বিশ্বকাপ শেষ। এবার ক্লাব ফুটবলে মনোযোগের পালা। এই বিশ্বকাপ বা বড় কোনও ফিফার প্রতিযোগিতা হলে ক্লাবগুলি তীক্ষ্ণ নজর রাখে ফুটবলারদের পারফরম্যান্স এবং চোট আঘাতের দিকে। এই ধরনের টুর্নামেন্ট থেকে বড় মাপের অনেক ফুটবলার উঠে আসেন, যারা পরবর্তী সময়ে ক্লাব ফুটবলে বড় তারকা হয়ে ওঠেন। সেজন্যও বিভিন্ন ক্লাবের সমর্থকরা নজর রাখেন এই ফুটবল বিশ্বকাপের দিকে। তবে আরও একটা কারণে ক্লাবগুলির নজর থাকে বিশ্বকাপে। সেটা হল মোটা অঙ্কের রোজগার।
আসলে বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলিতে ফুটবলার ছাড়ার জন্য ফিফা ক্লাবগুলিকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে থাকে। বড় ক্লাবগুলির বিরাট খরচের তুলনায় সেই টাকাটা নগণ্য হলেও ছোটখাটো ক্লাব ওই টাকায় বেশ উপকৃত হয়। আসলে ফুটবলাররা ক্লাবের সঙ্গে সারাবছর চুক্তিবদ্ধ থাকেন। ফলে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললেও তাঁদের ক্লাবের অনুমতি নিতে হয়। সেই অনুমতির জন্য ফিফাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। যাকে ক্লাব বেনিফিট প্রোগ্রাম বলা হয়। ২০২৬ বিশ্বকাপে এই ক্লাব বেনিফিট প্রোগ্রাম বাবদ ফিফার খরচ হয় ৩৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
এই বেনিফিট প্রোগ্রামে সবচেয়ে বেশি টাকা পেয়েছে ইংল্যান্ডের ক্লাব ম্যাঞ্চেস্টার সিটি। সব মিলিয়ে ফুটবলার ছেড়ে মোট প্রায় ৪২ কোটি টাকা আয় করেছে ইংলিশ ক্লাবটি। দ্বিতীয় সর্বাধিক আয় স্পেনের ক্লাব বার্সেলোনার। তারা রোজগার করেছে ৩৭.৬৪ কোটি টাকা। জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের আয় ৩২.৮৩ কোটি। তারা রয়েছে তৃতীয় স্থানে। চতুর্থ স্থানে থাকা আর্সেনালের আয় ৩০ কোটির আশেপাশে। মোটামুটি ভালো আয় করেছে প্যারিস সাঁ জাঁ, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডও।
যদিও এই বড় বড় ক্লাবগুলি প্রতি বছর যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেতন বাবদ খরচ করে, সে তুলনায় ফিফার দেওয়া এই টাকাটা নগণ্য। তবে ইউরোপের সেরা পাঁচ ক্লাবের যে বিরাট বেতন কাঠামো তাতে এই অঙ্কটা সামান্যই। তবে ছোটখাটো অনেক ক্লাবই ফিফার এই ক্লাব বেনিফিটের টাকায় উপকার পায়। এবার বিশ্বকাপেই যেমন ইংল্যান্ডের ষষ্ঠ স্তরের ক্লাব ব্রেইনট্রি টাউন এই তহবিল থেকে অর্থ পেয়েছে।
