‘কে-বিউটি’ বা কোরিয়ান রূপটান এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। গ্লাস স্কিনের পাশাপাশি কোরিয়ানদের সিল্কি ও মসৃণ চুলের কদরও কম নয়। বাঙালিদের চুলে সাধারণত এমন জেল্লা দেখা যায় না। যতই চুলের যত্ন নেওয়া হোক না কেন,কোরীয় মহিলা বা পুরুষের চুল ঠিক যেমনটা মসৃন ও চকচকে, তেমনটা দেখা মেলা ভার। তার কারণ বাঙালিদের রূপটান নিয়ে যথেষ্ট সচেতনতার অভাব। আজকাল দামি প্রসাধনী বা সালোঁতে হাজার হাজার টাকা খরচ করছেন অনেকেই। কিন্তু, সামান্য চেষ্টাতে বাড়িতেই পেতে পারেন কোরিয়ানদের মতো ঝকঝকে চুল। প্রয়োজন কেবল একটি বিশেষ ঘরোয়া সিরাম। কিন্তু কীভাবে এই সিরাম বাড়িতেই তৈরি করা যায়, তা জানেন কি?
ফাইল ছবি
কোরিয়ান কেশচর্চার প্রধান গোপন উপাদান হল চাল ধোয়া জল। শতাব্দী প্রাচীন এই পদ্ধতিটি চুলের গোড়া শক্ত করতে এবং রুক্ষতা কমাতে অব্যর্থ। ভাতের চাল ভিজিয়ে রাখা জল অ্যামিনো অ্যাসিড এবং ইনোসিটল সমৃদ্ধ, যা চুলের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত করে। এই চাল ধোয়া জলের সঙ্গে টাটকা অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যায় শক্তিশালী হেয়ার সিরাম।
ফাইল ছবি
উপাদান কী কী?
১ কাপ চাল ধোয়া জল
২-৪ চামচ অ্যালো ভেরা জেল
২ কাপ জল
১ চামচ নারকেল তেল
কয়েক ফোঁটা রোজ়মেরি এসেনশিয়াল অয়েল
কীভাবে বানাবেন এই সিরাম?
এই সিরাম তৈরি করা বেশ সহজ। প্রথমে দুই কাপ জলে এক কাপ চাল ধোয়া জল মিশিয়ে নিন। এতে তিন থেকে চার চামচ টাটকা অ্যালোভেরা জেল এবং এক চামচ নারকেল তেল দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণটি কিছুক্ষণ উনানে বসিয়ে ফুটিয়ে নিন। এতে উপকরণের গুণাগুণগুলি একে অপরের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যাবে। মিশ্রণটি ঠান্ডা হয়ে এলে তাতে কয়েক ফোঁটা রোজ়মেরি এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিন। রোজ়মেরি অয়েল নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। পুরো মিশ্রণটি একটি কাচের শিশিতে ভরে রাখুন।
ফাইল ছবি
ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
প্রতিদিন সময় না পেলেও সপ্তাহে অন্তত দু’দিন এই সিরাম ব্যবহার করা জরুরি। হাতের তালুতে অল্প সিরাম নিয়ে চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত আলতো করে লাগিয়ে নিন। বিশেষ করে যাঁদের চুল ভীষণ রুক্ষ এবং পড়ে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে, তাঁরা নিয়মিত এক সপ্তাহ ব্যবহারে ফল পাবেন। শ্যাম্পু করার ঘণ্টাখানেক আগে এটি লাগিয়ে রাখুন। সিরামটি চুলে পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি রোদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকেও সুরক্ষা দেবে। নিয়মিত ব্যবহারে আপনার চুলও হয়ে উঠবে কোরিয়ানদের মতো মসৃণ ও প্রাণবন্ত।
