৪১ বছর বয়সেও বিশ্বকাপ খেলেছেন। চোখের জলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও ফুটবল থেকে অবসর নেননি। ফুটবলপ্রেমীদের প্রশ্ন, আর কতদিন খেলবেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) ? সেই জল্পনার মধ্যে প্রকাশ্যে আসছে এমন এক পরিসংখ্যান, যা পর্তুগিজ ভক্তদের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়াবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রোনাল্ডো অবসর নিলে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হবে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের। এককথায় বলতে গেলে, ফেডারেশনের আর্থিক মেরুদন্ড ভেঙে যেতে পারে।
পর্তুগিজ ইনস্টিটিউট অফ মার্কেটিং অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড্যানিয়েল সা বলছেন, "শুনতে খারাপ লাগলেও, পর্তুগালের গোটা জাতীয় দলের থেকে একা রোনাল্ডোর জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। আমি স্রেফ ব্র্যান্ড ভ্যালুর নিরিখে বলছি, রোনাল্ডো চলে গেলে পর্তুগিজ ফুটবল বিশাল ধাক্কা খাবে। প্রচারের আলো থেকে একেবারে হারিয়ে যাবে পর্তুগিজ ফুটবল। একেবারে আলোর গতিতে পতন হবে। আসলে গত ২০ বছর ধরে রোনাল্ডোর জনপ্রিয়তায় ভর করেই একের পর এক চুক্তি করে আয় করেছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। তাই রোনাল্ডো চলে গেলে সেই আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।"
ড্যানিয়েলের মতে, রোনাল্ডো স্রেফ ফুটবলার নন। গোটা পর্তুগালজুড়ে রয়েছে তাঁর প্রভাব। ফুটবলারদের মধ্যে সর্বাধিক ফলোয়ার রয়েছে তাঁর। দেশের একাধিক খাতে রয়েছে তাঁর বিনিয়োগ। সি আর সেভেন অবসর নিলেও তাঁর এই প্রভাব থেকে যাবে, অনেকখানি বাড়তেও পারে। কিন্তু তাতে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের লাভের সম্ভাবনা খুবই কম। ড্যানিয়েল বলছেন, রোনাল্ডোর উত্তরসূরি হিসাবে অন্যান্য তারকা তৈরি করা উচিত ছিল ফেডারেশনের। এমন তারকা দরকার পর্তুগিজ ফুটবলে, যাঁদের জনপ্রিয়তার জেরে ভরতে পারে ফেডারেশনের কোষাগার।
প্রসঙ্গত, বিশ্বকাপে পর্তুগাল একেবারেই প্রত্যাশামতো খেলতে পারেনি। গ্রুপ পর্বে কঙ্গো, কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ড্র করার পর কোনওমতে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দল। রাউন্ড অফ ৩২তে রেফারিং বিতর্কের মাঝেই ক্রোয়েশিয়াকে হারায় পর্তুগাল। কিন্তু প্রি-কোয়ার্টারে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে চোখের জলে বিদায় নেন রোনাল্ডোরা।
