২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বরের রাত। দশ লস্কর-ই-তইবা জঙ্গির হামলায় ক্ষতবিক্ষত হয় মুম্বই। আলোয় মোড়া মায়ানগরীর বুক চিরে তখন শুধুই গোলাগুলির শব্দ। আরবীয় বাতাস ম-ম করছে বারুদের গন্ধে! প্রায় দু'দশক বাদে পরিচালক মনোজ তাপাডিয়ার হাত ধরে সেই অভিশপ্ত রাতের স্মৃতি ফিরিয়ে দিলেন কঙ্গনা রানাউত। সেই রাতে মুম্বইয়ের কামা হাসপাতালে সন্ত্রাসলীলার এক আস্ত দলিল ফুটে উঠেছে 'ভারত ভাগ্য বিধাতা' ছবিতে।
'ভারত ভাগ্য বিধাতা' সেসব 'রিয়েল লাইফ হিরো'র কথা বলে, যারা সন্ত্রাসলীলার আতঙ্কে কুঁকড়ে না গিয়ে চোখে চোখ রেখে বাস্তব বুদ্ধিবলে প্রায় চারশো জনের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। আর সেই কর্মযজ্ঞের 'সারথি' ছিলেন অঞ্জলি কুলথে, সিনেমায় যে ভূমিকায় দেখা গিয়েছে কঙ্গনা রানাউতকে।
দু'ঘণ্টা সাত মিনিটের সিনেমা। সিনেব্যকরণের জটিল ধাঁধায় না গিয়ে সহজ ন্যারেটিভ অনুসরণ করে বাস্তব প্রেক্ষাপটে গল্প এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন পরিচালক মনোজ। 'ভারত ভাগ্য বিধাতা' সেসব 'রিয়েল লাইফ হিরো'র কথা বলে, যারা সন্ত্রাসলীলার আতঙ্কে কুঁকড়ে না গিয়ে চোখে চোখ রেখে বাস্তব বুদ্ধিবলে প্রায় চারশো জনের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। আর সেই কর্মযজ্ঞের 'সারথি' ছিলেন অঞ্জলি কুলথে, সিনেমায় যে ভূমিকায় দেখা গিয়েছে কঙ্গনা রানাউতকে। কিন্তু ইতিহাস ২৬/১১-র হামলায় শহিদ হওয়া পুলিশ কর্মীদের মনে রাখলেও সময়ের অতলে চাপা পড়ে গিয়েছিলেন 'অঞ্জল কুলথে'র মতো মানুষ, যাঁরা সেই অভিশপ্ত রাতেও নিজের পেশা, কর্তব্যের প্রতি অবিচল থেকে বহুজনের 'ঈশ্বরের দূত' হয়ে উঠেছিলেন। 'ভারত ভাগ্য বিধাতা' ছবিতে 'গীতা মাধব' এবং তার পারিপার্শ্বিক চরিত্রগুলির মধ্য দিয়ে তাঁদের প্রতিই শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেছেন মনোজ-কঙ্গনা জুটি।
'ভারত ভাগ্য বিধাতা'য় কঙ্গনা রানাউত।
সিনেমার প্রথমার্ধে প্রেক্ষাপট ও চরিত্রদের সঙ্গে আলাপ করানো হলেও দ্বিতীয়ার্ধেই ছবির আসল ছন্দ খুঁজে পাওয়া যায়। কামা হাসপাতালে সন্ত্রাসলীলা, প্রাণভয়ে কুঁকড়ে যাওয়া মানুষজন এবং তাঁদের বাঁচার আর্তি নিয়ে টানটান চিত্রনাট্য। তবে বেশ কিছু দৃশ্য বাস্তবসম্মত হলে বাঁধন আরও পোক্ত হত, বললেও অত্যুক্তি হয় না। শেষপাতে যে বিষয়টি উল্লেখ না করলেই নয়, সেটি হল, মুম্বই হামলার সমান্তরালে 'ভারত ভাগ্য বিধাতা' সিনেমায় সেবিকাদের (নার্স) প্রতি সমাজের বাঁকা দৃষ্টিভঙ্গিকেও চিত্রনাট্যের মোচড়ে রাখা হয়েছে। এবার আসা যাক, মুখ্য ভূমিকায় 'ক্যুইন'-এর পারফরম্যান্স কেমন হল? সেবিষয়ে। বিগত কয়েক বছর ধরে কনটেন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে বেশ সচেতন হয়ে উঠেছেন কঙ্গনা রানাউত। দেশপ্রেমের গাঁথা বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে তাঁর অভিনীত ছবিতে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। তবে এবার 'লার্জার দ্যন লাইফ' স্কেলে না গিয়ে রোজনামচার টুকরো জীবনশৈলী তুলে ধরেছেন কঙ্গনা রানাউত। আর এখানেই অভিনেত্রী-প্রযোজক হিসেবে তিনি সার্থক।
সংলাপ বলার স্টাইল 'কঙ্গনাচিত' হলেও গোটা সিনেমাজুড়ে তাঁর অভিব্যক্তি কিংবা শরীরী ভাষা কখনও গল্পকে ছাপিয়ে যায়নি। বলা ভালো, সদা কর্তব্যে অবিচল একজন সাদামাটা-মধ্যবিত্ত মারাঠি নার্সের ভূমিকায় কঙ্গনা একদম যথাযথ।
'ভারত ভাগ্য বিধাতা'য় কঙ্গনা রানাউত।
তবে বিগত কয়েক বছর ধরে কনটেন্টে চমক দিলেও বক্স অফিসে বিশেষ সুবিধে করতে পারছেন না কঙ্গনা রানাউত! সাংসদ-নায়িকার ফিল্মি কেরিয়ারের গ্রাফই তার প্রমাণ। তবে এবার 'ভারত ভাগ্য বিধাতা' সিনেমার সুবাদে সম্ভবত কঙ্গনার ভাগ্যচক্র ঘুরতে চলেছে। কারণ ঝলক উন্মোচনের পর প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন বটে, তবে বড়পর্দায় রিয়েল লাইফ 'মসিহা' অঞ্জলি কুলথের ভূমিকায় ক্যামেরার সামনে যে পারফরম্যান্স ফুটিয়ে তুলেছেন, তাতে বাহবা দিতেই হয়। সংলাপ বলার স্টাইল 'কঙ্গনাচিত' হলেও গোটা সিনেমাজুড়ে তাঁর অভিব্যক্তি কিংবা শরীরী ভাষা কখনও গল্পকে ছাপিয়ে যায়নি। বলা ভালো, সদা কর্তব্যে অবিচল একজন সাদামাটা-মধ্যবিত্ত মারাঠি নার্সের ভূমিকায় কঙ্গনা একদম যথাযথ। দু'ঘণ্টা সাত মিনিটের ছবিতে গীতার চরিত্রটিকে কখনও 'অতিমানবীয়' বলে মনে হয় না। কারণ পারিপার্শ্বিক প্রেক্ষাপট, ভয়ার্ত আবহ এবং জীবন-মৃত্যুর মাঝে এক অনিশ্চয়তার রাতে মানসিক টানাপোড়েনের অভিব্যক্তি বেশ পারদর্শীতার সঙ্গেই ফুটিয়ে তুলেছেন কঙ্গনা রানাউত।
