বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও মাস তিনেক বাকি। সব দলের প্রস্তুতি একেবারে শেষ মুহূর্তে। কিন্তু সেই 'প্রস্তুতি'র ছবি দেখলে কি খুশি হবেন ব্রাজিলভক্তরা? ১০ জনের ফ্রান্সের কাছে ১-২ গোলে হারল কার্লো আন্সেলোত্তির দল (Brazil vs France)। মাঝমাঠ-আক্রমণে সৃজনশীলতার বড্ড অভাব। মাঠে নেইমার জুনিয়রের উপস্থিত কি মিস করছেন ভিনিসিয়াস, রাফিনহারা? উত্তর যাই হোক না কেন, সেলেকাও সমর্থকরা ঠিকই মিস করছেন। গোটা স্টেডিয়ামজুড়ে উঠল 'নেইমার, নেইমার' ধ্বনি। পরে এই নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই রেগে লাল ব্রাজিল কোচ!
বিশ্বকাপের আগে আন্তর্জাতিক বিরতিতে দু'টি ম্যাচ খেলবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তার মধ্যে আমেরিকার অরল্যান্ডো সিটিতে আয়োজিত প্রথম ম্যাচটিতে কিলিয়ান এমবাপেদের কাছে ১-২ গোলে হারল ব্রাজিল। ৩২ মিনিটে ফ্রান্সের হয়ে ৫৬ তম গোলটি করে ফেললেন রিয়াল মাদ্রিদ। ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ছুঁতে তাঁর আর একটি গোল বাকি। ৫৫ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন ফরাসি ডিফেন্ডার ডায়োত উপামেকানো। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগানোর মতো পরিস্থিতিই তৈরি করতে পারলেন না ব্রাজিলের স্ট্রাইকাররা।
বরং ৬৫ মিনিটে ফ্রান্সকে ফের এগিয়ে দেন হুগো একিটিকে। সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ব্রাজিল একটি গোল পেল ৭৮ মিনিটে। ফরাসি ডিফেন্সে জটলার মধ্যে কোনও রকমে ব্যবধান কমান ব্রাজিলের ডিফেন্ডার গিয়েলসন ব্রেমার। কিন্তু তার বাইরে ভিনি, ম্যাথিয়াস কুনহারা পুরোপুরি ব্যর্থ। চাপ আরও বাড়ল রাফিনহা চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যাওয়ায়। আক্রমণে ভেদশক্তির অভাব স্পষ্ট। ডিফেন্স চেরার মতো সৃজনশীলতা কেউই দেখাতে পারছেন না। নেইমারকে কি তাহলে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা উচিত?
ব্রাজিল সমর্থকরা কিন্তু সেরকমই দাবি জানাচ্ছেন। জিলেট স্টেডিয়ামজুড়ে শোনা গেল নেইমারের নামে জয়ধ্বনি। সমর্থকরা ক্রমাগত স্লোগান তুললেন, 'ওলে ওলা নেইমার' বলে। যা নিয়ে পরে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় আন্সেলোত্তিকে। শুনে কিছুটা ক্ষুব্ধই হন ব্রাজিল কোচ। তিনি জবাব দেন, "আমি শুধু তাদের নিয়েই কথা বলব, যারা এখানে আছে। যারা ম্যাচ খেলেছে। যারা পরিশ্রম করে দলে জায়গা করে নিয়েছে। এই দলে ঢোকার জন্য অনেকে প্রতিযোগিতায় আছে।" উল্লেখ্য পুরো ফিট নন, এই যুক্তিতে নেইমারকে বাদ দিয়েই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারছেন আন্সেলোত্তি।
