যন্ত্রণার ইতিহাস। বিরূপ আবহাওয়া। প্রতিপক্ষ সমর্থক।
ভারতীয় সময় সোমবার ভোরে মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজটেকায় বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড (England vs Mexico Match Preview)। এমনিতে এক ঘানা ছাড়া বাকি তিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিশেষ কষ্ট হয়নি কোচ টমাস টুখেলের দলের জিততে। হ্যারি কেন, জুড বেলিংহ্যাম, অ্যান্থনি গর্ডন, ডেকলান রাইসরা বেশ কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছেন। তাছাড়া বিশ্বকাপে দু’দলের একমাত্র সাক্ষাতেও ২-০ জিতেছিল ‘থ্রি লায়ন্স’। তবে স্ব-ভূমে মেক্সিকোর বিশ্বকাপ-পরিসংখ্যানকে আকর্ষণীয় বললেও কম বলা হয়। সবমিলিয়ে শেষ সাত ম্যাচে ভাঙেনি তাদের রক্ষণ। এরমধ্যে এবারের টানা চার ম্যাচের সঙ্গে রয়েছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের তিনটে ম্যাচও।
চার দশক আগে ’৮৬ বিশ্বকাপেই শেষবার কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়েছিল মেক্সিকো। যেখানে পশ্চিম জার্মানির কাছে তারা হারে টাইব্রেকারে, ১২০ মিনিটে খেলা গোলশূন্য থাকার পর। এবারও রাউল জিমেনেজ, জুলিয়ান কুইনোনেস, সিজার মন্টেস, রাউল র্যাঙ্গেলরা রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছেন মেক্সিকোকে। ফলে চার দশক পর ফের শেষ আটে পা রাখা নিয়ে আশাবাদী অন্যতম আয়োজকরা। তবে কোচ জেভিয়ার আগুইরের দলই যে ইংল্যান্ডের একমাত্র প্রতিপক্ষ, এমনটা নয়। আরও তিনটে কাঁটার সঙ্গে টক্কর দিতে হবে টুখেলদের। প্রথমেই উল্লেখ করা হয়েছে সেই ‘ত্রয়ীর’ কথা।
প্রথমত, ইতিহাস। মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজটেকায় খেলা শেষ ম্যাচটা ইংল্যান্ডের কাছে চিরযন্ত্রণার। প্রতি উল্লেখে তা নুনের কাজ করে থ্রি লায়ন্সের ঘায়ে। চল্লিশ বছর আগে এই মাঠই সাক্ষী থেকেছিল দিয়েগো মারাদোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’ আর ‘গোল অফ দ্য সেঞ্চুরির’। আর হেরে বজ্রাহতের মতো মাঠ ছেড়েছিলেন কেন-রাইস-গর্ডনদের পূর্বজ গ্যারি লিনেকাররা, ভাঙা কাপ-স্বপ্ন অন্তরে নিয়ে। চার দশক পর সেই মাঠে পা রাখার আগে যে ইতিহাস নতুন করে যন্ত্রণা দিচ্ছে ইংল্যান্ডকে।
দ্বিতীয়ত, বিরূপ আবহাওয়া। স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ম্যাচ হওয়ার কথা। গত কয়েকদিন ধরে ঠিক যে সময়টা শহরে ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ। যে কারণে ফিফার তরফে ম্যাচটা সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা এগিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে পত্রপাঠ তা বাতিল করেছে দুই পক্ষ। ফলে সময় পরিবর্তন না হলেও সূচি মেনে ম্যাচ শুরু হওয়া নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন রয়েছে। শেষ বত্রিশে মেক্সিকো-ইকুয়েডর ম্যাচে যেমন ঘণ্টা খানেক দেরি হয়েছে। তাছাড়া এবার চারটে ম্যাচই মার্কিন মুলুকে বিভিন্ন শহরে খেলেছে ইংল্যান্ড। তাদের থেকে আজটেকা অনেকটাই উঁচু। ফলে মাঠে অক্সিজেনের অভাবের সঙ্গেও লড়তে হবে কেনদের। যা নিয়ে আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কোচ টুখেল।
তৃতীয়ত, প্রতিপক্ষ সমর্থক। এমনিতে মেক্সিকানরা অতিথিবৎসল। সে দেশে বেস ক্যাম্প করা ইরানকে যেমন বেশ আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু প্রতিপক্ষের প্রতি ততটাই নির্মম। যা টের পেয়েছে ইকুয়েডর। ম্যাচের আগে সারা রাত লাতিন দেশটির টিম হোটেলের বাইরে চড়া লাউডস্পিকার, মোটরবাইকের হর্ন আর শব্দবাজি নিয়ে রীতিমতো ‘উৎসব’ করেছে মেক্সিকান জনতা। যাতে নষ্ট হয়েছে ফুটবলারদের ঘুম। গ্রুপ পর্বে জার্মানিকে হারানো মোজেস কাইসেদোদের বেশ সাদামাটা দেখিয়েছে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে। মাঠে নামার আগে টুখেলের দলকেও সেই ‘নরকযন্ত্রণা’ দেওয়ার নকশা তৈরি করা হয়েছে। ইংল্যান্ড টিম ম্যানেজমেন্ট নিজেদের হোটেল সংক্রান্ত তথ্য গোপন করা চেষ্টা করেছিল বটে। তবে যা খবর, ছক ব্যর্থ করে ফাঁস হয়েছে হোটেলের নাম। তাই ফুটবলারদের ঘুম নিশ্চিত করতে ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে তারা।
অবশ্য মেক্সিকোর মাঠে টুখেলদের সেই পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হবে, তা অবশ্য স্পষ্ট হয়ে যাবে ম্যাচেই।
