তিসির এই জেল চুলের কিউটিকলকে মসৃণ করে। ফলে কোঁকড়ানো বা উশকোখুশকো চুল নিমেষেই বশে আসে।
ছবি: সংগৃহীত
জেল তৈরির পদ্ধতি
বাইরের জেল বা কেমিক্যাল ব্যবহারের বদলে বাড়িতেই বানিয়ে নিন এই জাদুকরি মিশ্রণ। একটি প্যানে মাত্র ১/৪ কাপ তিসির বীজ এবং ২ কাপ জল মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করলেই দেখবেন জল ঘন হয়ে আঠালো জেলের আকার ধারণ করছে। এবার হালকা গরম থাকতেই একটি পাতলা কাপড় বা ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিন। ঠান্ডা হলে এই জেলটি একটি কাচের শিশিতে ভরে রাখুন। বাড়তি গুণের জন্য এতে সামান্য অ্যালোভেরা জেল, মধু বা আপনার প্রিয় এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন।
ছবি: সংগৃহীত
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
চুল পরিষ্কার করে শ্যাম্পু করার পর হালকা স্যাঁতসেঁতে চুলে এই জেল লাগান। চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত সমানভাবে লাগিয়ে নিয়ে হালকা হাতে আঁচড়ে নিন। প্রাকৃতিক উপায়ে চুল শুকিয়ে নিন। দেখবেন, কোনও রাসায়নিক ছাড়াই চুল হয়ে উঠেছে ঝকঝকে ও মসৃণ। পার্লারের খরচ বাঁচিয়ে প্রকৃতির ছোঁয়ায় নিজের চুলকে সুন্দর রাখতে এর চেয়ে সহজ বিকল্প আর হয় না।
