যত সময় যাচ্ছে আমাদের রেস্তরাঁয় খাওয়া দাওয়ার চেনা ছবিটা বদলে যাচ্ছে যেন! আজকাল অনেকেই সাপার ক্লাবে বসে অচেনা মানুষদের সঙ্গে খাওয়া দাওয়া সারেন। নানা বিচিত্র ককটেলে গলা ভেজান! আরও কত কী! এককথায়, আজ আর রেস্তরাঁ স্রেফ রেস্ত খসিয়ে স্বাদু খাবারে পেট ভরানোর জায়গামাত্র নয়। তার চেয়েও বেশি। কিন্তু মার্কিন এক রেস্তরাঁয় যা শুরু হয়েছে, তা যেন সব চমককেই হার মানায়। এখানে খাওয়া শেষে অতিথিদের হাত ধুইয়ে দেওয়া হয় চকোলেট দিয়ে! কিন্তু কেন?
যে রেস্তরাঁয় এই রীতি রয়েছে, সেটি এমনিতেই এক বিশেষ রেস্তরাঁ। এখানে সমস্ত কর্মীই ডিমেনশিয়া আক্রান্ত। যেখানে মোমো চাইলে পেয়ে যেতে পারেন পিৎজা! আবার কফি চেয়ে হয়তো পেলেন চাউমিন! আর ওই রেস্তরাঁর ওয়াশিংটন শাখায় যোগ হয়েছে নয়া মেনু। অতিথিদের হাত ধুইয়ে দেওয়া হয় উষ্ণ চকোলেটে। কারণ? এর নেপথ্যে কেবলই মজা! যদিও এই মেনু-সহ খাওয়া দাওয়া সারলে যে অঙ্ক খরচ হবে তা ঠিক মজার নয়। কেননা তার পরিমাণ ২৮৯ ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৬,০০০ টাকা। খাওয়া দাওয়া শেষে হাত মুছিয়ে দেওয়া হয় ন্যাপকিনে।
জানা যাচ্ছে, টেবিলে বসে থাকা অতিথির সামনে রাখা হয় একটি বড় পাত্র। তারপর তাঁর দুই হাতে ঢেলে দেওয়া উষ্ণ চকোলেট সসের প্রবাহ! অনেকেই সেই হাত চেটে নেন পরম আশ্লেষে। কিন্তু এই রীতি কেবলই স্বাদের আনন্দের নয়। এর সঙ্গে যোগ হয়ে যায় চকোলেটের সুগন্ধ, স্পর্শ এবং অবশ্যই শৈশবের ছেলেমানুষি আনন্দ ও নস্টালজিয়ায় ডুব দেওয়ার সুযোগ!
প্রসঙ্গত, রেস্তরাঁয় সাধারণত একটা আদবকায়দা থাকে। এই উষ্ণ চকোলেটের ধারা যেন সেখানে এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। চকোলেটে আঠালো হয়ে যাওয়া আঙুলের খাঁজে জমে থাকে ফেলে আসা সময়ের হইহই ভরা সুগন্ধ। এমন আনন্দের পশরার মূল্য হিসেবে ছাব্বিশ হাজার কি সত্যিই বেশি?
