যুদ্ধের জেরে জ্বালানিসংকটে গোটা বিশ্ব। এর পরেও সংঘাত থামার নাম নেই। উলটে বুধবার মার্কিন ঘাঁটি এবং ইজরায়েলে সবচেয়ে বড় হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করল ইরান। নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে তেহরান হামলা চালিয়েছে বলেই খবর। দুবাই বিমানবন্দরের আশাপাশে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এর জেরে আহত হয়েছেন এক ভারতীয়-সহ ৪ জন। বাহরিনেও হামলা হয়েছে। এছাড়াও ইজরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। যদিও এখনও পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সামনে আসেনি। হরমুজে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে তেহরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। তিনি জানান, এবার ইরানে সবচেয়ে বড় হামলা চালাবে আমেরিকা। এর পরে ইরানের ব্যাঙ্কগুলিতে হামলা চালানো হয়েছে। যার পর বিবৃতি দিয়ে পালটা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। তাদের দাবি, এবারে আমাদের দেশের অর্থনীতিকে টার্গেট করছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। এইসঙ্গে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলিতে হামলা চালাবে ইরান। বলা হয়, "এবার আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে যুক্ত অর্থনৈতিক কেন্দ্র, ব্যাঙ্ক, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।"
ইরানের এই হুমকির পরেই দুবাই বিমানবন্দর আশপাশের এলাকায় ড্রোন হামলা হয়। সেখানে এক ভারতীয়-সহ চারজন আহত হয়েছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের দাবি, হামলা হয়েছে বাহরিনেও। সেখানে বিস্ফোরণ পরবর্তী আপাতকালীন সাইরেনের শব্দ শোনা গিয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য মেলেনি। এদিকে লেবাননে ইজরায়েলের হামলায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ৪ জন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রিয়ারি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে তেহরান-সহ ইরানের একাধিক অঞ্চল। হামলায় মৃত্যু হয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর। জবাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক সেনাঘাঁটি ও ইজরায়েলে হামলা চালাচ্ছে ইরান। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্কের উপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধে ইরানে মৃতের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। রাশিয়া, চিন, স্পেন, ভারত-সহ একাধিক দেশ শান্তিপ্রস্তাব দিলেও কোনও পক্ষই যুদ্ধ থেকে সরতে রাজি হয়নি।
