shono
Advertisement
Welcome To The Jungle Review

অতি লোভে তাঁতি নষ্ট! ৩৪ তারকাকে নিয়ে কেমন হল অক্ষয়ের 'ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল'?

ঝলকে একগুচ্ছ তারকা সমাবেশে কৌতুকের পারদ চড়ালেও 'ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল' আদৌ কতটা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারল?
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 05:59 PM Jun 27, 2026Updated: 05:59 PM Jun 27, 2026

২০০৭ সালে মুক্তি পেয়েছিল 'ওয়েলকাম'। 'মজনু-উদয়' অনিল কাপুর এবং নানা পটেকরের যৌথ কৌতুক পরিবেশনে সেই সিনেমা সফল হলেও ফ্র্যাঞ্চাইজির দ্বিতীয় ছবি 'ওয়েলকাম ব্যাক' সেভাবে পেটে খিল ধরাতে পারেনি! সেই প্রেক্ষিতেই দর্শক, অনুরাগীদের নজর ছিল 'ওয়েলকাম' ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় সিনেমার দিকে। ঝলকে একগুচ্ছ তারকা সমাবেশে কৌতুকের পারদ চড়ালেও 'ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল' কি আদৌ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারল?

Advertisement

কৌতুক ব্রহ্মাণ্ডের এই তৃতীয় ছবিটি আদতে 'দ্য প্রোডিউসার্স' এবং 'ট্রপিক থান্ডার' থেকে অনুপ্রাণিত হলেও 'ওয়েলকাম', 'হেরা ফেরি', 'আওয়ারা পাগল দিওয়ানা', 'মোহরা', ' খিলাড়ি'র মতো একাধিক বলিউড ছবির রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়েছে।

২ ঘণ্টা ৪৪ মিনিটের ছবি। অক্ষয় কুমার, সুনীল শেট্টি, জনি লিভার, জ্যাকি শ্রফ, আরশাদ ওয়ারসি, পরেশ রাওয়াল, রাজপাল যাদব, দিশা পাটানি, জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ, রবিনা ট্যান্ডনদের নিয়ে সিনেমার মধ্যে সিনেমা তৈরির গল্প তুলে ধরেছেন পরিচালক আহমেদ খান। কৌতুক ব্রহ্মাণ্ডের এই তৃতীয় ছবিটি আদতে 'দ্য প্রোডিউসার্স' এবং 'ট্রপিক থান্ডার' থেকে অনুপ্রাণিত হলেও 'ওয়েলকাম', 'হেরা ফেরি', 'আওয়ারা পাগল দিওয়ানা', 'মোহরা', ' খিলাড়ি'র মতো একাধিক বলিউড ছবির রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। কথায় বলে, অতি লোভে তাঁতি নষ্ট! বাংলার সেই বহুল প্রচলিত প্রবাদবাক্য যেন 'ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল'-এর ক্ষেত্রে অক্ষরে অক্ষরে প্রযোজ্য। কারণ তারকা সমাবেশ কিংবা একাধিক জনপ্রিয় সিনেমার রেফারেন্স ব্যবহার করা হলেও এই ছবি আদতে আদ্যন্ত জগাখিচুড়ি! গল্পটা কীরকম?

ঝলকে একগুচ্ছ তারকা সমাবেশে কৌতুকের পারদ চড়ালেও 'ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল' কি আদৌ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারল?

ধনকুবের জাকিরের উদ্দেশ্য যে কোনওভাবে হোক ২ হাজার কোটির কালো টাকা সাদা করা। সেই উদ্দেশেই সহকারী জনি লিভার তাকে এক ফ্লপ ছবির প্রযোজনা করার পরামর্শ দেন। সেই প্রেক্ষিতেই ডাক পড়ে ইন্ডি ফিল্ম মেকার পরেশ রাওয়াল, রাজপাল যাদবের। তাদের সঙ্গী ক্যামেরাম্যান 'নয়নসুখ' ওরফে শ্রেয়স তলপড়ে। যাকে প্রায় দৃষ্টিহীন বললেও অত্যুক্তি হয় না। এরপর সেই টিম খুঁজে খুঁজে সব ফ্লপ তারকাদের বের করে। কারণ তাদের আসল উদ্দেশ্যই ছবি ফ্লপ করানো। চিত্রনাট্যে কৌতুকের মোড়কে বারবার ফিরে আসে অক্ষয় কুমারের মন্দা কেরিয়ারের কথা। বছরে চারটে সিনেমা উপহার দেওয়া তারকা যে দীর্ঘদিন বক্স অফিস নম্বরে পিছিয়ে, সেটা আর আলাদা করে উল্লেখের প্রয়োজন হয় না। সেই বিষয়টিকেই হাস্যরসের মোড়কে চিত্রনাট্যে রাখা হয়েছে। এরপর 'মজনু-উদয়ে'র সহযোগীদ্বয় আরশাদ, সুনীল এন্ট্রি নেয়। বিশাল স্টারকাস্ট নিয়ে শুরু হয়ে সিনেমার প্রস্তুতি। যার জন্য তেজা (লারা দত্ত) নামে এক অফিসারের কাছে গেরিলা ট্রেনিংও নেয় সকলে। এরপর গোটা টিম শুটিংয়ের জন্য জঙ্গল অভিযানে যায়। আর সেখানেই আসল 'ভিলেন'-এর মুখোমুখি হতে হয় তাদের। যারা বাস্তবেই মুজাহিদিন সন্ত্রাসবাদী। যে দলের মাথা 'জাতারা' (জ্যাকি শ্রফ)। তারপর? খিলাড়ির ছবি যখন, তখন দেশভক্তির ছোঁয়া না থাকলে কি চলে! এহেন কমেডি সিনেমাতেও তার ব্য়তিক্রম হয়নি। বাকিটা প্রেক্ষাগৃহে দেখাই ভালো। এবার আসা মেকিংয়ের বিশ্লেষণে।

