শৌর্য দেবের ছবি ‘প্রোমোটার বৌদি’-র নামে এবং বিষয়ে যতটা চমক, ছবিতে সেই চমক দেখতে পাব এমন আশা নিয়েই গিয়েছিলাম। তাছাড়া নামভূমিকায় স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় অফবিট চরিত্রে তিনি সবসময়ই উজ্জ্বল। মহিলা প্রোমোটার আছেন সেটাই জানতাম না, তা পুরশাসিত পেশায় এক নারীর জায়গা করে নেওয়ার গল্প দেখব এমন আশা করাটা নিশ্চয়ই খুব অন্যায়ের নয়। তবে খুব বাস্তববাদী ছবি নয় বরং মেনস্ট্রিম, কমার্শিয়াল ছবি সেটা ট্রেলারই বলে দেয়। তাতে অসুবিধে নেই কিন্তু শুধু মেনস্ট্রিম হল আর মুখরোচক হল না, এ কেমন কথা!
স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় অভিনীত ‘প্রোমোটার বৌদি’-র অসুবিধে এখানেই। নতুন কিছু দেখব বলে গেলাম, তার বদলে দেখলাম পুরনো বোতলে পুরনো মদ! ছবির টাইটেল ছাড়া আর কোনও কিছুতেই নতুনত্ব নেই। আট, নয়ের দশকের ছবির স্টাইলে সংলাপ, কমেডি, আবেগ, প্লাটলাইন। এমনকি সংলাপের ক্যাচলাইন পর্যন্ত আমাদের। এই চেনা কথাবাজিও যদি বিশ্বাসযোগ্য ভাবে ফুটিয়ে তোলা যেত তাহলেও একটা বিনোদনমূলক ফলাফল পাওয়া যেত। চেনা ছকের বাইরে গিয়ে কেন পরিচালক, চিত্র্যনাট্যকাররা ভাবেন না প্রশ্ন জাগে। এ ছবি দেখতে দেখতে বোঝা যায় প্রতি ক্ষেত্রেই যত্নের অভাব এবং দায়সারা ভাব, মনে হয় যা হোক করে ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছে ছবি শেষ করতে হবে।
অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, ছবি: সোশাল মিডিয়া
গল্পে আর ঢুকছি না, কারণ ওটা ছাড়া আর কিছু নেই বলার মত। স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় খুব প্রিয় অভিনেত্রী, কিন্তু তিনিও এই ছবিতে তার সেরাটার ধারে কাছে পৌঁছননি। সালোয়ার কামিজ বা শাড়ির ওপর ক্রপ জ্যাকেট পরা, দুইবার ইট তোলার দৃশ্য, রাইট হ্যান্ড ম্যানের বাড়িয়ে দেওয়া ডিবে থেকে মশলা খাওয়া, আর রেলাবাজিই প্রোমোটার হয়ে ওঠার একমাত্র উপায়? চিত্রনাট্যে কী আর কোনও যোগ করা যেত না ‘শান্তি’র চরিত্রটা স্মরণীয় করে তুলতে! খারাপ লাগে এই ভেবে যে রজতাভ দত্তকে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি কেবল মাথামোটা ভিলেন বানিয়েই রেখে দিল। এই দুর্বল চিত্রনাট্য শুভ্রজিৎ দত্ত, সত্যম ভট্টাচার্য, শ্রীমা ভট্টাচার্য, গম্ভীরা ভট্টাচার্যদের খুব একটা সাহায্য করে না। ফলে একটা অভিনব বিষয় নির্বাচন করেও পরিচালক শৌর্য দেব টার্গেট মিস করলেন।
