কথায় বলে, তোমারে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে। আজ সেই প্রবাদ কি খেটে যাবে বিশ্বকাপে? বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। প্রথম ম্যাচে ফ্রান্স বনাম মরক্কো যুযুধান। সেই ম্যাচের আগে ফুটবলমহলে চর্চা চলছে, দুরন্ত ফর্মে থাকা কিলিয়ান এমবাপেদের কি আটকে দেবেন ফরাসিরাই? 'ভূমিপুত্র' কাঁটায় বিদ্ধ হবেন দিদিয়ের দেশঁর ছাত্ররা?
ফ্রান্স বনাম মরক্কো। ফুটবলের বাইরেও বিরাট ইতিহাস রয়েছে দুই দেশের। মরক্কো দখলের প্রবল ইচ্ছা ছিল ফ্রান্সের। ১৯১২ সালে ফ্রেস চুক্তির মাধ্যমে ফরাসি উপনিবেশে পরিণত হয় মরক্কো। স্বভাবতই সেটা মেনে নেননি আফ্রিকান দেশের আমজনতা। ফরাসি শাসকদের বিরুদ্ধে মরোক্কানদের একের পর এক বিদ্রোহ-সংগ্রাম হলেও তা বারবার দমন করেছে ঔপনিবেশিক শক্তি। যদিও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ছবিটা ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ১৯৫৬ সালে মরক্কো স্বাধীন হয়।
তবে ঔপনিবেশিক অতীতের তিক্ততা আজ আর নেই দুই দেশের মধ্যে। মরক্কোতে বসবাস করেন বহু ফরাসি, কথা বলেন ফরাসিতেই। আর সেটাই কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে এমবাপেদের। কারণ মরক্কোর স্কোয়াডে রয়েছেন এমন ৬ ফুটবলার, যাঁদের জন্ম ফ্রান্সে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ইসা দিয়োপ। মা মরোক্কান, বাবা সেনেগালিজ ইসার জন্ম ফ্রান্সে। কিন্তু মরক্কোর জার্সি বেছে নিয়েছেন। রাউন্ড অফ ৩২তে সংযুক্ত সময়ে তাঁর গোলটা না হলে বিশ্বকাপই শেষ হয়ে যেত মরক্কোর। উল্লেখ্য, ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেছেন এমন ৯৯ জন ফুটবলার খেলেছেন এবারের বিশ্বকাপে।
এছাড়াও রয়েছেন আয়ুব বোয়াদ্দি, নিল এল আয়নাউই, রিদাউনে হলহল সমীর এল মৌরাবেতের মতো তারকারা। মরক্কোর মাঝমাঠ আগলে রাখেন এই ফরাসি ফুটবলাররা। চলতি বিশ্বকাপে প্রত্যেকেই মাঠে নেমেছেন, দলের হয়ে অবদান রেখেছেন। রয়েছেন তরুণ তুর্কি জেসিমে ইয়াসিন। বিশ্বকাপের কনিষ্ঠতম মরোক্কান হিসাবে গোল করার নজির গড়ে ফেলেছেন। বড় মঞ্চে জ্বলে ওঠার মশলাও রয়েছে। এই ফরাসি ষড়ভুজে কি আটকে যাবেন দেম্বেলেরা? ম্যাচের ফলাফল যাই হোক না কেন, মরক্কো বনাম ফ্রান্স যে চলতি বিশ্বকাপের সেরা দ্বৈরথগুলির মধ্যে জায়গা করে নেবে, একথা সকলেই মানছেন।
