উলটোরথের আর বেশিদিন বাকি নেই। সেদিন মাসির বাড়ি থেকে রথে চড়ে জগন্নাথদেব ফিরবেন নিজের বাড়ি (Rath Yatra 2026)। গৃহস্থের বাড়িতেও জগন্নাথ পুজোর পাট মিটবে। এমন দিনে পুরী যেতে না পারলেও মনে মলিনতা না রাখাই ভালো। বরং সেদিন প্রভুর কাছে নিবেদন করুন এমন সাত্ত্বিক ভোগ, যা আপনার শ্রদ্ধা ও ভক্তির পরিচায়ক হয়ে পৌঁছে যাবে ঈশ্বরের কাছে।
খাজা ও পোড়া পিঠা থাকুক ঈশ্বরের ভোগে।
১. খাজা
খাজা ভগবান জগন্নাথের অন্যতম প্রিয় মিষ্টান্ন। ময়দা, ঘি ও চিনির রস দিয়ে তৈরি এই মিষ্টি খাস্তা। হাতের চাপে ঝুরঝুর করে ভেঙে আসে। বাইরে মুচমুচে, ভেতরে নরম ও সুস্বাদু। রথযাত্রা ও অন্যান্য শুভ উৎসবে খাজার বিশেষ কদর রয়েছে।
২. কণিকা
কণিকা হল ওড়িশার ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধি মিষ্টি ভাত। চাল, ঘি, গুড়, এলাচ, লবঙ্গ ও কাজু-কিশমিশ দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। নরম, হালকা মিষ্টি এবং সুগন্ধি এই পদটি ভোগ হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
৩. পোড়া পিঠা
চালের গুঁড়ো, নারকেল ও গুড় দিয়ে তৈরি পোড়া পিঠা ধীরে ধীরে সেঁকে বা বেক করে প্রস্তুত করা হয়। হালকা ধোঁয়াটে সুবাস এবং নরম স্বাদের এই মিষ্টি জগন্নাথদেবের প্রসাদ হিসেবে দেওয়া যেতে পারে।
৪. নাড়িয়া পাচাড়ি
নাড়িয়া পাচাড়ি অর্থাৎ নারকেলের চাটনি। কোরানো নারকেল, দই, কাঁচালঙ্কা এবং হালকা মশলা দিয়ে তৈরি হয়। অনেক সময় এতে সর্ষে, আদা ও কারিপাতার ফোড়নও দেওয়া হয়। ঠান্ডা, মোলায়েম ও হালকা টক স্বাদের এই পদটি ভোগের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। কণিকা অথবা অন্ন জাতীয় যে কোনও পদের সঙ্গে ভগন্নাথদেবকে ভোগ হিসেবে দেওয়া যায় এই চাটনি।
কণিকা ও নাড়িয়া পাচাড়ি দিয়েও সাজানো যায় জগন্নাথদেবের ভোগের থালা।
৫. ঘিয়া অন্ন
ঘি মেশানো সুগন্ধি ভাত, অর্থাৎ ঘিয়া অন্ন, ভগবান জগন্নাথের বিখ্যাত ছাপ্পান্ন ভোগের অন্যতম পদ। এটি সহজপাচ্য, সুস্বাদু এবং কখনও কখনও এতে ডাল বা সবজিও যোগ করা হয়।
জগন্নাথদেবকে ভোগ নিবেদনের অর্থ শুধুমাত্র সুস্বাদু রান্না করা নয়, বরং ভক্তি, পবিত্রতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ঈশ্বরকে স্মরণ করাও বোঝায়। যদি পুরীর রথযাত্রায় উপস্থিত থাকা সম্ভব না-ও হয়, তবুও ঘরে বসেই ভক্তিভরে এই ভোগ নিবেদন করলে মিলবে ঈশ্বরের অপার আশীর্বাদ।
