সন্ধের জলখাবারে একঘেয়ে চপ-শিঙাড়া ছেড়ে একটু নতুনত্বের খোঁজ করছেন? তবে আপনার রান্নাঘরে আজই জায়গা করে নিতে পারে উত্তর ভারতের জনপ্রিয় স্টার্টার ‘দহি কি শোলে’। বাইরেটা খাস্তা মচমচে, অথচ ভেতরে দই আর পনিরের এক অপূর্ব আস্বাদ। নিরামিষ এই পদটি আভিজাত্যে হার মানাতে পারে নামী রেস্তোরাঁর ফ্রায়েড চিকেনকেও। খুব সাধারণ কিছু উপকরণে চটজলদি বানিয়ে ফেলুন এই খাস্তা পদটি।
ফাইল ছবি
প্রয়োজনীয় উপকরণ
ঘন টক দই: ১ কাপ (জল ঝরানো বা হাং কারড)
পনির কুচি: আধ কাপ (একদম মিহি করে কোরা)
আদা-রসুন বাটা: ১ চা চামচ
কাঁচালঙ্কা কুচি: ১ চা চামচ (ঝাল বুঝে)
ধনেপাতা কুচি: ১ টেবিল চামচ
মশলা: আধ চা চামচ ভাজা জিরে গুঁড়ো ও আধ চা চামচ গরম মশলা
বাইরের কোটিং-এর জন্য: ২ টেবিল চামচ ময়দা, ২ টেবিল চামচ কর্নফ্লাওয়ার এবং পরিমাণমতো ব্রেডক্রাম্ব
অন্যান্য: ভাজার জন্য সাদা তেল এবং স্বাদমতো নুন
প্রস্তুতির প্রণালী
প্রথম ধাপ (দই প্রস্তুত করা): এই পদের প্রধান শর্ত হল দই যেন জলযুক্ত না হয়। তাই টক দই একটি পরিষ্কার সুতির কাপড়ে বেঁধে অন্তত ৩-৪ ঘণ্টা ঝুলিয়ে রাখুন। জল ঝরে দই যখন ছানার মতো শক্ত ও মসৃণ হয়ে যাবে, তখন সেটি ব্যবহারের জন্য তৈরি।
দ্বিতীয় ধাপ (পুর তৈরি): একটি বড় পাত্রে জল ঝরানো দই, কোরা পনির, আদা-রসুন বাটা, কাঁচালঙ্কা, ধনেপাতা এবং সব শুকনো মশলা দিয়ে হালকা হাতে মেখে নিন। মিশ্রণটি যদি খুব পাতলা মনে হয়, তবে বাইন্ডিং-এর জন্য সামান্য ব্রেডক্রাম্ব মিশিয়ে দিতে পারেন। এবার এই মিশ্রণ থেকে ছোট ছোট লম্বাটে রোলের আকার গড়ে নিন।
ফাইল ছবি
তৃতীয় ধাপ (কোটিং): একটি ছোট বাটিতে ময়দা ও কর্নফ্লাওয়ার জল দিয়ে গুলে একটি পাতলা ব্যাটার তৈরি করুন। গড়া রোলগুলি প্রথমে এই ব্যাটারে ডুবিয়ে তারপর ব্রেডক্রাম্বের ওপর গড়িয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন যেন চারপাশ সমানভাবে আবৃত হয়। এতেই আসবে কাঙ্ক্ষিত মচমচে ভাব।
চতুর্থ ধাপ (ভাজা): কড়াইতে পর্যাপ্ত তেল গরম করুন। তেল মাঝারি গরম হলে রোলগুলি সাবধানে ছেড়ে দিন। খুব বেশি আঁচে ভাজবেন না, তাতে বাইরেটা পুড়ে যাবে আর ভেতরটা অতিরিক্ত নরম হয়ে ফেটে যেতে পারে। সোনালি রং না ধরা পর্যন্ত ধীর আঁচে উলটেপালটে ভেজে তুলে নিন।
পরিবেশন
ভাজা হয়ে গেলে অতিরিক্ত তেল ঝরিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন। সঙ্গে থাকুক ধনেপাতা-পুদিনার চাটনি কিংবা টমেটো সস। ওপর থেকে সামান্য চাট মশলা ছড়িয়ে দিলে এর স্বাদ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। ঘরোয়া আড্ডা বা ছোটখাটো অনুষ্ঠানে এই ‘দহি কি শোলে’ নিশ্চিতভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।
