প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্মানে রাজ্যে ঘোষণা হল 'নরেন্দ্র কাপ'। বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভায় ক্রীড়া বাজেট পেশ করে এই নতুন প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল টুর্নামেন্টের ঘোষণা করেন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। তিনি জানান, নরেন্দ্র কাপ অর্থাৎ ফুটবল লিগ হল এমন একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, যা ভিত্তিমূল স্তরে খেলাধুলোর প্রসার, সুপ্ত প্রতিভা অন্বেষণ এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে মেলবন্ধন গড়ে তোলার উদ্দেশে তৈরি করা হয়েছে। মহকুমা, জেলা এবং রাজ্য- এই তিনটি ধাপে সুবিন্যস্তভাবে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টটি উদীয়মান অ্যাথলিটদের জন্য একটি বিশাল মঞ্চ হিসাবে কাজ করবে। যেখানে তাঁরা আরও বড় করে নিজেদের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ পাবেন।
এর সঙ্গেই মন্ত্রীর ঘোষণা, রাজ্যের প্রতিটি স্কুল ও কলেজে ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য ১৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। ক্রীড়া বাজেটে এই পরিকাঠামো উন্নয়নের কথা জানান মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। তিনি জানান, 'নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু ক্রীড়া পরিকাঠামো প্রকল্প' চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। যে প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের প্রতিটি স্কুল ও কলেজকে ১৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য একেবারে স্কুল স্তর থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করে তাদের উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেওয়া। ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তৈরির জন্যই এই প্রকল্প।
একইসঙ্গে মন্ত্রী জানান, নানা খেলায় পদকজয়ীদের 'অটল খেল সম্মান'-এ ভূষিত করা হবে। এতে পদকজয়ীদের আর্থিক পুরস্কার বাড়ানো হচ্ছে। অলিম্পিক বা এশিয়ান গেমসে সোনার পদক জিতলে এতদিন ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হত। সেই অর্থ বাড়িয়ে ১ কোটি টাকা করার ঘোষণা করা হয়েছে। রুপোর পদকজয়ীদের পুরস্কার ১৫ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ লক্ষ টাকা এবং ব্রোঞ্জ পদকজয়ীদের জন্য ১০ লক্ষ টাকার পরিবর্তে ৫০ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। চিফ মিনিস্টার্স কৃতি ক্রীড়াবিদ সম্মান যে প্রদান করা হবে, তাতে অবসরপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের মাসিক দশ হাজার টাকা সাম্মানিক দেওয়া হবে। 'যুবশক্তি ভরসা কর্মসূচি'-তে মাসিক ৩০০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। ক্রীড়াবিদদের জন্য পুলিশে চাকরি দেওয়ার সুযোগও তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
একইসঙ্গে 'শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ক্রীড়া সহায়তা তহবিল' গঠন করার কথা জানান তিনি। যে সব ক্লাব বা ক্রীড়া সংস্থা জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে, তাদের সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে এই প্রসঙ্গেই খোঁচা দেন ইন্দ্রনীল। মেসি-কাণ্ডের উল্লেখ করে বলেন, "মেসির নাম করে মেসোকে নিয়ে এসে যে অন্যায় ক্রীড়াপ্রেমীদের সঙ্গে করা হয়েছিল, তা ঠিক হয়নি।"
