ঘোষিত ডুরান্ড কাপের (Durand Cup 2026) 'এ' গ্রুপের বিন্যাস। সেখানে একই গ্রুপে আছে মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, সিআইএসএফ প্রোটেক্টরস এবং সাউথ ইউনাইটেড। অর্থাৎ আসন্ন মরশুমের প্রথম ডার্বি হবে ডুরান্ডেই। কিন্তু নয়া মরশুমের ঘণ্টা বেজে গেলেও সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি ক'জন বিদেশি খেলানো যাবে। সেই নিয়ে বিপাকে মোহনবাগান। সমস্যায় পড়েছে ইস্টবেঙ্গলও।
ডুরান্ড কাপের ১৩৫তম সংস্করণের বল গড়াবে ২৫ জুলাই। প্রতিযোগিতা চলবে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। এবারের আসরে অংশ নেবে ২৪টি দল। যার মধ্যে থাকবে দু’টি বিদেশি দলও। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলি হবে কলকাতা, রাঁচি, গুয়াহাটি, ইম্ফল ও শিলং- এই পাঁচটি শহরে। সেখানে 'এ' গ্রুপে রাখা হয়েছে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলকে। এখনও পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশিত হয়নি। তাই কবে ডার্বি, তা জানা যায়নি। তবে ডুরান্ডেই মরশুমের প্রথম বড় ম্যাচ হবে। গতবার কোয়ার্টার ফাইনালে দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল। সেখানে ইস্টবেঙ্গল জিতেছিল ২-১ গোলে।
ডুরান্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কলকাতায় দু'টি গ্রুপের ম্যাচ হবে। দু'টো কোয়ার্টার ফাইনাল, একটি সেমিফাইনাল ও ২৩ আগস্ট ফাইনাল হবে। মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ছাড়া আছে মহামেডানও। তবে গতবারের ফাইনালিস্ট ডায়মন্ড হারবারের নাম নেই। যুবভারতী ও কিশোরভারতীতে ম্যাচ। বিদেশি দল হিসেবে থাকছে শ্রীলঙ্কা আর্মি।
মোহনবাগান চাইছে জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহেই অনুশীলনে নেমে পড়তে। কিন্তু ফেডারেশন এখনও চূড়ান্ত করেনি আইএসএলে ক'জন বিদেশি খেলানো যাবে। গত মরশুমে ৬ জন বিদেশি দলে নেওয়া যেত। খেলানো যেত ৪ জনকে। এবার কথা চলছে তিনজন বিদেশি প্লেয়ারকে খেলানো যেতে পারে। এছাড়া খেলানো যাবে ওসিআই বা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলারকে। কিন্তু কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। ইতিমধ্যে মোহনবাগান চারজন বিদেশিকে দলে নিয়ে ফেলেছে। পাঞ্জাব এফসি'র সমীর জেলকোভিচকে নিয়েছে। এছাড়া আছেন আলবার্তো রড্রিগেজ, জেমি ম্যাকলারেন ও রবসন রবিনহো। আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে, কিন্তু ফেডারেশন সিদ্ধান্ত না জানানোয় কিছুই চূড়ান্ত করতে পারছে না।
সমস্যা এখানেই শেষ নয়। টেকনিক্যাল কারণে ফেডারেশন থেকে বিদেশিদের ভিসার ক্লিয়ারেন্স আসেনি। কর্তারা চাইছে, দ্রুত বিদেশির বিষয়টি নিষ্পত্তি হোক। সেটা দেখে বাকি সইপর্ব এগোবে। একই পরিস্থিতি ইস্টবেঙ্গলেরও। এর মধ্যে ডুরান্ডের 'এ' গ্রুপের বিন্যাস ঘোষিত হয়ে গিয়েছে। ফলে সমস্যা আরও বেড়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি মোহনবাগান এআইএফএফ-এর কাছে ওসিআই নিয়ে একাধিক প্রস্তাব দিয়েছে। ক্লাবের তরফে বলা হয়েছে, ওসিআই ফুটবলারদের নেওয়া বাধ্যতামূলক না করে ক্লাবগুলোর জন্য ঐচ্ছিক রাখা হোক। পাশাপাশি তাঁদের ডোমেস্টিক ফুটবলার হিসাবে গণ্য করা হলে ক্লাবগুলো আরও বেশি ওসিআই খেলোয়াড় দলে নিতে উৎসাহিত হবে বলেও জানিয়েছে মোহনবাগান। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা বেঁধে দেওয়ার কথাও বলা হয়। ৩৫ বছর বয়সি কোনও ওসিআই ফুটবলারকে না নেওয়ার কথা বলেছে সবুজ-মেরুন।
তাছাড়াও মোহনবাগান স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় ৩০ বছরের কম বয়সি ওসিআই ফুটবলারদের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। যাতে তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভারতীয় পাসপোর্ট পেয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারেন। অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসাবে ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ২৬ বছরের কম বয়সি ওসিআই খেলোয়াড়দের দেশীয় ফুটবলার হিসাবে সই করানোর কথা বলা হয়েছে।
