কঠিন পরিস্থিতি বললেও কম বলা হয়। দীর্ঘদিন পর ইস্টবেঙ্গল এবার চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে। বাকি পাঁচটি ম্যাচ। এই পাঁচটি ম্যাচই কার্যত একেকটা ফাইনাল ইস্টবেঙ্গলের কাছে। শনিবার সেই পাঁচ ম্যাচের প্রথম ম্যাচে ওড়িশার বিরুদ্ধে নামছেন সল ক্রেসপোরা। এমন পরিস্থিতিতে ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোর সামনে সমস্যার তালিকাটা দীর্ঘ। অনেক জটিল অঙ্ক মিলিয়ে তারপর এগোতে হচ্ছে।
তাঁর প্রথম কঠিন অঙ্কের নাম মিগুয়েল ফিগুয়েরা। দুই ম্যাচ নির্বাসিত হওয়ার পরও লাল-হলুদ ম্যানেজমেন্ট চেষ্টা চালাচ্ছে, অন্তত নির্বাসন এক ম্যাচ কমিয়ে মিগুয়েলকে মুম্বই সিটি ম্যাচ খেলাতে। তবে তার আগে অবশ্যই কাঁটা ওড়িশা এফসি। এই ম্যাচ না জিততে পারলে বাকি সব অঙ্ক জটিল হয়ে পড়বে। এবার ওড়িশা ম্যাচের দল গঠন নিয়েও স্বস্তিতে নেই অস্কার। চোট-আঘাতের তালিকা দেখতে গেলে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে লাল-হলুদ কোচের কপালে। বেশ কয়েকজন ফুটবলারের চোট-আঘাত লেগেই রয়েছে। নাওরেম মহেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার ছিটকে গিয়েছেন বাকি মরশুমের জন্য। এমনকী রশিদ আর আনোয়ারও পুরো সুস্থ নন। কলকাতা ছাড়ার আগে পর্যন্ত লাল-হলুদ কোচ বলে গিয়েছেন, এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকে ওড়িশার বিরুদ্ধে পুরো ম্যাচ খেলাতে পারবেন কি না তা জানেন না তিনি।
তবে আশার আলো একটাই। সোমবার গোয়ায় ঘণ্টাখানেকের অনুশীলনে দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারই পুরো অনুশীলন করেছেন। তবে বাকি চার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দিকে তাকালে এই দু'জনেরই ওড়িশা ম্যাচে পুরো নব্বই মিনিট মাঠে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। আনোয়ার প্রথম একাদশে না থাকলে জিকসন, কেভিন, নুঙ্গা, রাকিপকে দিয়ে রক্ষণ সাজাতে পারেন তিনি। আনোয়ার থাকলে কেভিন, জিকসনের সঙ্গে তিনি থাকবেন। মাঝমাঠে রশিদ, সল অটোমেটিক চয়েস। কিন্তু যদি রশিদ না শুরু করেন তা হলে অন্য ভাবনা লাল-হলুদ কোচের। সে ক্ষেত্রে শুরু করতে পারেন সৌভিক চক্রবর্তী। প্রথম একাদশে আসার সম্ভাবনা এডমুন্ডেরও। সামনে ইউসুফ আর অ্যান্টনকে দিয়েও শুরু করার ভাবনাচিন্তা রয়েছে অস্কারের।
ওড়িশা ম্যাচে নামার আগে ইস্টবেঙ্গল কোচ বলেন, "মরশুমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হতে চলেছে গোয়ার এই ওড়িশা এফসি ম্যাচটা। এই ম্যাচটা জিততে পারলে আমরা ১৮ পয়েন্টে পৌঁছে যাব। একই সঙ্গে বাকি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মুম্বই, পাঞ্জাব আর মোহনবাগান ম্যাচ নির্ধারণ করবে আমরা মরশুমের শেষে কোথায় গিয়ে দাঁড়াব। তবে ওড়িশা ম্যাচটি যথেষ্ট কঠিন আমাদের কাছে। এই ম্যাচটির ফলাফল বলতে পারবে আমরা পরবর্তী সময়ে শীর্ষস্থানের লড়াইয়ে থাকতে পারব কিনা। গত ম্যাচে পিছিয়ে গিয়েও দশজনে খেলে বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ড্র করেছে ইস্টবেঙ্গল। গোয়ার আবহাওয়া নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন ইস্টবেঙ্গল কোচ।