জ্যাকলিন এখানে শুধুই 'প্রপস'। শরীরী আবেদনে ফোকাস ছাড়া পরিচালক দিশাকে খুব একটা ভরসা করেননি! তবে গল্প-চিত্রনাট্যে মোচড় না থাকলেও নির্মাতারা খুব বুদ্ধি করে 'টার্গেট অডিয়েন্স' ঠিক করেছেন।

'ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল'-এর দৃশ্যে দিশা পাটানি, জ্যাকলিন

একবাক্যে 'ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল'-এর সারমর্ম বোঝাতে চাইলে বলতে হয়, জঙ্গলে ফ্লপ তারকাদের উদভ্রান্ত অ্যাকশন আর সিনেমা তৈরির নামে পিকনিক ব্যতীত ১৬৪ মিনিটের ছবিটি আর কিছুই নয়। অক্ষয় কুমার, জনি লিভারের কিছু কমেডি পাঞ্চলাইন পেটে খিল ধরালেও অত্যন্ত দুর্বল চিত্রনাট্য। একাধিক দৃশ্য একঘেয়ে। যেন 'ফিলার' দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, গোটা স্ক্রিনজুড়ে গ্রিন স্ক্রিনের নির্লজ্জ ব্যবহার একসময়ে বিরক্ত ধরায়। কিছু দৃশ্য পেটে কাতুকুতু দিয়ে হাসানোর মতো। সন্ত্রাসবাদী হিসেবে জ্যাকি শ্রফের চরিত্রকে আলাদা মাত্রা দিতে গিয়ে 'ধুরন্ধর'-এর অক্ষয় খান্নার মতো গান ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও দৃশ্য অনুযায়ী সেটার প্রয়োজন ছিল বলে মনে হয় না। ছবির অন্তিম লগ্নে 'বজরঙ্গী ভাইজান'-এর একটি দৃশ্যও অনুকরণ করা হয়েছে।

'ফ্লপ' তারকাদের উদভ্রান্ত অ্যাকশন আর ছবি তৈরির নামে পিকনিক 'ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল'!

'ওয়েলকাম' ঠিক যতটা সফল সিনেমা হয়ে উঠেছিল, তার তৃতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি 'ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল' ঠিক ততটাই নিম্নমানের। যেখানে তারকাদের অভিনয়ের সিঙ্ক্রোনাইজেশন দূর অস্ত, চড়া অভিব্যক্তিও বিরক্ত ধরায়। এই সিনেমায় দালার মেহেন্দির ঠিক কী ভূমিকা ছিল? সেটা স্পষ্ট নয়! উনি যে নিজেও সেটা জানেন না, গোটা ছবিজুড়ে ভাবলেশহীন অভিব্যক্তিই তা বলে দেয়। জ্যাকলিন এখানে শুধুই 'প্রপস'। শরীরী আবেদনে ফোকাস ছাড়া পরিচালক দিশাকে খুব একটা ভরসা করেননি! তবে গল্প-চিত্রনাট্যে মোচড় না থাকলেও নির্মাতারা খুব বুদ্ধি করে 'টার্গেট অডিয়েন্স' ঠিক করেছেন। সেকারণেই সম্ভবত ভোজপুরী, মালয়ালি বলয়ের উল্লেখ করা হয়েছে। শেষপাতে, একটাই কথা 'ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল' সিনেমার সুবাদেই দিশা পাটানি আর পাঞ্জাবি গায়ক তালবিন্দরের প্রেমে সম্ভবত সিলমোহর দিলেন অক্ষয় কুমার!

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement