চড়া রোদ, ঘাম আর ধুলোবালির দাপটে নাজেহাল অবস্থা চুলের। গরমের মরশুমে স্ক্যাল্পে সংক্রমণ আর খুশকির প্রবণতা আরও বাড়ে। সঙ্গে দোসর অত্যধিক চুল ঝরে যাওয়া। এই সমস্যার মোকাবিলায় ক্যাস্টর অয়েল বা রেড়ির তেল মন্ত্রের মতো কাজ করে।
ছবি: সংগৃহীত
তবে ক্যাস্টর অয়েল অত্যন্ত ঘন এবং চটচটে হওয়ায় সরাসরি চুলে লাগানো যায় না। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যাস্টর অয়েলে থাকা 'রিসিনোলিক অ্যাসিড' চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের পুনর্জন্ম নিশ্চিত করে। তবে ব্যবহার করতে হবে অন্য তেলের সঙ্গে মিশিয়ে। ক্যাস্টর অয়েলের ঘনত্ব না কমিয়ে ব্যবহার করলে মাথার ত্বকে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকী মাথা ভারী বা ধরে থাকার মতো লক্ষণও দেখা দেয়। তাই, অন্য তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে কী কী মেশাতে পারেন?
১) নারকেল তেল: নারকেল তেলের লরিক অ্যাসিড চুলের প্রোটিন ক্ষয় রোধ করে। ৩০ শতাংশ ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে ৭০ শতাংশ নারকেল তেল মিশিয়ে ব্যবহার করলে চুল হবে মজবুত ও সিল্কি।
২) আমন্ড অয়েল: এতে থাকা ভিটামিন-ই এবং ম্যাগনেসিয়াম চুলের গোড়াকে ভেতর থেকে পুষ্টি দেয়। ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে এটি মিশিয়ে মাখলে চুলের ডগা ফাটা কমে এবং উজ্জ্বলতা বাড়ে।
ছবি: সংগৃহীত
৩) জোজোবা অয়েল: যাঁদের স্ক্যাল্প তৈলাক্ত কিন্তু চুল রুক্ষ, তাঁদের জন্য জোজোবা অয়েল মহৌষধ। এটি মাথার ত্বকের স্বাভাবিক তেলের ভারসাম্য বজায় রাখে।
৪) টি-ট্রি অয়েল: ঘামের কারণে গরমে মাথায় ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়। ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা টি-ট্রি অয়েল মিশিয়ে লাগালে খুশকি ও চুলকানি থেকে দ্রুত রেহাই পাওয়া সম্ভব।
৫) অ্যালোভেরা জেল: তেলের বদলে তাজা অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে হেয়ার মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এটি গরমে স্ক্যাল্পকে ঠান্ডা রাখে এবং আর্দ্রতা জোগায়।
ছবি: সংগৃহীত
ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে সপ্তাহে এক বা দু’বারের বেশি তেল লাগানো উচিত নয়। অতিরিক্ত তেল ধুলোবালি বেশি টানে, যা থেকে হিতে বিপরীত হতে পারে। ক্যাস্টর অয়েল অন্য তেলের সঙ্গে মিশিয়ে সামান্য উষ্ণ করে নিয়ে ব্যবহার করলে রোমকূপের গভীরে দ্রুত পৌঁছায়। তাছাড়া মাথায় তেল মালিশ করে সারারাত রেখে দেবেন না। এতে চুলের ক্ষতি হয়। বরং স্নানের আধঘন্টা আগে তেল মালিশ করে নিন। স্নানের সময় শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে নিন।
