মাঘের দ্বিতীয় সপ্তাহ। কুয়াশা মোড়া সকাল শেষে মিঠে রোদের দুপুর। এমন দিনে সপরিবারে চড়ুইভাতির আমেজই আলাদা। কিন্তু পিকনিক মানেই তো আর শুধু আড্ডা আর হইচই নয়। আসল আকর্ষণ ভূরিভোজন। পিকনিকের মেনু বাছার ক্ষেত্রে প্রধান শর্ত দু’টি। তা হতে হবে সহজে বহনযোগ্য। এমনকী দীর্ঘক্ষণ পরেও স্বাদ থাকবে অটুট। ঝোল-ঝাল বা সসের ঝামেলা এড়িয়ে রইল এমন কিছু পদের খোঁজ, যা শুধু পিকনিকের স্পটে নয়, পথচলতি ভ্রমণেও দেবে স্বাদ ও তৃপ্তির ছোঁয়া।
ভেজ কাটলেট স্যান্ডউইচ
পিকনিকের জলখাবারে এর জুড়ি মেলা ভার। সেদ্ধ আলু, মটরশুঁটি আর মশলার পুরে তৈরি মুচমুচে কাটলেট। পাউরুটির মাঝে সবুজ চাটনি মাখিয়ে নিলেই তৈরি। মাখন মাখানো রুটির পরতে পরতে শীতের আমেজ। বাটার পেপারে মুড়ে নিলে সতেজ থাকে দীর্ঘক্ষণ। এটি যেমন পেট ভরায়, স্বাদেও তেমনই অতুলনীয়।
ভেজ কাটলেট স্যান্ডউইচ
পনির টিক্কা র্যাপ
পিকনিকের মাঠে বসে একটু ধোঁয়াটে স্বাদ না হলে চলে? দই আর মশলায় মাখানো পনির গ্রিল করে রুটির ওপর সাজিয়ে নিন। সঙ্গে পেঁয়াজ কুচি আর পুদিনার চাটনি। তবে খবরদার, টমেটো দেবেন না! তাতে র্যাপ নরম হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। ফয়েলে মুড়ে নিলে এটি বয়ে নিয়ে যাওয়া সহজ।
পনির টিক্কা র্যাপ
মশালা কর্ন চাট
গল্প আর আড্ডার মাঝে মুখরোচক কিছুর খোঁজ করলে কর্ন চাট সেরা। সেদ্ধ ভুট্টা, মাখন আর লেবুর রসের যুগলবন্দি। জল ঝরিয়ে শুকনো করে প্যাক করলে চুঁইয়ে পড়ার ভয় থাকে না। চামচ দিয়ে অনায়াসেই খাওয়া যায় এই চটপটে খাবার।
মশালা কর্ন চাট
থেপলা রোল
ভ্রমণপিপাসু বাঙালির প্রিয় সঙ্গী মেথি থেপলা। ময়দার বদলে আটা আর মেথির স্বাদ। ভিতরে আলুর শুকনো তরকারি দিয়ে রোল বানিয়ে নিলে এটি দীর্ঘ ভ্রমণেও নষ্ট হয় না। টিস্যু পেপারে জড়িয়ে নিলে নরমও থাকে বেশ।
থেপলা রোল
কলা-আখরোটের মাফিন
শেষ পাতে মিষ্টিমুখ না হলে কি আর পিকনিক জমে? বাড়িতে বানানো বানানা-ওয়ালনাট মাফিন সহজেই বয়ে নেওয়া যায়। এটি গলে যাওয়ার বা ভেঙে যাওয়ার ভয় নেই। চা বা কফির আড্ডায় কামড় দিলে মন ভালো হতে বাধ্য।
বানানা-ওয়ালনাট মাফিন
আসলে পিকনিক মানে তো শুধু পেটপুজো নয়, ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ। সঠিক খাবার নির্বাচনে সেই আনন্দ হয়ে ওঠে দ্বিগুণ। তাই ঝক্কি কমিয়ে স্বাদ বজায় রাখাই হোক এবারের শীত-বিলাসের মন্ত্র।
