জ্যৈষ্ঠের খরতাপ ছাপিয়ে বাঙালির ঘরে ঘরে এখন উৎসবের মেজাজ। দুয়ারে কড়া নাড়ছে জামাইষষ্ঠী। ষষ্ঠীর সকালে জামাই বাবাজীবনের পাতে ইলিশ-চিংড়ি কিংবা কষা মাংসের রাজকীয় আয়োজন তো থাকবেই। তবে ভোজের শেষ পাতে যদি চমক না থাকে, তবে কি আর জামাই-আদর সম্পূর্ণ হয়? মিষ্টিমুখ ছাড়া তো বাঙালি উৎসবের ইতি টানা অসম্ভব। মিষ্টির দোকানে লম্বা লাইনে না দাঁড়িয়ে, এবার জামাইয়ের মন জয় করতে পাতে দিন ঘরে তৈরি রাজকীয় আমের পায়েস। আমের সুবাস আর ক্ষীরের যুগলবন্দি ষষ্ঠীর দুপুরকে আরও মধুর করে তুলবে। রইল সহজ অথচ জিভে জল আনা রেসিপি।
ছবি: সংগৃহীত
প্রয়োজনীয় উপকরণ
পাকা আম: ২টি (মিষ্টি ও আঁশহীন)
দুধ: ২ কাপ
গুঁড়ো দুধ: ৪ চা চামচ
চিনি: ১/৩ কাপ
সুজি: ১ চা চামচ
কাজুবাদাম গুঁড়ো: ৩টি বাদামের
ছবি: সংগৃহীত
রন্ধন প্রণালী
প্রথমেই পাকা আম ভালো করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিন। আমের আঁটি বাদ দিয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। এবার টুকরোগুলো ব্লেন্ডারে দিয়ে মসৃণ পাল্প বা ক্বাথ বানিয়ে আলাদা করে রাখুন।
এরপর একটি ভারী পাত্রে তরল দুধ ঢেলে মাঝারি আঁচে বসান। দুধ ভালো করে ফুটিয়ে কিছুটা ঘন করে নিতে হবে। দুধ ফুটে উঠলে তাতে আগে থেকে তৈরি করে রাখা আমের পাল্প দিয়ে দিন। আঁচ কমিয়ে অনবরত নাড়তে থাকুন, যাতে নিচে লেগে না যায়।
মিনিট দশেক এভাবে ফোটানোর পর মিশ্রণটিতে গুঁড়ো দুধ এবং সুজি যোগ করুন। সুজি দেওয়ার ফলে পায়েসে একটা সুন্দর ঘন ভাব আসবে। সমস্ত উপকরণ একসঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি বেশ গাঢ় হয়ে এলে তাতে চিনি দিন। চিনি গলে দুধের সঙ্গে মিশে যাওয়া পর্যন্ত আরও কিছুক্ষণ নাড়ুন।
সবশেষে উপর থেকে কাজুবাদামের গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। পায়েস ঘন হয়ে এলে আঁচ থেকে নামিয়ে নিন। ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এনে পাত্রটি ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখুন। জামাইষষ্ঠীর দুপুরে ঠান্ডা ঠান্ডা আমের পায়েস পরিবেশন করুন জামাইয়ের পাতে। আমের এই স্বর্গীয় স্বাদ জামাই বাবাজীবনের মন কাড়বেই।
