গরমের দিনে বাঙালির পাতে প্রায় প্রতিদিনই ঠাঁই পায় দই। বাড়িতে পাতা দই হোক না দোকান থেকে কেনা, উপরের অংশ থেকে এক-দু চামচ কেটে তুলে নিলেই দেখতে পাওয়া যায়, অস্বচ্ছ জল জমছে পাত্র বা ভাঁড়ের ভিতর। কিছুটা দই সরিয়ে নিয়ে বাকিটা ফ্রিজে রেখে দিলে, জলের পরিমাণ বাড়ে। রয়ে যায় শেষ পর্যন্ত। এই জল সাধারণত ফেলে দিই আমরা। খেতে গেলেও বিস্বাদ লাগে।
এই জলেরই পোশাকি নাম ‘হোয়ে ওয়াটার’ (whey water)। পুষ্টিবিদরা বলছেন, স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন মানুষদের কাছে এই জল নাকি তরল সোনার মতো দামি! তা ফেলে দিলে বড় রকমের অপচয় হয়ে যায়! কেন? কারণ এতে রয়েছে নানাবিধ পুষ্টিগুণ।
ঘরে পাতা দই হোক বা দোকান থেকে কেনা, কিছুটা তুলে নেওয়ার পর তলায় জমে দইয়ের জল।
- পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখে – এতে প্রোবায়োটিকস থাকে, যা অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়াকে বাড়তে সাহায্য করে। গরমের দিনে শরীর ঠান্ডা রাখে। হজমশক্তি বাড়ায়।
- প্রাকৃতিক প্রোটিনের উৎস - আলাদা করে দামি প্রোটিন পাউডার কেনার দরকার নেই। ‘হোয়ে ওয়াটার’-ই যোগান দেয় প্রচুর প্রোটিনের।
- হাড় ও জয়েন্টের জন্য উপকারী - এতে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ থাকে। হাঁটুর ব্যথা বা অস্টিওআর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাজে লাগতে পারে তাই।
কীভাবে খাওয়া যাবে ‘হোয়ে ওয়াটার’?
- সকালের জলখাবারে যদি দইয়ের সঙ্গে ওটস মিশিয়ে খান, তবে তারই সঙ্গে মিশিয়ে নিন দইয়ের জলও। ভালোভাবে মেশালে, আলাদা করে ‘হোয়ে ওয়াটার’-এর ফ্যাকাশে স্বাদ অনুভূত হবে না।
- স্মুদি বানানোর সময় দুধের সঙ্গেই ঢেলে দিতে পারেন। এক্ষেত্রেও স্বাদের ফারাক হবে না।
- টক দই দিয়ে লস্যি বা ঘোল বানালে বাড়তি দইয়ের জলটুকু কখনওই ফেলে না দিয়ে, মিশিয়ে নিন ভালোভাবে।
- স্যালাড ড্রেসিং-এ টক দই ব্যবহার করলে, সঙ্গে কাজে লাগিয়ে ফেলুন ‘হোয়ে ওয়াটার’-ও।
- ডাল বা স্যুপ বানানোর সময় ঢেলে দেওয়া যায় ‘হোয়ে ওয়াটার’।
- আটা মাখার সময় জলের বদলে দইয়ের জল ব্যবহার করা যায়।
যেসব খাবারে দই মেশানো হয়, তাতেই মেশান এই 'হোয়ে ওয়াটার'।
এতে একদিকে যেমন খাবারের অপচয় কমানো যায়, অন্যদিকে তেমনই কাজে লাগানো যায় এই পুষ্টিকর প্রোটিনের উৎসটি। রোজের খাবারে বহু চেষ্টার পরেও পর্যাপ্ত প্রোটিনের মাত্রা ছোঁয়া যায় না অনেক সময়ই। আবার কৃত্রিম প্রোটিনযুক্ত খাবারগুলি একাধারে দামি ও শরীরের পক্ষে হানিকারক হতে পারে। এমন অবস্থায় অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে দইয়ের জল।
