উজ্জ্বল ও সতেজ ত্বক কার না কাম্য? কিন্তু দূষণ, অনিয়মিত জীবনযাপন আর ভুল খাদ্যাভ্যাসের জেরে অকালেই হারিয়ে যাচ্ছে ত্বকের স্বাভাবিক জেল্লা। অনেকেই মনে করেন, নামী ব্র্যান্ডের প্রসাধনী বা পার্লারের দামি ফেসিয়ালই এর একমাত্র সমাধান। তবে পুষ্টিবিদ এবং ত্বক বিশেষজ্ঞদের গলায় অন্য সুর। তাঁদের মতে, ত্বকের জেল্লা ফেরানোর চাবিকাঠি আসলে আমাদের রান্নাঘরেই মজুত রয়েছে। সুস্থ ত্বকের নেপথ্যে আমাদের দৈনন্দিন আহার। আর তাই সঠিক ডায়েটই হতে পারে আপনার দীর্ঘস্থায়ী সৌন্দর্যের আসল চাবিকাঠি।
ফাইল ছবি
আমাদের খাদ্যাভ্যাস সরাসরি ত্বকের স্বাস্থ্যের প্রতিফলন ঘটায়। শরীরের কোলাজেন উৎপাদন বাড়ানো, আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং পরিবেশের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে পুষ্টিকর খাবারের কোনও বিকল্প নেই। ব্রণ বা শুষ্কতার মতো সমস্যাও অনায়াসেই কাবু করা যায় সঠিক খাবারের মাধ্যমে। আর এই উদ্দেশ্যেই বিশেষজ্ঞরা এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ‘রেনবো ডায়েট’-এর উপর।
কী এই রেনবো ডায়েট?
নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এর সংজ্ঞা। রামধনুর সাত রঙের মতো আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নানা রঙের ফল ও সবজি রাখাই হল রেনবো ডায়েট। বেগুনি আঙুর থেকে লাল টম্যাটো, সবুজ শাক থেকে কমলা লেবু— প্রতিটি রঙের খাবারে ভিন্ন ভিন্ন ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে। এই বৈচিত্র্যময় পুষ্টি শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখে। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ত্বকের উপরিভাগে।
ফাইল ছবি
কেমন হবে আপনার সারা দিনের রুটিন?
দিনের শুরুটা হোক স্বাস্থ্যকর ভাবে। আমন্ড, আখরোট বা ফ্ল্যাক্স সিডের মতো শুকনো ফল ও বীজের সঙ্গে এক কাপ গ্রিন টি অথবা লেবু-মধু জল শরীরে জমে থাকা টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। জলখাবারে রাখুন প্রোটিন সমৃদ্ধ ডিম, ফলের স্যালাড কিংবা সবজি দিয়ে তৈরি ওটস বা পোহা। দুপুরের খাবারের সঙ্গে এক গ্লাস টক দইয়ের ঘোল বা বাটারমিল্ক শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। বিকেলের নাস্তায় ভাজাভুজির বদলে বেছে নিন একমুঠো মাখানা বা তাজা ফল।
ফাইল ছবি
রাতের খাবার হওয়া চাই হালকা কিন্তু অত্যন্ত পুষ্টিকর। খাদ্যতালিকায় রাখুন পালং শাক, অ্যাভোকাডো, বেরি জাতীয় ফল বা মিষ্টি আলু। যাঁরা আমিষ খান, তাঁদের জন্য স্যামন বা তৈলাক্ত মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের জোগান দেবে, যা ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে। নিরামিষাশীরা পনির বা টোফু খেতে পারেন। মনে রাখবেন, রাত যত বাড়বে খাবারের পরিমাণ তত কমানো ভালো। প্রচুর পরিমাণে জলপান এবং পর্যাপ্ত ঘুম এই ডায়েটের কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই কৃত্রিম প্রসাধনী ছেড়ে এবার প্রকৃতির রঙেই সাজিয়ে তুলুন নিজের ত্বককে।
