গোলা ভরা ধান। আর মাথা ভরা টাক। দুটো একই জিনিস নয়। দ্বিতীয়টি দেখা গেলেই আগেভাগে সাবধান হোন। সাধারণত চল্লিশের পর পুরুষরা এই সমস্যায় বেশি ভোগেন। চুল ঝরে গিয়ে টাক পড়তে শুরু করলে সতর্ক হওয়া দরকার বইকি! নাহলেই ইতিগজ। বাজারচলতি বহু কেশ প্রসাধন রয়েছে। দিশাহারা হয়ে অনেকেই এসব ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এই রাসায়নিক প্রসাধনীতে চুলের গোড়া আরও দুর্বল হয়ে আসে। এতে ফল হয় হিতে বিপরীত। তাই, ঘাবড়ে না গিয়ে ধৈর্য ধরে প্রাকৃতিক উপাদানে ভরসা রাখুন। বিশেষ করে এসেনশিয়াল অয়েলের ব্যবহার ছেলেদের চুলের যত্নে বেশ কাজ দেয়। কোন তেল (Essential Hair Oils) কীভাবে ব্যবহার করবেন জেনে নিন।
ছবি: সংগৃহীত
জেরেনিয়াম অয়েল: চুলের সুরক্ষায় জেরেনিয়াম তেল অত্যন্ত কার্যকরী। এই তেলের মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল গুণ। যা মাথার তালুর পিএইচের ভারসাম্য বজায় রাখে। কেবল চুল পড়া বন্ধ করাই নয়, মাথার ত্বকের যে কোনও সংক্রমণ বা চুলকানি কমাতেও এটি সিদ্ধহস্ত। ব্যবহারের পদ্ধতিও খুব সহজ। ২ চা চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে মাত্র পাঁচ ফোঁটা জেরেনিয়াম তেল মিশিয়ে নিন। এরপর মিনিট পনেরো ধরে মাথার তালুতে ভালো করে মালিশ করুন। আধ ঘণ্টা পর হালকা কোনও শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেললেই মিলবে উপকার। তবে মনে রাখবেন, উগ্র রাসায়নিক যুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
টি ট্রি অয়েল: চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছে দিতে টি ট্রি অয়েলের জুড়ি মেলা ভার। এতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান মাথার ত্বকের সমস্যা দূর করে। আলাদা করে সময় না থাকলে রোজকার শ্যাম্পুর মাধ্যমেই এটি ব্যবহার করা সম্ভব। একটি শ্যাম্পুর বোতলে ১০-১৫ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে রাখুন। স্নানের সময় ওই শ্যাম্পু মেখে মিনিট তিনেক অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। এতে চুলের স্বাস্থ্য যেমন ভালো থাকবে, তেমনই কমবে খুশকির সমস্যা।
ছবি: সংগৃহীত
পেপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েল: মাথা ঠান্ডা রাখতে এবং মানসিক চাপ কমাতে পেপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েল ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এটি রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুল পড়া বন্ধ করে।
ছবি: সংগৃহীত
ল্যাভেন্ডার অয়েল: ব্যবহার করতে পারেন ল্যাভেন্দার অয়েলও। রুক্ষ চুলের সমস্যায় ভোগা পুরুষদের জন্য এই ত্রল আদর্শ। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন নারকেল তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল মিশিয়ে মালিশ করলে চুলের হারানো মসৃণতা ফিরে আসে। নিয়ম মেনে এই প্রাকৃতিক তেলের ব্যবহার করলে কেবল চুল পড়াই কমবে না, বরং আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আত্মবিশ্বাসও ফিরে পাবেন মধ্য যুবারা।
