ফুটবলপ্রেমীরা ধরেই নিয়েছিলেন সৌদি প্রো লিগে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) আর খুব বেশি দিন নেই। তাঁর অভিযোগ ছিল, আল নাসের যেন কোনওমতেই ট্রফি জিততে না পারে সেজন্য সরকারি স্তরে ষড়যন্ত্র চলছে। কিন্তু সেই একমাত্র ফুটবলার হিসাবে ৩০ পেরনোর পর ৫০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করলেন। একই সঙ্গে ৯৬৫ গোলের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। আল নাসেরকে শীর্ষেও তুলেছেন। এরপর আল নাসের ছাড়ার জল্পনার মাঝেই বিস্ত (মধ্যপ্রাচ্যের অভিজাত পোশাক, অনেকটা gর মতো) গায়ে বিরাট ঘোষণা করলেন। জানিয়ে দিলেন, সৌদিতেই থাকতে চান তিনি।
আসলে সৌদির শীর্ষ চার ক্লাব আল হিলাল, আল ইত্তিহাদ, আল আহলি এবং আল নাসের চালায় সৌদির সরকারি সংস্থা পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর এই যে কোটি কোটি টাকা খরচ করে সৌদির ক্লাবগুলি ইউরোপ থেকে নামী তারকাদের সই করায় সেটা আসে সরকারি কোষাগার থেকে। সিআর৭-এর অভিযোগ ছিল, বাকি ৩ ক্লাবের পিছনে যে পরিমাণ টাকা ঢালছে, তার সিকিভাগও করা হচ্ছে না আল নাসেরের জন্য।
কয়েক দিন আগেই ৪২ বছরে পা দিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো। যে বয়সে অন্য ফুটবলাররা বুটজোড়া তুলে রেখে দিব্যি অবসরযাপন করেন, সেই বয়সেও তিনি ছুটছেন। হাজার গোলের লক্ষ্যপূরণ না হলে তিনি যে বুটজোড়া তুলে রাখবেন না, সে কথা আগেই বলেছিলেন। এবার আল হাজেমের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে দলকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে তুলেছেন তিনি। তাঁর অনবদ্য ফুটবলে টানা দশম জয় পেয়েছে আল নাসের। হাজেমকে ৪-০ গোলে হারিয়ে রোনাল্ডোর ঘোষণা, "আমি সৌদি আরবের।"
তাঁর কথায়, "সৌদি আমার পরিবার এবং বন্ধুদের স্বাগত জানিয়েছে। আমি এখানে খুশি। এখানেই থাকতে চাই।" অর্থাৎ তাঁর কথা শুনে এটাই প্রমাণিত, চুক্তি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আল নাসের ছাড়ছেন না রোনাল্ডো। সৌদি ক্লাবের সঙ্গে তাঁর চুক্তি রয়েছে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। উল্লেখ্য, সপ্তাহ দুয়েক আগে শোনা গিয়েছিল, সৌদির পর আবারও ইউরোপের কোনও ক্লাবে ফেরার চেষ্টা করছেন রোনাল্ডো। এখানেই শেষ নয়। মার্কিন মুলুকের মেজর সকার লিগেও তিনি খেলতে পারে। শোনা গিয়েছিল, মেসির দল ইন্টার মায়ামি নাকি রোনাল্ডোকে নিতে আগ্রহী। যদিও সেসব যে জল্পনা, তা রোনাল্ডোর কথায় স্পষ্ট হল।
