অলঙ্কার জগতে বিশ্বস্ত নাম ‘শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্স’ কেবল মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, সমাজ গড়ার কারিগর হিসেবেও নিজেদের মেলে ধরেছে বরাবর। রবিবার, ১লা মার্চ ২০২৬, মহাসমারোহে পালিত হল তাদের বিশেষ সিএসআর উদ্যোগ ‘বেলা সাহা স্মৃতি বিদ্যা মন্দির’-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দিনটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ ছিল কারণ এদিনই ছিল এই মহীয়সী নারীর ৮১তম জন্মবার্ষিকী।
পুব আকাশে সূর্য ওঠার আগেই দ্বীপের বাতাসে উৎসবের মেজাজ। সুন্দরবনের নদীঘেরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার যে চারাগাছটি এক বছর আগে রোপণ করেছিল শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্স, আজ তা ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। প্রদীপ জ্বালিয়ে নয়, বরং আকাশজুড়ে পায়রা উড়িয়ে ও তেরঙা পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে এক নতুন দিগন্তের বার্তা দেওয়া হল গতকাল। এক বছরের এই সাফল্যকে স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজিত হয়েছিল এক বিশাল স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির। দ্বীপের সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে দিল, সাধারণ মানুষের হৃদয়ে কতটা গভীর স্থান করে নিয়েছে এই সংস্থা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ আরও রঙিন হয়ে ওঠে পড়ুয়া ও শিক্ষকদের জন্য সংস্থার পক্ষ থেকে নতুন পোশাক ও উপহার বিতরণে। কচিকাঁচাদের গান, কবিতা আর নাচের ছন্দে সুন্দরবনের নিস্তব্ধতা যেন এক নিমেষে দূর হয়ে যায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের সভাপতি তথা জুপিটার ওয়াগন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান শ্রী এম. এল. লোহিয়া। তিনি মুগ্ধ হয়ে বলেন, “শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সের এই মহৎ উদ্যোগের অংশ হতে পেরে আমি নিজেকে সত্যিই গর্বিত মনে করছি। তাঁরা যে বিদ্যালয়টি চালাচ্ছেন , তার পাশে ভবিষ্যতেও থাকার প্রত্যাশা রাখি।”
বিদ্যালয়ের নেপথ্যে থাকা আবেগ আর সংগ্রামের কথা শোনালেন বেলা সাহার পুত্র এবং শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্স-এর ডিরেক্টর রূপক সাহা। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমার প্রয়াত মা বেলা সাহা শিক্ষার শক্তিতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত ছিলেন। তিনি জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন এবং বিবাহের আঠারো বছর পর কলেজে ভর্তি হয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সর্বদা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।” একই সঙ্গে কন্যা সুচরিতা রায়ের কথায় উঠে আসে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের প্রতি বেলা সাহার সেই মাতৃসুলভ স্নেহের উত্তরাধিকার।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সুনীল পোদ্দার, ড. সুজিত রায় ও ড. দীপঙ্কর মণ্ডলের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। দিনভর নানা অনুষ্ঠান শেষে সকলের জন্য ছিল প্রীতিভোজের আয়োজন। নদীর নোনা হাওয়ায় যখন অনুষ্ঠান শেষ হল, তখন প্রতিটি মানুষের মনে একটাই অঙ্গীকার— শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্স এভাবেই গয়নার জৌলুস ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনের ‘আসল অলঙ্কার’ হয়ে থাকুক। প্রতিকূলতাকে জয় করে তাদের এই জয়যাত্রা যেন চিরকাল অমলিন থাকে।
