গাজর যে স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী, তা আমরা কমবেশি সকলেই জানি। চোখের জ্যোতি বাড়াতে এটি অত্যন্ত কার্যকর। কিন্তু গাজরের গুণ শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। ভিটামিন এ, বিটা-ক্যারোটিন এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই সবজি ত্বকের যত্নেও এক বিস্ময়কর ভূমিকা পালন করে। পুষ্টিবিদরা বলেন, সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বকের জন্য ডায়েটে গাজর রাখা যেমন জরুরি, তেমনই সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করলেও মেলে দারুণ ফল। নিয়মিত গাজর মাখলে ত্বকের অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।
ফাইল ছবি
ত্বকের যত্নে কীভাবে কাজ করে গাজর?
১) ত্বকের যত্নে গাজরের ভূমিকা অপরিসীম। গাজরে থাকা প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন ও ক্যারোনয়েড ক্ষতিকর ইউভি রশ্মির হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করে।
২) যারা শুষ্ক ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য গাজর দারুণ উপকারী। এতে থাকা পটাশিয়াম ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং শুষ্ক ভাব পুরোপুরি দূর করে।
৩) তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রেও গাজর সমান কার্যকর। এটি ত্বকের সেবাম উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে এবং অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার করে ত্বককে সতেজ রাখে।
৪) এছাড়া, গাজরে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের জেল্লা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।
ত্বকের চর্চায় কীভাবে ব্যবহার করবেন গাজর?
গাজরের ফেসপ্যাক
রূপচর্চায় গাজর ব্যবহার করার সহজ কিছু উপায় রয়েছে। গাজরের ফেসপ্যাক বানাতে প্রথমে গাজর অল্প জলে ভাপিয়ে নরম করে নিন। এরপর তা ভালো করে চটকে নিয়ে তার সাথে অর্ধেক পাতিলেবুর রস মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। মিশ্রণটি মুখে ১৫ মিনিট মেখে রেখে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করবে।
ফাইল ছবি
গাজর ও মধুর প্যাক
শুষ্ক ত্বকের জন্য গাজর ও মধুর প্যাক খুব ভালো। গাজরের পেস্টের সাথে মধু ও টকদই মিশিয়ে এই প্যাক তৈরি করতে হয়। ১৫-২০ মিনিট মুখে রেখে ধুয়ে ফেললে মৃত কোষ দূর হয় এবং ত্বক আর্দ্র থাকে।
গাজরের টোনার
এছাড়াও, টোনার হিসেবে গাজরের রস দারুণ কাজ করে। ১/২ কাপ গাজরের রসের সাথে ১/২ কাপ গোলাপ জল ও একটি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের নির্যাস মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি ফ্রিজে রেখে টোনার বা ফেস মিস্ট হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক সতেজ ও প্রাণবন্ত থাকে।
